1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সরকারি মালিকানা হলে ধ্বংসের পথে যাবে গ্রামীণ ব্যাংক

গ্রামীণ ব্যাংক সরকারের মালিকানায় নেয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করা হবে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম৷ তিনি মনে করেন সরকার এসব করছে রাজনৈতিক কারণে৷

গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন মনে করে ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় নেয়া প্রয়োজন৷ তাই তাদের রিপোর্টে ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ৫১ ভাগে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে৷ বর্তমানে এই ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ৫ ভাগ৷ যুক্তি হিসেবে কমিশন বলছে কোম্পানি আইন অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারীদের নিয়ে বছরে একবার বার্ষিক সাধারণ সভা করা বাধ্যতামূলক৷ ব্যাংকের বর্তমানে নির্বাচিত ৫ লাখ ৪০ হাজার শেয়ারধারীকে নিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা অকল্পনীয় এবং ব্যয়সাপেক্ষ৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকটি সরকারের কব্জায় চলে যাবে৷ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা এতদিন যারা ব্যাংকের মালিক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন তারা আর মালিক থাকবেন না৷ তিনি বলেন বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানই অলাভজনক এবং ভর্তুকি নির্ভর৷ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারি এবং দক্ষতার চরম অভাব লক্ষ্য করা যায়৷

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো লোকসান গুনছে৷ সেখানে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কথা সবার জানা৷ আর সেখানে আছে দলাদলি৷ তাই গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি সফল প্রতিষ্ঠানকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হলে ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে যাবে৷ তাঁর আশা, কমিশন যাই সুপারিশ করুকনা কেন সরকার ব্যাংক, ক্ষুদ্র আমানতকারী এবং ঋণগ্রহীতাদের কথা চিন্তা করে আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেনা৷

কমিশনের সুপারিশে গ্রামীণ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেবল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে৷ এর মানে হলো তারা স্থানীয় পর্যায়ে সব সিদ্ধান্ত নেবে৷ লাভ লোকসানের দায়ও থাকবে স্থানীয় শাখার উপর৷ আর স্থানীয় পর্যায়ে নতুন সংগঠন নিবন্ধনও করা যাবে৷ এই সুপারিশে মূলত গ্রামীণ ব্যাংকের মূল কাঠামোই ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে৷

এ প্রসঙ্গে ড. ইসলাম বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান কাঠামোতে কোনো ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেনি কমিশন৷ আর প্রচলিত কাঠামোতেই ব্যাংক ভালোভাবে চলছে৷ তাই নতুন ধরণের কাঠামোর কথা বলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷ তিনি বলেন সুপারিশে পল্লি বিদ্যুত সমিতির মতো স্থানীয় পর্যায়ে যে সমিতি গঠন করার কথা বলা হয়েছে তা আর্থিক খাতে কার্যকর নয়৷ আর পল্লি বিদ্যুত সমিতি হলো গ্রাহকদের সমিতি৷ তারা নিয়ন্ত্রক নয়৷ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই প্রতিষ্ঠান চলে৷ তাই গ্রামীণ ব্যাংককে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন সত্ত্বায় ভাগ করার যে সুপারিশ তা গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবেনা৷

ড. ইসলাম মনে করেন গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন সরকারের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে সুপারিশ করেছে৷ আর এইসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ৮৪ লাখ গ্রাহকের এই ব্যাংক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে৷ মনে রাখতে হবে গ্রাহকদের প্রায় সবাই দরিদ্র নারী৷ এই জনগোষ্ঠীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া সরকারের উচিত হবেনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন