1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সমকামী অধিকার কর্মী ডেভিড কাটোকে হত্যা করা হল উগান্ডায়

উগান্ডায় সমকামী অধিকার নিয়ে কর্মরত মানবাধিকার কর্মী ডেভিড কাটোকে তাঁর বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হল বৃহস্পতিবার৷ কাটো হত্যার ঘটনাকে মানবাধিকারের লড়াইয়ে এক মস্তবড় ক্ষতি বলে ব্যাখ্যা করেছে মানবাধিকারবাদী সংগঠনগুলি৷

default

এই সংবাদপত্রে একাধিক সমকামীর ছবি ছাপা হয়েছিলো

কে এই ডেভিড কাটো

ডেভিড কাটো ছিলেন উগান্ডায় সমকামীদের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ে সবচেয়ে তৎপর ব্যক্তিত্ব৷ গত বছর ‘রোলিং স্টোন' নামের স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে একাধিক সমকামীর ছবি ছাপা হচ্ছিল পরপর৷ সেইসব সমকামীরা যার ফলে উগান্ডার রক্ষণশীল সমাজে নানান হয়রানির শিকার হতে থাকেন৷ মানবাধিকার কর্মী ডেভিড কাটোরও ছবি ছাপে সেই সংবাদপত্রটি৷ তাঁকে চিহ্নিত করা হয় একজন সমকামী বলে৷ এরপরেই কাটো ওই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷ তারপর থেকেই খুনের হুমকি পেতে থাকেন কাটো৷ অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে ঢুকে কাটোর মাথায় পরপর দুটি গুলি করে আততায়ী৷ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান এই তরুণ মানবাধিকার কর্মী৷

কাটো হত্যাকাণ্ড আর উগান্ডার রক্ষণশীল সমাজ

উগান্ডার সমাজে সমকামীতা এক শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ সাধারণ আইনেই ১৪ বছর পর্যন্ত কারাবাসের সাজা হয়ে থাকে সমকামীদের৷ সম্প্রতি এক সাংসদ সমকামীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য সংসদে প্রস্তাব আনার চেষ্টা করেছিলেন৷ বোঝাই যাচ্ছে, সমাজের প্রভাবশালীদের সমর্থন রয়েছে সেদেশে সমকামী বিরোধীতায়৷ ডেভিড কাটো এই দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনতেই তাঁর লড়াই চালাচ্ছিলেন৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রাণ দিতে হল৷

কাটো হত্যার তদন্ত চায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কাটো হত্যাকাণ্ডের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছে৷ ওই সংগঠনের শীর্ষ নেত্রী মারিয়া ব্রুনেটের মতে, উগান্ডার পিছিয়ে থাকা সমাজব্যবস্থার উন্নয়নে কাটোর মত একজন মানবাধিকার কর্মীর অবদান বিশাল৷ তাঁকে হত্যা করে উগান্ডায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মস্ত ক্ষতি করে দিয়েছে রক্ষণশীল ও প্রভাবশালীরা৷ ‘সেক্সুয়াল মাইনরিটিজ উগান্ডা' বা সংক্ষেপে স্মাগ নামের যে সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন কাটো, তাদের উদ্যোগেই ২০০৯ সালে উগান্ডায় সরকারের আনা একটি সমকামীতা বিরোধী আইনকে কার্যত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল সরকার৷ সে সময় উগান্ডায় সমকামীদের ওপর চরম অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল স্মাগ৷ ফলে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে আইনটিকে বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার৷ এইসব বিভিন্ন কারণেই তথাকথিত সমাজপতিদের চক্ষুশূল ছিলেন এই মানবাধিকার কর্মী ডেভিড কাটো৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ