1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

সমাজবাদী পার্টির গৃহযুদ্ধে ছেলের হাতে বাবা কুপোকাত

ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকে৷ এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের শাসক দল সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা পিতা মুলায়েম সিং-এর হাত থেকে সমাজবাদী পার্টির প্রতীকচিহ্ন কেড়ে নিলেন ছেলে অখিলেশ যাদব৷

অখিলেশ যাদব

অখিলেশ যাদব

উত্তর প্রদেশের শাসকদল সমাজবাদী পার্টির স্তম্ভ যাদব পরিবারেরর গৃহযুদ্ধের পরিণামে দল দু'টি আজ পৃথক শিবিরে বিভক্ত৷ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মুখে দলের প্রতীকচিহ্ন কে পাবে – তাই নিয়ে দীর্ঘ নাটকবাজির পর, নির্বাচন কমিশনের রায়ে প্রতীকচিহ্নটি শেষ পর্যন্ত গেল দলের প্রতিষ্ঠাতা মুলায়েম সিং যাদবের পুত্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব দখলে৷ এর সঙ্গে সঙ্গে গত ২৫ বছর ধরে নিজের হাতে গড়া দলের নেতৃত্বটিও খোয়ালেন মুলায়েম সিং৷ অর্থাৎ দলের নেতৃত্ব চলে গেল ছেলে অখিলেশের হাতে৷ কমিশন অবশ্য বলেছে, ভোটে লড়তে চাইলে পৃথক দল ও পৃথক প্রতীকচিহ্ন নিয়ে লড়তে পারেন মুলায়েম সিং শিবির৷

বেশ কিছু দিন ধরেই পিতা-পুত্রের মধ্যে দলের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাত দানা বাঁধছিল৷ ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছিল যে, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ অখিলেশ যাদবের পক্ষে৷ তারই ভিত্তিতে উভয় শিবির নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়৷ দু'তরফেই পেশ করা হয় কাঁড়ি কাড়ি নথিপত্র৷ মুলায়েম সিং যাদবের দাবি, তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সর্বভারতীয় সভাপতি৷ কাজেই দলের প্রতীকচিহ্ন ‘সাইকেল' তাঁরই থাকা উচিত৷ অন্যদিকে অখিলেশ শিবিরের পক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি দিয়ে দাখিল করা হয় বিধায়ক, সাংসদ, বিধান পরিষদ ও পঞ্চায়েত স্তরের নেতাসহ দলীয় কর্মকর্তাদের সমর্থনসূচক হলফনামা৷

মুলায়েম সিং যাদব

মুলায়েম সিং যাদব

রাজনৈতিক সমীক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের রায়ে দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশে ভোটের চরিত্র এবং সমীকরণটা যাবে পালটে৷ বড় প্রশ্ন, বিরোধী দল বিজেপি এবং বহুজন সমাজ পার্টির এই রায়ে লাভ বেশি না ক্ষতি বেশি৷ ওদিকে মোদীর বিজেপি এবং বহুজন সমাজ পার্টির মায়াবতীর অস্বস্তি আরও বেড়ে গেছে, অখিলেশকে পাঠানো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তায়৷

নির্বাচন কমিশনের রায় প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. অমল মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘এই রায়ে রাজনীতিতে মুলায়েম সিং অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়লেন৷'' অখিলেশ যাদবের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট বাঁধলে বা আসন সমঝোতা হলে এবং পরবর্তিকালে অন্যান্য দলগুলিকে নিয়ে যদি মহাজোট হয়, তাহলে অখিলেশের সমাজবাদীর পার্টির জয় এক রকম সুনিশ্চিত৷ দ্বিতীয়ত, নোটবন্দির ফলে বিজেপির জনপ্রিয়তায় বেশ ভাঁটা পড়েছে৷ সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিমুদ্রাকরণ পদক্ষেপে৷ ভোটে তার প্রভাব পড়বে সন্দেহ নেই৷ তাছাড়া এই মহাজোটে মায়াবতীর বিএসপি হাত মেলালে সমস্যা হবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ নিয়ে৷ যদিও বিএসপির দিক থেকে ছবিটা এখনও পরিষ্কার নয়৷ আবার মায়াবতীর মনেও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা আছে৷ সেক্ষেত্রে মায়াবতীকে জোটে সামিল না করলেই অখিলেশের ফায়দা৷ কারণ মায়াবতীর পরাজিত হবার সম্ভাবনা থাকবে বেশি, এমনটাই মনে করেন ড. অমল মুখোপাধ্যায়৷

কংগ্রেস পার্টির তরফে জানানো হয়েছে, অখিলেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে শীঘ্রই বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে৷ কংগ্রেস ৮০ থেকে ১০০টি আসন চাইতে পারে বলে কংগ্রেসের তরফে বলেছেন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শীলা দীক্ষিত৷ কংগ্রেস নেতা গোলাম নবি আজাদ জানিয়েছেন, মহাজোট হবে কিনা জানি না, তবে কংগ্রেস জোট বাঁধতে চায় অখিলেশের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে৷ অজিত সিং-এর রাষ্ট্রীয় লোকদলও সামিল হোতে পারে এমনটা বলা হচ্ছে৷ বিহারে যেমনটা হয়েছিল নীতিশ কুমারের জেডি(ইউ), লালু প্রসাদের আরজেডি এবং কংগ্রেসের মধ্যে৷

ভারতের রাজনীতির ভাগ্যনির্ধারণে উত্তর প্রদেশের ভূমিকা চিরদিনই গুরুত্বপূর্ণ৷ সেক্ষেত্রে বিজেপি যদি উত্তর প্রদেশে হেরে যায়, তাহলে মোদী তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিরাট ধাক্কা খাবেন, সন্দেহ নেই৷ সে কারণে ইতিমধ্যেই তিনি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ভোট ময়দানে৷ সেই নয়ের দশক থেকে হয় মুলায়েম সিং, না হয় দলিত নেত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি ক্ষমতায় এসেছে৷ রাজ্যের রাজনীতি এভাবেই আবর্তিত৷ মায়াবতীর দল দলিত ভোট নির্ভর৷ তাই দলিত ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে তিনি মরিয়া৷ যদিও সু্প্রিম কোর্টের নির্দেশনায় আছে, ধর্ম, জাতপাতে দোহাই দিয়ে ভোট চাওয়া যাবে না৷ চাইলে প্রার্থীর নির্বাচন হবে অবৈধ

এরপর মুলায়েম সিং কী করবেন? সেটাও এক বড় প্রশ্ন৷ নিজে আলাদা দল গড়বেন নাকি ফন্দি ফিকির করে অখিলেশের ভোট ব্যাংকে ভাঙন ধরাবেন? এই যেমন, প্রতীক চিহ্ন ছেলের হাতে চলে যাবার আগাম খবরেই তিনি বলতে শুরু করেছেন, অখিলেশ মুসলিম বিরোধী৷ আর তাই সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষায় তেমন আগ্রহী নন তিনি৷

প্রসঙ্গত, উত্তর প্রদেশে ১৮ শতাংশ মুসলিম ভোট৷ রাজ্য বিধানসভার ৪০৩টি আসনের জন্য মঙ্গলবার থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল শুরু হয়েছে৷ রাজ্যে ভোট হবে সাত দফায়৷ প্রথম পর্ব ১১ই ফেব্রুয়ারি, শেষ হবে ৮ই মার্চ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন