1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সরকারের সাথে সাথে ইতিহাস পরিবর্তন’

সম্প্রতি দেশের ইতিহাস নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে সবখানে৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, যেমন ব্লগ এবং ফেসবুকে প্রতিদিন উঠে আসছে এ বিষয়গুলো৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে মোহাম্মদ আসাদ আলী লিখেছেন, ‘‘স্বাধীনতার পর ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও কার কী অবদান তা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জট কিছুতেই খুলছে না৷ বরং দিন দিনই তা নতুন নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করছে৷ এর পেছনে মূল কারণটি হলো- আমাদের দেশের সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বাধীনতার ইতিহাসও পরিবর্তিত হয়ে যায়৷ যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সে সরকার কোমলমতি শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে তাদের মতো করে ইতিহাস প্রবেশ করায়৷ আর রাজনীতির ময়দানে তো কথাই নেই৷ একে অন্যের প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, অসম্মানজনক কথা বলতে কোনো রকম তোয়াক্কাই করা হয় না৷''

আসাদ আরো লিখেছেন, ‘‘ইতিহাসের যে ক্ষুদ্র সময়টিকে নিয়ে আমরা এত তোড়জোর করছি স্বাভাবিকভাবেই সেই ইতিহাসটুকও আর নিখাদ রইলো না৷ সে ইতিহাসকে আমাদের রাজনীতিকরা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করে নতুন নতুন মোড়কে জাতির সম্মুখে উপস্থাপন করে চলেছেন৷ ইতিহাসশূন্য এবং বিতর্কে ভরা ইতিহাসের উপর নির্ভর করা জাতি এভাবে কতদিন চলতে পারে? যে জাতির ইতিহাসের কোনো ঠিক নেই সে জাতি কী অবলম্বন করে সামনে এগোবে?''

তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান সর্বপ্রথম বিতর্কের সূচনা করেছেন – ‘জিয়াউর রহমানই দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি' ও ‘স্বাধীনতার ঘোষক'৷ এ নিয়ে গরম হওয়া মাঠ ঠাণ্ডা হওয়ার আগেই আবারো ‘বঙ্গবন্ধু দেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী' বলে আরো গরম করে তুললেন তিনি৷ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও তারেক রহমানের এরূপ প্রতিটি মন্তব্যের সমর্থনপূর্বক মন্তব্য করতে থাকেন৷ ফলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও সমর্থকদের মুখ ছুটতেও দেরি হয়নি৷ তারেক রহমানের ইতিহাস নিয়ে সম্পূর্ণ নুতন সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে ইতোমধ্যেই তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সরকারপক্ষের রাজনীতিবিদগণ৷ চুলাচুলি, গোলাপি-গোপালি আখ্যা, ট্রেন, শাড়ি-ব্লাউজ, প্রথম রাষ্ট্রপতি ও অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পর শেষ পর্যন্ত রাজনীতি ঠেকেছে জন্ম পরিচয়ে৷ এই যে বিতর্ক ও প্রহসনগুলো হচ্ছে তা কিন্তু দেশের সাধারণ অশিক্ষিত, অজ্ঞদের দ্বারা হচ্ছে না, হচ্ছে তাদের দ্বারাই যারা ১৬ কোটি বাঙালির ভাগ্য গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন৷''

তারপর আসাদ লিখেছেন, ‘‘শুধু ইতিহাসই নয়, যে কোনো বিষয় নিয়েই মতভেদের কোনো সুযোগ থাকত না যদি আমাদের শক্তিশালী একটি প্লাটফর্ম থাকতো, যা আমাদের সবার উপরে অভিভাবকের ভূমিকায় আসীন হয়ে যা খুশি বলা, যা খুশি করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, আমাদের গণতন্ত্রে তার কোনো ব্যবস্থা নেই, যার মাশুল দিতে হচ্ছে ১৬ কোটি মানুষকেই৷''

একই ব্লগে সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে শুরু করে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে দেশের রাজনীতিতে৷ বাসে আগুন, মানুষ হত্যা একের পর এক হরতাল-অবরোধ খুন-জখম কোনো কিছুই বাদ নেই৷ রাস্তায় রাস্তায় পুলিশি তল্লাশি দেখে মনে হচ্ছে একাত্তরের কোনো চলচ্চিত্র দেখছি৷ কিংবা ৯০-এর স্বৈরাচার শাসন পুনরায় ফিরে এসেছে৷ বুকের ভেতর কে যেন প্রতিনিয়ত বলে চলে, উঠে দাঁড়াও, প্রতিবাদ করো, রুখে দাঁড়াও৷''

‘‘নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের উপর যে নির্যাতন নিয়ে যা হচ্ছে তাতে প্রতিবাদ না করে পারলাম না৷ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানরাও এ দেশের নাগরিক৷ স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ভারতের নানান নির্যাতনের শিকার৷ সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যা, নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরু ভূমিতে পরিণত করা, চিকিৎসা বা ব্যবসার জন্য ভারতে যাওয়া যাত্রীদের হয়রানি করা, যা কিছু করা সম্ভব ভারত করছে ৷’’

তিনি প্রশ্ন রেখেছেন ‘‘বাংলাদেশের মানুষসহ সারা বিশ্ব ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করেছে৷ করেনি শুধু ভারত৷ তিস্তার পানি না দিলেও জনগনবিহীন নির্বাচনে সমর্থণ দিয়েছে ঠিকই৷ কিন্তু সেটি কেন?''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়