1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সব অভিযোগে ইমরান এইচ সরকারের জবাব

আব্দুল কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী সৈয়দ শহীদুল হক ‘মামা' ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, গণজাগরণ মঞ্চকে ব্যবহার করে অনেকে কোটিপতি হয়েছেন৷ আজ থাকছে ড. ইমরান এইচ সরকারের জবাব৷

গত ২৪ অক্টোবর ব্লগওয়াচের বিষয় ছিল পরিবর্তন ডটকমে প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার৷ সেখানে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী সৈয়দ শহীদুল হক ‘মামা' দাবি করেছিলেন গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ কেন বের করে দেয়া হয়েছে তা তিনি বলেননি৷ তাঁর আরেকটি দাবি ছিল, গণজাগরণ মঞ্চের অনেকে কোটিপতি হয়েছেন৷ কে বা কারা হয়েছেন নাম উল্লেখ করে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি৷ তাঁর সেই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকারের বিস্তারিত বক্তব্য সেদিন পাওয়া যায়নি৷ একটি মন্তব্য এবং তার প্রতিক্রিয়ায় নানা জনের সমর্থন এবং অনেকের আপত্তিকর কিছু মন্তব্যের কথা জানানো সম্ভব হয়েছিল সেদিন৷ তবে ২৪ অক্টোবরই ইমরান এইচ সরকার তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আমার জবানবন্দি-২' শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন৷ পোস্টটি তাঁর ব্লগ থেকে নেয়া৷ তাঁর আগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর থেকে তাঁকে যে সব ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে সে সবের বর্ণনা দিতে লিখেছিলেন আরেকটি পোস্ট, শিরোনাম ‘আমার জবানবন্দি ১'৷ আজ এই দুটি পোস্টের মাধ্যমে ইমরান এইচ সরকার যেভাবে নিজেকে এবং গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেছেন সেগুলো জানানো হচ্ছে৷

‘আমার জবানবন্দি-২' পর্ব ইমরান শুরু করেছেন এভাবে, ‘শাহবাগ আন্দোলনের শুরু থেকে আজ অবধি প্রতিটি মুহূর্তেই আমি নিত্য-নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি৷ মুক্তিযু্দ্ধের চেতনার লেবাসধারী মানুষেরা যে এতো কূটচাল জানে, তা আমার ধারণাই ছিলো না৷ প্রথম দিকে কিছুটা বিস্মিত হলেও এখন একদম সয়ে গেছে! স্বার্থে আঘাত লাগলে মানুষ কী কী করতে পারে, তার একটা তালিকা আছে আমার মাথায়৷ খুব কম ক্ষেত্রেই এই তালিকার ব্যতিক্রম দেখেছি৷'

‘গণজাগরণ মঞ্চের অনেকে কোটিপতি হয়ে গেছেন' - এ বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমি যেখানে বসে এই জবানবন্দীটি লিখছি, তা কোনো পাঁচ তারকা হোটেল নয়৷ কোনো আলিশান জমিদার বাড়িও নয়৷ না, এখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র নেই, নেই জীবনযাপনের উচ্চ স্তরের কোনো সুযোগ-সুবিধা৷ পাঁচই ফেব্রুয়ারির পরে আমার জীবনযাপনে খুব বড়ো ধরনের একটা পরিবর্তন আসে৷ প্রথমদিকে টানা সতেরো দিন আমি আমার বাড়ি যাইনি৷ বেশিরভাগ সময় শাহবাগেই কাটিয়েছি৷ বিশ্রামের দরকার হলে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ জায়গায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছি৷ আর এখন আমি সম্পূর্ণ ঘরছাড়া, পরিবারছাড়া৷ পাঁচই ফেব্রুয়ারির পর হাতে গুনে কয়েকবার আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তা-ও শাহবাগেই৷ কিন্তু তারপরও কসাই কাদের মোল্লার সাঙ্গপাঙ্গরা নানা নির্লজ্জ মিথ্যা অপবাদ এখন পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে দুধের মাছিরা, চণ্ডালনৃত্য করে বলছে- আমি নাকি পাঁচ তারকা হোটেলে থাকি, এই অভিযোগটি আমি প্রমাণ করবার চ্যালেঞ্জও তাদের ছুঁড়েছিলাম, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি৷ আমি জানি, তারা কখনও সেটা গ্রহণ করবে না, কেননা মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে যাদের রাজনীতি-জীবনযাপন, মিথ্যাকে আঁকড়েই তারা সুখ খুঁজবে – এটাই স্বাভাবিক৷''

রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাওয়ার অভিযোগকে ‘কসাই কাদের মোল্লার সাঙ্গপাঙ্গ' এবং ‘দুধের মাছি'-দের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়ে নিজের সৎ থাকার কারণ হিসেবে আঁদ্রে মালরোর একটি উপন্যাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ইমরান, তিনি লিখেছেন,‘‘ এইটুকু জানি, ভালো কিছু অর্জন করতে একটি প্রজন্মকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, যার জন্য আমার মতো অসংখ্য তরুণ প্রস্তুত রয়েছে৷ আঁদ্রে মালরো তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ডেস অফ হোপ'-এ যেমন বলেছিলেন – একটি প্রজন্ম আত্মত্যাগে সৎ থাকলেই জাতিরাষ্ট্রের কলঙ্ক-লজ্জা ঘুচানো সম্ভব; তেমনি আমিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি – প্রজন্মের আত্মত্যাগেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ আলোকিত বাংলাদেশের সৌধ৷''

লেখায় ডাক্তারি পেশা ছেড়ে নিজেকে পুরোপুরি আন্দোলনে সঁপে দেয়ার কারণও বলেছেন, ‘‘আমি সরকারি চাকুরি করতাম৷ মেডিক্যাল শিক্ষা শেষ করেই চাকুরিতে যোগদান করি৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করি৷ আমি আইসিইউ (ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট)-তে কাজ করতাম৷ পাশাপাশি এনেস্থেসিওলজি ও পেইন ম্যানেজমেন্টের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছি৷ আমি আমার সরকারি চাকুরি থেকে রিজাইন করেছি৷ যেহেতু আমি সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছি, তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেছি সরকারি চাকুরিতে থেকে এই আন্দোলন পরিচালনা আমার জন্য অনৈতিক৷ তাছাড়া যেহেতু আমাকে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই শাহবাগ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, তাই চাকুরিতে সময় দেয়া দুরূহ ব্যাপার৷ আশা করি ছয় দফা আদায় করে জামাত-শিবির যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশে আমি পুনরায় আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবো৷''

জবানবন্দির এই দ্বিতীয় পর্বে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের লোকেরাই তাঁর আন্দোলনের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে, আন্দোলনকে হাল্কা করে তোলার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে রাজাকারদের মতো তাঁরও ফাঁসি চাচ্ছে – এই দাবিও করেছেন ইমরান এইচ সরকার, ‘‘ (যু্দ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হবার পর) আশা করি সেদিন আমাকে হত্যা করার জন্য আর কেউ তলোয়ার নিয়ে অপেক্ষা করবে না৷ আর কেউ ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই' এর ‘রাজাকারের' জায়গায় ‘ইমরান' দিয়ে প্রতিস্থাপন করে ‘ইমরানের ফাঁসি চাই' কপালে লাগিয়ে স্লোগান তুলবে না৷ আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন এই বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি করায় আর কেউ সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে লিখবে না ‘নাস্তিক ইমরানের ফাঁসি চাই৷''

জবানবন্দির প্রথম পর্বে তাঁকে ‘নাস্তিক' বলার অযৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন, ধর্মভিত্তিক দল এবং হেফাজত-এ ইসলাম সম্পর্কে তিনি যা বলেননি তা-ও প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন৷ সেখানে একটি বিশেষ মহলের তাঁকে গাঁজা সেবনকারী হিসেবে তুলে ধরার প্রসঙ্গে ইমরান লিখেছেন, ‘‘আমি জীবনে ধূমপান করিনি৷ ... তারপরও ওরা গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-ঘাটে, বাসে-ট্রেনে বলে বেড়ায় – আমি নাকি গাঁজা খাই! একমাত্র একজন মাতাল-বিকৃত মস্তিষ্ক কিংবা অসুস্থ মানুষের পক্ষেই এসব মিথ্যাচার করা সম্ভব৷''

ইমরান এইচ সরকার মনে করেন, তাঁর সম্পর্কে যেসব নেতিবাচক কথা বলা হচ্ছে সবই উদ্দেশ্যমূলক এবং উসকানিমূলক বক্তব্য৷ এসবের ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘‘যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কিংবা সহিংস শব্দ আমরা খুব সচেতনভাবেই বর্জন করেছি, কারণ আমরা বিশ্বাস করি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই বিজয় অর্জন করা সম্ভব৷ অথচ আন্ডারগ্রাউন্ড কোনো অনলাইন কিংবা অখ্যাত দলীয় পত্রিকায় মিথ্যা খবর ছাপিয়ে, এমনকি প্রতি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছে এই বানোয়াট তথ্য৷''

সংকলন : আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা : সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন