1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সবুজ বাড়ি আর খাড়াই অরণ্য

ভেন্তিচিঙ্কে ভ্যার্দে – বাংলায় হবে ‘২৫ নম্বর সবুজ বাড়ি'৷ টুরিন শহরের এই সবুজ বাড়িটি যে স্থপতি তৈরি করেছেন, তাঁকে খোদ জুভেন্টাস টুরিন ফুটবল ক্লাবের একটি ‘সবুজ' হোটেলের নকশা করতে দেওয়া হয়েছে৷

দেখলে মনে হবে যেন জঙ্গল আর মাচার সংমিশ্রণ৷ বাড়িটা কিন্তু শহরের মধ্যে৷ বাড়ির নাম ভেন্তিচিঙ্কে ভ্যার্দে, অর্থাৎ ২৫ নম্বর সবুজ বাড়ি৷ বাড়িটির পাঁচটি তলায় ১১৫টি বড় বড় টবে নানা ধরনের গাছপালা লাগানো আছে৷ স্থপতি লুচিয়ানো পিয়া এক ধরনের ‘সবুজ স্থাপত্যের' স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমরা যতোটা সম্ভব প্রকৃতিদত্ত মালমশলা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি৷ এমন সব মালমশলা, যাতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি; যা প্রাকৃতিক নিয়মে পুরনো হয়, সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে৷ যেমন এই লার্চ গাছের কাঠ, যার কোনো রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করা হয়নি৷ এই ইস্পাতেও মরচে ধরবে, সময়ের সাথে সাথে তা বদলে যাবে৷ সবুজ গাছপালাগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে বেশ একটা সুন্দর এফেক্ট৷''

খাড়াই বাগান

উত্তর ইটালির মিলান শহরেও ‘সবুজ স্থাপত্যের' নিদর্শন পাওয়া যাবে৷ স্থপতি স্তেফানো বোয়েরি দু'টি বহুতল ভবন তৈরি করে তাদের নাম রেখেছেন ‘বস্কো ভ্যার্তিকালে' বা ‘খাড়াই অরণ্য'৷ ২০১৪ সালে বহুতল স্থাপত্যের পুরস্কার পেয়েছে এই দু'টি বাড়ি৷

গার্ডেন আর্কিটেক্ট পাত্রিক ব্লঁ বাগানের নকশা করে থাকেন৷ গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি প্যারিসের বিভিন্ন বাড়ির গায়ে ‘খাড়াই' বাগানের পরিকল্পনা করছেন৷ জঁ নুভেল-এর সৃষ্ট ‘অ-ইউরোপীয় শিল্পকলা মিউজিয়ামের' গায়েও ব্লঁ-এর খাড়াই বাগান পাওয়া যাবে৷ তবে বাড়ির গায়ে গাছপালা থাকলেই তা টেকসই স্থাপত্য হয়ে যায় না৷

Internationaler Hochhaus Preis 2014 Bosco Verticale Mailand

মিলান শহরের ‘বস্কো ভ্যার্তিকালে' বা ‘খাড়াই অরণ্য'

টেকসই গৃহনির্মাণ

জার্মান টেকসই গৃহনির্মাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার রুডল্ফি বলেন, ‘‘সর্বাঙ্গীণভাবে দেখলে টেকসই গৃহনির্মাণ শুধু ‘সবুজ বাড়িতেই' শেষ হয়ে যায় না৷ তার কতোগুলো সমাজ ও সংস্কৃতিগত দিক আছে৷ তার মধ্যে পড়বে অর্থনীতির প্রশ্ন, বাড়ি তৈরির খরচের প্রশ্ন, কার্যকারিতার প্রশ্ন, পরিবেশ ও গুণগত উৎকর্ষের প্রশ্ন৷ এ সব শুধু ইকোলজির ব্যাপার নয়৷''

ফেরা যাক টুরিনে৷ ভেন্তিচিঙ্কে ভ্যার্দে বাড়িটির ভিতরের প্রাঙ্গণে ৫০টি গাছ লাগিয়ে একটি ছোট বনানী সৃষ্টি করা হয়েছে৷ গাছগুলো অক্সিজেন দেয়; প্রাকৃতিক উপায়ে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ করে৷ গরমে ছায়া দেয়; শীতে পাতা ঝরিয়ে বসে থাকে, ফলে ফ্ল্যাটগুলোতে সূর্যালোক আসতে পারে৷

লুচিয়ানো পিয়া, ২৫ নম্বর ‘সবুজ বাড়ির' স্থপতি জানালেন, ‘‘আমি বাড়িটা এমনভাবে তৈরি করেছি, যাতে খুব কম জ্বালানি শক্তি লাগে৷ শীতে তাপ ধরে রাখে; গরমে রোদ আটকায়৷ বড় বড় জানলা দিয়ে প্রচুর আলো আসে, ফলে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়৷ বৃষ্টির জল ধরে রেখে গাছগুলোতে দেওয়া হয়৷ নয়তো জিওথার্মাল এনার্জি ব্যবহার করা হয়৷''

গৃহনির্মাণের আদর্শ নয়

জার্মান টেকসই গৃহনির্মাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার রুডল্ফি ২৫ নম্বর সবুজ বাড়িটিকে পছন্দ করেন৷ তবে ভবিষ্যতে সব বাড়ি এ রকম হবে বলে তিনি মনে করেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘সম্ভবত এখানে পরিবেশ সংক্রান্ত ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে সমস্যা হবে৷ এ ধরনের বাড়ির দেখাশোনা করা বেশ কঠিন বলে আমি মনে করি৷ উচ্চ মানের, সস্তা ভাড়ার বাড়ি তৈরির জন্য অন্য পন্থা ভাবতে হবে৷ একটা পাইলট প্রজেক্ট, কিংবা একক প্রকল্প হিসেবে ‘সবুজ বাড়ির' একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বৈকি, কিন্তু গৃহনির্মাণের আদর্শ হিসেবে তাকে নেওয়া চলবে বলে আমি মনে করি না৷''

ভেন্তিচিঙ্কে ভ্যার্দে বাড়ির বাসিন্দারা গাছপালার মধ্যে বাস করতে ভালোই বাসেন৷ বাড়ির ৬৩টি ফ্ল্যাটের প্রতিটির প্ল্যান আলাদা৷ সবুজ বাড়ির বাসিন্দা আলব্যার্তো ফুমাগালি জানালেন, ‘‘স্বাগতম! আমার এই ফ্ল্যাট কেনার একটা বড় কারণ হল এই বিশাল জানালাগুলো৷ জানালা একবার খুলে দিলে মনে হয় যেন ফ্ল্যাটের ভিতরটা আর বাইরেটা এক হয়ে গেছে৷ এখানেই আমি থাকি, বাড়ির লোকজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটাই৷ আমার এই বাড়িটাকে ভালো লাগে কেননা আমার মনে হয়, আমি যেন একটা ছোট্ট পরিবেশে রয়েছি – আবার একই সঙ্গে টুরিনের কেন্দ্রে রয়েছি৷ মনে হয় যেন প্রকৃতির মাঝখানে রয়েছি৷''

সবুজ হোটেল

লুচিয়ানো পিয়া অন্যান্য প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন৷ জুভেন্টাস টুরিন ফুটবল ক্লাবের জন্য একটা হোটেলের নকশা করছেন লুচিয়ানো৷ সেটা ঠিক ‘সবুজ বাড়ির' মতো অতটা সবুজ না হলেও, তাতেও প্রচুর গাছপালা থাকবে৷ লুচিয়ানো স্মৃতিচারণ করলেন, ‘‘২৫ নম্বর ‘সবুজ বাড়ি' এমন একটি প্রকল্প, যা বিতর্কের সৃষ্টি করবে, এই ছিল তার উদ্দেশ্য৷ বাড়িতে যে গাছপালা লাগানো হয়েছে, এমনকি ইস্পাতের কাঠামোটাও যে প্রকৃতির অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে, তা মানুষজনকে বাড়ি-ঘর-দোরে আরো বেশি ‘সবুজের' ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে৷''

ভেন্তিচিঙ্কে ভ্যার্দে বাড়িটি একটি বিশেষ ধরনের স্থাপত্য, যা ভবিষ্যতেও স্থপতিদের উদ্বুদ্ধ করবে৷ আধুনিক স্থাপত্যের ভক্তরা যে এই সবুজ বাড়ি দেখতে ভিড় করে আসেন, সেটাই তার প্রমাণ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক