1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সম ও উভকামিতা: ‘মার্গারিটা, উইথ আ স্ট্র’

ভারতে সমকামিতা এখন অবৈধ৷ কারণ গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতা বৈধ আইনের বিপক্ষে রায় দেয়৷ চলচ্চিত্র পরিচালক সোনালি বোস এবার ‘মার্গারিটা, উইথ আ স্ট্র’ ছবিতে তুলে ধরেছেন উভকামিতা বা বাইসেক্সুয়ালিটি৷

সমকামিতা সাধারণত ভারতীয় নাগরিক সমাজ ও সরকারের কাছে একটি নিষিদ্ধ বিষয়৷ ভারতে সমকামিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনার সুযোগ কম৷ যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সমকামিতার প্রতি ভারতীয়দের মনোভাবে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ বিশেষত, ভারতের সংবাদমাধ্যম এবং বলিউডেও সমকামিতার প্রদর্শন ও আলোচনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷

সোনালি বোসের বিশ্বাস, তাঁর পরিচালিত নতুন ছবি ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র' ভারতীয় সমাজের চিরায়ত মনোভাবে কিছুটা প্রভাব ফেলবে৷ চলচ্চিত্রটিতে সমকামিতা ও উভকামিতা বিষয়টি ভালোভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে৷

সেপ্টেম্বর মাসে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে এই মুভিটি প্রদর্শন হয়৷ ছবিটির কাহিনি ‘সেরিব্রাল পলসি'-তে আক্রান্ত এক কিশোরীর গল্প নিয়ে৷ মেয়েটি তার নিজের যৌনতার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধান্বিত৷ এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পরিবারের একটি মেয়ের ক্ষেত্রে যা হয়, সেটাই পরিচালক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন৷

Pride March in Indien 2009

সমকামিতা সাধারণত ভারতীয় নাগরিক সমাজ ও সরকারের কাছে একটি নিষিদ্ধ বিষয়

পরিচালক সোনালি বোস যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং নিজেকে ‘বাইসেক্সুয়াল' বা উভকামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি জানান, এই মুভি পরিকল্পনার কাজটি তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে৷ এসেছে নিজের ‘সেক্সুয়ালিটি'-র প্রসঙ্গ এবং তাঁর এক আত্মীয়ের কথা, যাঁর সেরিব্রাল পলসি আছে৷

৪৯ বছরের সোনালি বিশ্বাস করেন, তাঁর মুভিতে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যা ৩৭৭ ধারা নিয়ে বিতর্ককে উসকে দেবে৷ সুপ্রিম কোর্টের সমকামিতাবিরোধী রায়ে বলা হয়েছে যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা নীতির পরিপন্থি৷

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সোনালি জানান, তিনি জানেন যে মুভিটি মুক্তির পর কট্টরপন্থিদের রোষের মুখে পড়বেন৷ তবে মানুষ যখন ছবিটি দেখবে, আলোচনা করবে এবং তাঁকে প্রশ্ন করবে – তার জন্য প্রস্তুত তো বটেই, উৎসুকও তিনি৷

‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র' ছবিতে দেখানো হয়েছে লায়লা নামের একটি মেয়েকে, যে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হয়েও অন্য এক নারীর প্রেমে পড়ে৷ তার প্রেমে পড়ার ঘটনাটিকে নানা দিক থেকে ছবিতে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন সোনালি৷

সোনালি এই মুভির চিত্রনাট্য নিয়ে গত দুই বছর চিন্তা-ভাবনা করেছেন৷ তিনি জানান, ‘‘ছবিতে মেয়েটির মা লায়লার সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন – এমনটা দেখানো হয়েছে৷ টরন্টো ফেস্টিভালে সিনেমাটি দেখার পর অনেক ভারতীয় আমার কাছে এসে ছবিটির প্রশংসা করেছেন৷ আমি জানি তাদের চিন্তায় এটা আঘাত করতে পেরেছে৷''

আগামী বছরের প্রথমেই ভারতে মুক্তি পাবে ছবিটি৷ সোনালি জানান, এর আগে সমকামিতা নিয়ে যেসব বা যে ধরণের চলচ্চিত্র ভারতে মুক্তি পেয়েছে, তার সবগুলোই রোষের মুখে পড়েছে, বিক্ষোভ হয়েছে এবং পরে সেগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

ছবিটিতে লায়লার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কালকি কোচলিন৷ তিনি বলেন, ‘‘ছবিটিতে সমকামিতা নয় বরং বাইসেক্সুয়ালিটি বা উভকামিতা দেখানো হয়েছে৷ এখন এ নিয়ে কোনো বিক্ষোভ হবে কিনা, তা আমার জানা নেই৷ তবে এ নিয়ে কারো যদি প্রশ্ন থাকে তবে আমরা তাঁদের সাথে কথা বলতে আগ্রহী৷''

পরিচালক জানান, মুভিটি করার জন্য কারো সহায়তা পাননি তিনি৷ তাই ব্যাংক ঋণ নিয়ে নিজের পকেট খালি করে সিনেমাটি বানিয়েছেন৷ তবে এর জন্য কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর৷ তিনি এখন ভারতে মুভিটি মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন৷ ''

এপিবি/ডিজি (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন