1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সরকার আদালতে যেতে পারতো’

‘অধিকার’-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে দ্রুত গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেয়াকে সরকারের কোনো কোনো নীতি নির্ধারকের ‘হাইপারঅ্যাক্টিভ’ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷ এ কারণেই সরকারকে শেষ পর্যন্ত বেকায়দায় পড়তে হয়৷

বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদিলুর রহমানের মুক্তি দাবি করেছেন৷ তিনি বলেছেন, যারা সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ করে, তাদেরই কারাগারে পাঠানো হয়৷ বর্তমান সরকারই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার যে তথ্য আদিলুর রহমানের কাছে চায়, তার জন্য তাঁকে গ্রেফতারের প্রয়োজন ছিলনা৷ অধিকার ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে নাম প্রকাশ করেছে৷ সরকার তাঁদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা চেয়ে অধিকারের কাছ থেকে পায়নি৷

সরকার সহজেই আদালতে যেতে পারতো৷ এবং আদালতেই তখন আদিলুর রহমান খান পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জমা দিতে বাধ্য হতেন৷ আর সরকার আদালতে আবেদন জানিয়ে সেই তথ্য নিতেও পারত৷ অথবা আদালত নিজেও তা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারতেন৷ সরকারের দাবি সঠিক না অধিকারের – তা জানা যেত৷ যদি অধিকারের তথ্য অসত্য হতো, তাহলে আদালতই ব্যবস্থা নিতেন৷ কিন্তু তা না করে পুলিশ তাকে দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়৷ হাইকোর্ট রিমান্ড বাতিল করায় প্রমাণ হলো সরকারের পদক্ষেপ সঠিক ছিলনা৷''

অধ্যাপক হাফিজুর রহমান আরও বলেন, সরকারের কিছু হাইপারঅ্যাক্টিভ নীতি নির্ধারকদের কারণে এ রকম হয়৷ যদি আদিলুর রহমানকে গ্রেফতার না করে আদালতে যাওয়া হত তাহলে হয়তো ৬ই মে কত জন নিহত হয়েছে সেই বিতর্কের অবসান ঘটতো৷ কিন্তু সেই বিতর্ক এখন থেকেই যাবে৷

আইন ও সালিস কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘কোনো মানবাধিকার সংগঠন যদি অসত্য অথবা বিকৃত তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে, তার বিরুদ্ধে সরকার কেন যে কোনো ব্যক্তির আইনত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে৷ সরকার যদি মনে করে অধিকার হেফাজতের ঘটনায় অসত্য তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেছে, তাহলে তা সরকারকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে৷ সরকার তা না করে আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷''

তিনি আরও বলেন, ‘‘কোনো দলের হয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠনের কাজ না৷ কিন্তু সরকার যদি দাবি করে কোনো মানবাধিকার সংগঠন দলীয়, তাহলে সরকারকেই তা প্রমাণ করতে হবে৷ গ্রেফতার বা রিমান্ডে নিয়ে তা করা যাবেনা৷ কেউ যেমন আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তেমনি সরকারকে আইনের আওতায় সমাধান চাইতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়