1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সম্পর্ক ঝালাই করতে চীন যাচ্ছেন জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি খান জারদারি আগামীকালই তাঁর বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করছেন৷ পুরনো বন্ধু চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নই তাঁর এই সফরের লক্ষ্য৷

default

আসিফ আলি খান জারদারি

সফরকালে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে চীনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন জারদারি৷ দায়িত্ব নেওয়ার পর জারদারি বলেছিলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর তিনি একবার চীন যাবেন৷ কিন্তু তা হয়নি৷ চীনের তরফ থেকে তেমন সাড়া পাননি বলেই হয়তো৷ তবে এবার সাড়া মিলেছে৷ দীর্ঘদিনের মিত্র প্রতিবেশী দেশটির পথে কালই ইসলামাবাদ ছাড়ছেন জারদারি৷ জারদারির এই সফরের দিকে চোখ থাকবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রেরও৷

ছয়দিনের সফরে জারদারি চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এবং ওয়েন জিয়াবাও-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন৷ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিন গ্যাং আজ এই তথ্য জানিয়েছেন৷ তবে দু'দেশের মধ্যে পরমাণু সহায়তা কিংবা বাণিজ্য বিষয়ক কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি৷

G20 Gipfel Toronto China HU Jintao

চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও

অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানের সমরাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে চীন৷ পাঞ্জাবের চশমা পরমাণু প্রকল্পে দুটি চুল্লী বসিয়ে দিতেও চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ ইসলামাবাদ বলছে, এই দুটি চুল্লী বেসামরিক কাজে ব্যবহার হবে৷ তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে চীনের কাছে আরো বিস্তারিত জানতে চাইছে৷ ২০০৪ সালে চীন নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ- এনএসজি'তে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে৷ ওয়াশিংটন বলছে, চীন-পাকিস্তান চুক্তিতে কী আছে, তা এনএসজি'কে জানাতে হবে৷ তবে চীন বলে আসছে, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই হয়েছে৷ আর পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা আছে পশ্চিমাদের৷ পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের খবর, জারদারির সফরে বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হবে৷

গত দুই দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে৷ তাই এই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করা চীনের কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ জার্মান মার্শাল ফান্ডের ফেলো অ্যান্ড্রু স্মল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চীনের কাছে এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ ভারত এগিয়ে যাচ্ছে, এবং আবারো তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো হচ্ছে৷ ফলে কয়েক যুগ আগে পাকিস্তানকে যেভাবে সহায়তা দিয়ে আসতো, সেই একই কাজ এখন ফের করতে চাইবে চীন৷''

জারদারির সফরের একমাস আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আশফাক পারভেজ কিয়ানি চীন ঘুরে এলেন৷ তখন দুদেশের সৈন্যদের যৌথমহড়াও হয়৷ দুই তরফে বলা হচ্ছে, জঙ্গি দমন অভিযান জোরদার করাই ওই মহড়ার লক্ষ্য৷ একসময় চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধন থাকলেও জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান মুখ ফেরায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে৷ তবে পাকিস্তানিরা চায়, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার৷ সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায়, মিত্র হিসেবে ৮৪ শতাংশ পাকিস্তানির পছন্দ চীনকে৷ আর ১৬ ভাগ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে৷

তবে চীনের দিকে ঝুঁকে পাকিস্তান যতই ঝুঁকে পড়ুক, পাকিস্তানের প্রতি মিত্রতার হাত গুটিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ আর চীনের দিকে ঝুঁকে পাকিস্তান পশ্চিমাদের কাছ থেকে আরো সহায়তা আদায় করে নিতে পারে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ