1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

সম্ভাবনার মৃত্যু রুখতে বন্ধ হোক শিশুশ্রম

বাংলাদেশে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাজে নিয়োগ দেয়া আইনত নিষিদ্ধ৷ তবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছে না৷ ফলে কমছে না শিশুশ্রম, যা শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর৷

গত জুনে ঢাকায় এক পথশিশুর সঙ্গে দেখা হয়৷ সংসদ ভবনের সামনের সড়কে বড় বড় গাড়ি যখন ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ায় তখন সে সেসব গাড়ির দরজার কাছে গিয়ে ভিক্ষা চায়, বয়স হয়ত দু'বছরও হবে না তার৷ আমি দেখে আঁতকে উঠেছিলাম৷ এত ছোট্ট বাচ্চাকে তো গাড়ির চালকদের পক্ষে দেখা সহজ নয়৷ যে কোনো মুহূর্তে গাড়ি চলতে শুরু করলে সে হয়ত পড়তে পারে কোনো দুর্ঘটনায়৷ তখন কী হবে!

বিদেশে কয়েক বছর থাকায় হয়ত হঠাৎ করে এমন দৃশ্য আমার কাছে অস্বাভাবিক, আতঙ্কের মনে হয়েছে৷ কিন্তু মেয়েটির মাকে দেখেছি নির্বিকার বসে থাকতে পাশের ফুটপাতে৷ প্রতিবার সিগন্যালে গাড়ি থামার পর ভিক্ষা করতে রাস্তায় নামে মেয়েটা, আবার গাড়ি চলতে শুরু করলে ফিরে যায় মায়ের কাছে৷ রুটিন কাজ৷ কিন্তু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ৷

সাতচল্লিশ লাখ শিশু শ্রমিক

বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের অংশগ্রহণ কম নয়৷ ইউনিসেফ-এর হিসেবে দেশটিতে পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সি শ্রমিকের সংখ্যা অন্তত ৪৭ লাখ৷ এদের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত৷ আমার দেখা শিশুটি সম্ভবত এই হিসেবের বাইরে৷ তার বয়স কোনোভাবেই পাঁচ নয়৷ আর ভিক্ষাবৃত্তি কোনো পেশা নয়৷ ফলে ইউনিসেফ-এর হিসেবের বাইরেও আরো অনেক শিশু আছে যারা ভিক্ষা করছে, অথবা কাজ করছে৷ প্রকৃত সংখ্যাটা তাই আরো অনেক বেশি মনে করি আমি৷

শিশুশ্রম কি প্রয়োজন?

বাংলাদেশের বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে অনেকে হয়ত বলবেন, শিশুশ্রম থাকা উচিত৷ কেননা এ সব শিশু টিকে আছে পরিশ্রম করে৷ কাজ না করলে তাদের খাওয়াবে কে? দেখবে কে? তাছাড়া তাদের পরিবারও টিকে আছে তাদের আয়ের উপর৷ মোটের উপর গৃহকর্মী হিসেবে এসব শিশু কাজ করলে সেটা অনেক পরিবারের জন্যও ভালো৷ আমার কাছে এ সব যুক্তি শিশুশ্রমের যৌক্তিক কারণ মনে হয় না৷ একটা শিশুকে কাজের মধ্যে ঠেলে দিয়ে একটা সুন্দর সম্ভাবনাকে কার্যত শুরুতেই মাটি চাপা দেয়া হয়৷ আর এর দায় আমাদের সবার, এবং অবশ্যই জনগণের প্রতিনিধি সরকারের৷

শিশুশ্রম শিশুর যে ক্ষতি করে

প্রশ্ন উঠতে পারে, শিশুশ্রম কেন ক্ষতিকর? কাজ করবে এর মধ্যে আবার ক্ষতির কী আছে? ক্ষতিটা মানসিক এবং শারীরিক৷ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুরা মূলত কাজ করে এমন সব প্রতিষ্ঠানে যেগুলোর আনুষ্ঠানিক তেমন কোনো ভিত্তি নেই৷ এ সব প্রতিষ্ঠানে কাজের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, নিয়মকানুন মানার বিধিনিষেধ নেই, কোনটা শিশুর জন্য ক্ষতিকর তা বিবেচনার ব্যবস্থা নেই৷ এমন পরিবেশে কাজ করে শিশুরা অল্প বয়সেই বিভিন্ন রোগের কবলে পড়ে যায়৷ পরিশ্রমের ক্লান্তির কারণে, পর্যাপ্ত সময় না থাকায় লেখাপড়া থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে৷

শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শিশুরা প্রতিনিয়তই নিগ্রহেরও শিকার হচ্ছে৷ গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার দেখেছি৷ বাংলাদেশে কিছু মানুষ সম্ভবত শিশুদের নির্যাতন করে একরকম পৈচাশিক আনন্দ লাভ করেন৷ সর্বশেষ এক ক্রিকেটার এবং তাঁর স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার এক গৃহকর্মীর ছবি দেখে আমার তাই মনে হয়েছে৷ আমরা সেই নির্যাতন দেখেছি বলে আঁতকে উঠছি, কিন্তু এ রকম হয়ত আরো অনেক গৃহকর্মী প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়ে বেড়ে উঠছে, যাদের দেখার কেউ নেই৷ শিশুশ্রম বন্ধ না হলে এমন নির্যাতন বন্ধ হবে না বলেই আমার ধারণা৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

ভবিষ্যত ধ্বংসের সহজ উপায়

শিশুদেরকে শিশুশ্রমে নিয়োগ করে কার্যত তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে৷ কেননা অল্প বয়সে কাজ করতে গিয়ে তারা লেখাপড়ার সুযোগ হারাচ্ছে, মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে৷ আর শিশুদের বৃদ্ধির যে স্বাভাবিক পন্থা, সেই পন্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ তারা এমন সব কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে যেগুলো তাদের বয়সে করার কথা স্বাভাবিক অবস্থায় ভাবাই যায় না৷

শিশুশ্রম বন্ধে তাহলে করণীয় কি?

সমস্যার সমাধান না দিয়ে লেখা শেষ করা উচিত নয়৷ বাংলাদেশের আইনেই আছে ১৪ বছরের কম বয়সিদের কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না৷ আমি মনে করি, এই আইনের প্রয়োগ করতে হবে কঠোরভাবে৷ এখানে সরকারের দায়িত্ব অনেক৷ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে শিশুশ্রম বন্ধ করে সেসব শিশুকে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া, তাদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে, বিনিয়োগ করতে হবে৷ প্রয়োজনে শিশুদের উপর নির্ভরশীলদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে৷ এক্ষেত্রে জাগো ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়া যেতে পারে৷ মনে রাখতে হবে, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত৷

আপনিও কি এই বিষয়ে কিছু বলতে চান? লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়