1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সরকার দাবি মানায় অনশন ভাঙলেন হাজারে

ভারত থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার ব্রত নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন ধরে অনশন করলেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে৷ অনেক দর কষাকষির পর সরকার শেষ পর্যন্ত জনমতের চাপে তাঁর সব দাবি মেনে নিতে বাধ্য হলো৷

default

বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন আন্না হাজারে

স্বাধীনতার পর ভারত এমন অভূতপূর্ব গণআন্দোলন দেখে নি৷ একদিকে নাগরিক ও সুশীল সমাজ – অন্যদিকে দলীয় রাজনীতির প্রতিনিধিরা৷ কার্যকরভাবে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে ১৯৬৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার সংসদে যে সব আইনের খসড়া পেশ করেছে, প্রায় সব দলই তা কোনো না কোনো ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে৷ আজ বিপুল অর্থনৈতিক উন্নতি সত্ত্বেও একের পর এক বিশাল মাপের কেলেঙ্কারি যখন দেশকে গ্রাস করে চলেছে, তখনই আন্না হাজারেকে সামনে রেখে দেশের মানুষ দাবি তুলেছেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়৷ দুর্নীতি নির্মূল করার সময় এসে গেছে৷'

Anna Hazare

ভারত থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার ব্রত নিয়েছেন আন্না হাজারে

কী চাইছেন আন্না হাজারের নেতৃত্বে নাগরিক সমাজের মানুষ? আন্না হাজারে এক কড়া লোকপাল বিলের খসড়া পেশ করেছেন৷ তবে সেই বিল যে হুবহু আইনে পরিণত করতে হবে, এমন কথা কেউ বলছে না৷ এই আইনের খসড়া তৈরির জন্য এমন এক কমিটি গঠনের দাবি রাখা হয়েছিল সরকারের কাছে, যাতে ৫০ শতাংশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বাকি ৫০ শতাংশ সরকারের প্রতিনিধি থাকবেন৷ গোটা প্রক্রিয়াকে আইনি বৈধতা দিতে সরকারকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে – এমন দাবিও করেছিলেন হাজারে৷ সরকার প্রথমে হাজারের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তিনি ১২ এপ্রিল ভারত জুড়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণের ডাক দেন৷ অনেক দর কষাকষির পর সরকার সব দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে৷ সরকারকে প্যাঁচে ফেলতে বিরোধী দলগুলি যাতে বিষয়টি থেকে ফায়দা তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকেই কাছে ঘেঁষতে দেন নি আন্না হাজারে ও তাঁর অনুগামীরা৷ দুর্নীতির প্রশ্নে তাঁদের হাতও যে কলুষিত, তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

আন্না হাজারের তৈরি লোকপাল বিলের বর্তমান খসড়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷ তবে সরকার ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের এড়িয়ে নাগরিক সমাজের অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ সমালোচকদের মতে, এর ফলে গণতান্ত্রিক কাঠামোর বৈধতা কমে যাবে৷ নেতা ও আমলাদের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ করা থেকে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার কার্যকর ও বাস্তব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই হবে কমিটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে আইনের খসড়া একবার প্রস্তুত হয়ে গেলে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই এবার তার বিরোধিতা করা যে কঠিন হয়ে উঠবে, এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ জনমতের অভূতপূর্ব চাপ তাদের মুখোশ খুলতে বাধ্য করবে – এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষেকরা৷ আন্না হাজারে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ১৫ই অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে সরকার লোকপাল আইন প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হলে শুরু হবে নতুন আন্দোলন৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়