‘সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ′ | বিশ্ব | DW | 13.01.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ'

সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করাই বর্তমান মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ পাশাপাশি সহিংসতা থামাতে হবে এবং দৃশ্যমান সংলাপ শুরু করতে হবে, যাতে জনগণ আশ্বস্ত হতে পারে৷

নতুন মন্ত্রীদের সামনে চ্যালেঞ্জ কী? ডয়চে ভেলের এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এই মন্তব্য করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘দেশে চলমান সংঘাত ও সহিংসতা দ্রুত থামাতে হবে৷ এক্ষেত্রে অবশ্য খানিকটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে৷ তবে বিরোধী পক্ষ সহিংসতা থামালে সরকারকেও ধড়পাকড় বন্ধ করতে হবে৷ তার ওপর সংলাপ শুরুর ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশিদের চাপ তো রয়েছেই৷ কারণ পাঁচ বছর পর নির্বাচন আসলে আবারো একটা সংকট তৈরি হবে, এটা কারুরই কাম্য নয়৷ এ জন্য স্থায়ী একটা সমাধান দরকার৷ দলীয় সরকারের অধিনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়, তা গত ৫ জানুয়ারি জনগণ দেখেছে৷ এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিও একই ধরনের নির্বাচন এ দেশে হয়েছে৷ তাই নির্বাচনের স্থায়ী একটা কাঠামো সংলাপের মাধ্যমে বের করতেই হবে৷ যাতে একই পরিস্থিতিতে আমাদের বারবার পড়তে না হয়৷''

অধ্যাপক ইমতিয়াজ মনে করেন, ‘‘যত দ্রুত সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়, ততই দেশ ও জনগণের জন্য মঙ্গল৷ কারণ যে নির্বাচন করে সরকার গঠিত হলো, সেই নির্বাচন কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি৷ তাই বিরোধী শিবিরকে আস্থায় নিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ এখন নতুন সরকারের মন্ত্রীরা কত দ্রুত সেই কাজটি করতে পারেন, সেটা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে৷ অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি হরতাল-অবরোধ থেকে আপাতত সরে আসছে বলে মনে হচ্ছে৷ তবে লংমার্চ, সভা-সমাবেশের মতো কর্মসূচি তারা দিতেই পারে৷ তাদের সেই কর্মসূচি পালনের সুযোগ দিতে হবে৷ তাহলেই এক ধরনের সমঝোতা হতে পারে৷''

নতুন মন্ত্রীদের সামনে চ্যালেঞ্জ কি? এমন প্রশ্ন ছিল নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের কাছেও৷ জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সব কাজই চ্যালেঞ্জিং, এই দায়িত্বটিও অনেক চ্যালেঞ্জের এবং এ এক গুরুদায়িত্ব৷ এখনও অগ্রাধিকার ঠিক করিনি৷ আসলে এটা অনেক বড় একটা মন্ত্রণালয়, আগে বুঝে নেই৷ পরে অগ্রাধিকার জানাতে পারবো৷ অবশ্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শেষ করে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে৷ এখানে কোন ছাড় নয়৷''

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধপরিকর৷ যেভাবেই হোক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে৷ জেল হত্যার বিচার হয়েছে, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার বিচার হয়েছে৷ বঙ্গবন্ধু হত্যারও বিচার হয়েছ, গত আমলে বিচারের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে৷ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে অনেকাংশেই সেই প্রক্রিয়াটি শেষ করার সাফল্য অর্জন করেছে৷ এর ধারাবাহিকতা থাকবে৷

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর৷ তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে যারা, তাদের ওপর হামলা হচ্ছে৷ এ রকম একটি সংকটময় সময়ে আমি মনে করি, এ ধরনের অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সংস্কৃতি একটি বড় হাতিয়ার৷ এ জায়গাটিতে ব্যাপক কাজ করার সুযোগ রয়েছে৷ এই কাজগুলো ঠিকমতো করতে পারলে, মানুষের চেতনায় বাঙালি সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা আনতে পারলে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হবে৷''

নির্বাচনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘‘বিষয়টি পরিকল্পিতভাবেই হয়েছে৷ হামলাকারীদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল বলেই আমার ধারণা৷'' ‘অপশক্তি'-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ অতীতেও জয়ী হয়েছে, এবারো তারা জয়ী হবেন৷

ওদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন ও সংবিধান অমান্যকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে৷ প্রথমবারের মতো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ঢাকার এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা আইন মানে না, সংবিধান মানে না তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে৷ পুলিশের প্রতি কোনো নির্দেশনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সবেমাত্র আজকে এসেছি৷ আগে দেখবো, বুঝবো এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো৷'' আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো কাজ করছে বলেও মনে করেন আসাদুজ্জামান কামাল৷ নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রত্যয় ব্যক্ত করে এক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করেন নতুন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়