1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সরকারকে ইইউ-র আহ্বান, ‘সন্ত্রাসের চক্র ভেঙে দিন’

ভিন্ন মত ও ধর্মের অনুসারী এবং মুক্তমনাদের হত্যার অবসান চায় ইইউ৷ এ লক্ষ্যে সরকারের প্রতি হত্যা, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসের চক্রটি ভেঙ্গে দেয়ার আহ্বান জনিয়ে তারা বলেছে, এসব হামলায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হবে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সাত দেশের রাষ্ট্রদূতেরা রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে এসব কথা বলেন৷ পরে এক বিবৃতিতে এ সাক্ষাতের কথা জানিয়ে তাদের অবস্থানও তুলে ধরে ইইউ৷

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা চলাকালে ঢাকায় মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় খুন হওয়ার পর ধারাবাহিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও কয়েকজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট৷ হত্যা করা হয়েছে প্রকাশক, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মগুরু, সমকামী অধিকারকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ভিন্ন মতের ইসলামি ভাবধারা অনুসারীদের ৷

সর্বশেষ গত শুক্রবার কুষ্টিয়ায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে হোমিও চিকিত্‍সক মীর সানাউর রহমানকে৷ পরোপকারী এ চিকিৎসক সাধারণ মানুষকে ‘ফি' না নিয়ে চিকিত্‍সা সেবা দিতেন৷ এরই মধ্যে তথাকথিত সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস চিকিৎসক হত্যারও দায় স্বীকার করেছে৷

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে একই কায়দায় সানাউর রহমানসহ ১৪ জনকে হত্যা করা হলো৷

এ সব হামলার অনেকগুলোতে ‘দায়' স্বীকার করে তথাকথিত আইএস ও আল-কায়েদার নামে বার্তা পাঠানো হলেও সরকার মনে করে, দেশের ভেতরের জঙ্গিরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে৷

রবিবারের বিবৃতিতে ইইউ বলেছে, ‘‘এ সব হামলা মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের প্রতি 'নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করেছে৷ মুক্ত, সহনশীল, স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, এসব ঘটনায় তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে৷''

এ সব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে এবং 'ঝুঁকিতে' থাকা সব নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ‘সহিংসতার এই চক্র' ভেঙে দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইইউ৷

অডিও শুনুন 03:01

‘অভ্যনন্তরীণ ব্যাপারে বিদেশিদের চাপ এবং দেশে বিরুদ্ধ মতকে দমনের প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়’

ইইউ বলেছে, ‘‘জঙ্গিবাদ মোকাবেলার জন্য কার্যকর ও ব্যাপক প্রস্তুতি দরকার এবং এ জন্য গণতান্ত্রিক দায়িত্বশীলতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শক্তিশালী মিডিয়া, সহনশীল সুশীল সমাজের প্রয়োজন৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকা দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা জোরালো করতে চায়৷''

সহিংস চরমপন্থা দমনে বৃহত্তর কর্মসূচির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি:

এদিকে রবিবারের বৈঠকের ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও তার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউরোপীয় মিশনগুলোর প্রধানদের অবহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী৷''

তিনি দাবি করেছেন, ‘‘এ সব হত্যাকাণ্ডে জামায়াতে ইসলামী ও এর সংশিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী জড়িত৷''

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, ‘‘বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং সরকারকে সমস্যায় ফেলতে এ সব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে৷ প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামী এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন জামাআ'তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি), আনসার আল-ইসলাম, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম (হুজি-বি), হিজবুত তাহরির বাংলাদেশ এবং নতুন আবির্ভূত আল-মুজাহিদ নামের কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন এ সব হত্যাকাণ্ডে জড়িত৷''

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘বিএনপি দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের) সহযোগিতা করছে৷ ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার যে আহ্বান জানানো হয় তাতেও দলটি কান দেয়নি৷''

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার যা-ই বলুক না কেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা তদন্তকারীরা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এখনো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি৷ একটি ঘটনা ছাড়া অন্য কোনো ঘটনা তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই৷ এটা হতাশাজন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অভ্যনন্তরীণ ব্যাপারে বিদেশিদের চাপ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি বাংলাদেশে বিরুদ্ধ মতকে দমনের যে প্রবণতা তা-ও গ্রহণযোগ্য নয়৷ সরকারকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিকদের জীবনের নিরপত্তা দিতে হবে৷ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের এটাই প্রধান বৈশিষ্ট্য৷''

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়