1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

সমাজই যৌনরোগকে গোপন রাখতে শেখায়

কখনও ভেবে দেখেছেন, যৌনরোগ বা তথাকথিত গুপ্ত রোগের চিকিৎসা করার যাবতীয় বিজ্ঞাপন কেন রাস্তার ধারের পাবলিক টয়লেটের দেওয়ালে, ল্যাম্পপোস্টে আর লোকাল ট্রেনের কামরায় দেখা যায়? উত্তরটা কিন্তু প্রশ্নের মধ্যেই আছে৷ রোগটা গুপ্ত৷

তাই তা গোপন রাখার জন্য৷ আসলে চলতি সামাজিক রীতি-নীতি সেটাই বলে যে যৌনরোগ হলে লুকিয়ে রাখতে হয়৷ কিন্তু তারপরেও কেন এত যৌনরোগের চিকিৎসার বিজ্ঞাপন? কারণ, চেপে রাখা হয় বলেই অনেক সময় এই ধরনের রোগের ঠিকঠাক চিকিৎসা হয় না৷ রোগ ছড়িয়ে পড়ে৷

খেয়াল করে দেখবেন, যৌনরোগ শব্দটাতেই বহু লোকের আপত্তি৷ যেহেতু সেটা যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে শরীরে আসে৷ সাধারণত নিয়মিত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অসাবধানী যৌনতার কারণেই এ ধরণের রোগের সংক্রমণ হয়৷ যে কারণে রোগটা গোপন করলে নিজের অনিয়ন্ত্রিত যৌনজীবনও গোপন থাকে৷ অথচ রোগের নিরাময় তাতে হয় না৷ বরং গুপ্ত রোগ অনেক সময়ই প্রায় মহামারীর ব্যাপকতায় ছড়িয়ে পড়ে৷ ভারতে ঠিক যা হয়েছিল এইডস রোগের ক্ষেত্রে৷

আশির দশকের শেষের দিকে ভারতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছিল এইডস৷ মারাত্মক এই রোগের এখনও সে অর্থে কোনো চিকিৎসা হয় না, কিন্তু তখন এইডস-এর মারণক্ষমতা সম্পর্কেই অধিকাংশ মানুষের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না৷ ফলে সচেতনতাও ছিল না৷ যে কারণে কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হলে হয় প্রথমটায় রোগলক্ষণগুলো বুঝতেই পারত না৷ স্বাস্থ্যকর্মীরা সেসময় অনেক দিনের নিয়মিত সমীক্ষায়, লাগাতার চেষ্টায় এই রোগের সংক্রমণের একটা নির্দিষ্ট ধরন খুঁজে পেয়েছিলেন৷ যেটা এক কথায় বলতে গেলে, এইডস ছড়ায় যৌনকর্মীদের থেকে এবং যৌনপল্লীর বাইরে সেটা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা পালন করেন ট্রাক ড্রাইভাররা৷ পণ্য পরিবহনের জন্য তাঁরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়ান এবং সহজ ও সুলভ, শস্তা বিনোদন হিসেবে বেছে নেন মদ্যপান আর যৌনতাকে৷ এইডস আক্রান্ত যৌনকর্মীদের থেকে তাঁরা এইডস রোগের জীবাণু বয়ে নিয়ে যান নিজের ঘরে, নিজের স্ত্রীর শরীরে৷ অবধারিতভাবে সেই ভাইরাস সংক্রামিত হয় তাঁদের পরবর্তী সন্তানদের দেহে৷

একইভাবে কিন্তু একজন সংক্রামিত ট্রাকচালকের থেকে জীবাণু যায় এক বা একাধিক নীরোগ যৌনকর্মীর দেহে৷ এবং এখানে তৈরি হয় বাড়তি বিপদের সম্ভাবনা৷ একজন যৌনকর্মী যখন বুঝতে পারেন যে তিনি রোগাক্রান্ত, তিনি সেকথা গোপন করে যান৷ এক, সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার ভয়ে, দুই, তিনি অসুস্থ জানলে কেউ তাঁর কাছে আসবে না, রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে, সেই ভয়ে৷

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি

শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা প্রতিনিধি

সমাজকর্মীরা আজকের তারিখে দাঁড়িয়ে আশ্বস্ত গলায় জানাতে পারছেন, একদিকে রোগ সংক্রমণের বিপদ, অন্যদিকে সামাজিক অপবাদের ভয়, এই দুইয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিন্তু আসল হাতিয়ার হয়েছিলেন ওই সামাজিকভাবে অপাংক্তেয় যৌনকর্মীরাই৷ কন্ডোম ব্যবহারে খদ্দেরদের বাধ্য করার মতো একাধিক নিরাপদ যৌন অভ্যাস তাঁরা গড়ে তুলতে পেরেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে এইডস রোগকে৷

দুর্ভাগ্য, যে একই কথা বলা যায় না যৌনপল্লীর বাইরে যে বৃহত্তর সমাজ, তার ব্যাপারে৷ এখনও সেখানে অনেক মানসিক প্রতিবন্ধকতা, অনেক নৈতিক প্রতিরোধ যৌনরোগের প্রতি৷ ফলে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে৷

সম্প্রতি যেমন এক সমীক্ষায় জানা গেছে যে, ভারতের কিছু কিছু অঞ্চলে কমবয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যৌনরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে৷ তার একটা কারণ যেমন চলতি সময়ের বেপরোয়া, উদ্দাম জীবনদর্শন, তেমন আরেকটা বড় কারণ সমাজের মধ্যে, অনেক সময়ই নিজের পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিকৃতকাম এক শ্রেণির মানুষের যৌন লালসার শিকার হচ্ছে ছোট ছেলে-মেয়েরা৷ এবং এক্ষেত্রেও মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সামাজিক বিধি-নিষেধ, যা যৌনরোগকে গোপন রাখতে শেখায়৷ এমনকি নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গেও খোলা মনে নিজের সমস্যার কথা আলোচনা করতে বাধা দেয়৷

সুতরাং রোগ যত না আমাদের শরীরে, তার থেকে অনেক বেশি আমাদের মনে৷ অনেক গভীরে তার শেকড় চলে গিয়েছে৷ এই সংস্কার থেকে মুক্তি পেলেই বোধহয় সমাজের প্রকৃত রোগমুক্তি ঘটবে৷

বন্ধু, আপনি কি শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমত? জানান আপনার কথা, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়