1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায় রাজধানীর বিলবোর্ড দখল

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডগুলো ছেয়ে গেছে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায়৷ তাতে ঢাকা পড়ে গেছে দেশি-বিদেশি নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপন৷ বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো কোটি কোটি টাকা ক্ষতির কথা বলছে৷

রাজধানী ঢাকায় কম-বেশি ২ হাজার বিলবোর্ড আছে৷ আধুনিক এসব বিলবোর্ডে আছে নিয়ন আলোর ব্যবস্থা৷ আবার কোনোটি থ্রিডি ডিজিটাল বিলবোর্ড৷ কিন্তু এখন আর এর কোনোটিতেই কোন বাণিজ্যিক পণ্যের বিজ্ঞাপন চোখে পড়েনা৷ গত এক সপ্তাহে সব বিলবোর্ড দখল হয়ে গেছে৷ সেখানে শোভা পাচ্ছে মহাজোট সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরের উন্নয়ন প্রচারণা৷ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, অর্থনীতি, গণমাধ্যম, দারিদ্র্য দূরীকরণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার কী উন্নয়ন করেছে, তার ফিরিস্তি আছে৷ আর আছে উন্নয়ন ধরে রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান৷ এসব বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও শোভা পাচ্ছে৷

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আখতার হোসেন ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, রাজধানীতে দুই হাজারের মত বিলবোর্ড আছে তাদের মালিকানাধীন৷ এসব বিলবোর্ড তারা ভাড়া দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থাকে৷ তারা আবার ভাড়া দেয় বিভিন্ন পণ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য৷ কিন্তু সে সব বিলবোর্ডে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা কীভাবে ঠাঁই পেল, তা তাদের জানা নেই৷ আর তাদের কাছে কেউ এ নিয়ে অভিযোগও করেননি৷

Bangladesch Dhaka Plakate

বিলবোর্ড ছেয়ে গেছে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণায়

তবে বিল বোর্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ জানান, তাদের বিলবোর্ডগুলো গায়ের জোরে দখল করা হয়েছে৷ এতে তারা কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন৷ তাতে এখন সরকারি উন্নয়নের প্রচারণা থাকায় তারা তা সরাতেও সাহস পাচ্ছেন না৷ কিন্তু এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন ইউনিলিভার এবং গ্রামীণ ফোনের মত প্রতিষ্ঠান৷ এ সব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিজ্ঞাপনই শোভা পেত এ সব বিলবোর্ডে৷

জানা গেছে, বিলবোর্ড দখল হওয়ায় এই প্রচারণায় কোন ভাড়া দেয়া হয়নি৷ তবে প্রতিটি বিলবোর্ডের ডিজিটাল ব্যানার তৈরি এবং তা স্থাপনের খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা৷ এই তথ্য জানান ডিজিটাল ব্যানার তৈরির প্রতিষ্ঠান কার্নিভাল-এর মালিক শামসুর রহমান৷ আর সেই হিসেবে ২,০০০ বিলবোর্ডে ব্যানার লাগাতে খরচ হয়েছে ১০ কোটি টাকা৷

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ জানান, এটা আওয়ামী লীগের কোন প্রচারণা নয়, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারণা৷ আওয়ামী লীগের প্রচার সেল এর সঙ্গে জড়িত নয়৷ আর সরকার এই প্রচারণা চালিয়েছে কিনা, তা তাঁর জানা নেই৷ প্রচারণায় যে অর্থ খরচ হয়েছে তার উত্‍স জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারা এ সব বিলবোর্ড লাগিয়েছে জানা গেলে খরচের উত্‍স জানা যেত৷

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী ডয়চে ভেলেকে বলেন, সরকার এই প্রচারণায় যে টাকা খরচ করেছে, তার উত্‍স জানাতে হবে৷ অবৈধভাবে বিলবোর্ড দখল কেন করা হল তার জবাব দিতে হবে, দিতে হবে ক্ষতিপূরণ৷ তবে তিনি মনে করেন, এ সব উন্নয়ন প্রচারণায় অসত্য তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে৷ এই প্রচারণায় কোন কাজ হবেনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়