1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সবরিমালা দুর্ঘটনার জন্য কেরালা সরকারের প্রতি দোষারোপ

সবরিমালা তীর্থযাত্রিদের দুর্ঘটনার জন্য কেরালা সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করেছে শুধু সুশীল সমাজই নয়, কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতিরাও৷ তিনদিনের মধ্যে তাঁরা এই দুর্ঘটনার রিপোর্ট দিতে বলেছেন সরকারকে৷

default

কেরালাতে সবরিমালায় দুর্ঘটনার পরে

ঐ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩-এ৷ কেরালা হাইকোর্টের দুজন বিচারপতির যে বেঞ্চ সবরিমালা তীর্থযাত্রার পুরো বিষয়টির দিকে নজর রাখছিলেন, তাঁরা আজ বলেছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বনবিভাগ ও মন্দির পরিচালক পর্ষদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ি৷

Indien Massenpanik bei Pilgerfest

দুর্ঘটনার জন্য কেরালা সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করা হয়েছে

বিচারপতিরা বলেন, এতবড় ভক্ত সমাবেশে ভীড় নিয়ন্ত্রণ ও উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার দিকে গত ৫ই জানুয়ারি তাঁরা কেরালা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন৷ কিন্তু রাজ্য সরকার তাতে কান দেননি৷ নভেম্বর থেকে আড়াই মাস ব্যাপী সবরিমালা উৎসব পরিচালনা করার মত পরিকাঠামো আদৌ ছিলনা৷

তীর্থযাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যাত্রাপথে তীর্থযাত্রিদের জন্য জল, আলো, বিশ্রাম শিবির, পুলিশ ও মেডিক্যাল সুবিধার মত প্রাথমিক সুবিধাটুকু পর্যন্ত ছিলনা৷ উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ থেকে গিয়েছিলেন দুটি দলে মোট ১৪২জন তীর্থযাত্রী৷ তাঁরা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন৷ কারণ তাঁরা মকরজ্যোতি দর্শনের জন্য পাহাড়ের উপরে না উঠে নীচে থেকে দর্শন করেন৷

সুশীল সমাজ বলছে, সরকারের গতানুগতিক তদন্তে ওপর কোন আস্থা নেই৷ পুরো সিস্টেমটাই ভেঙ্গে পড়েছে৷ নেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা৷ তা না হলে ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন-চারটি অনুরূপ দুর্ঘটনার রিপোর্ট আজও পড়ে আছে হিমঘরে৷ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ কাজেই সময়-ভিত্তিক তদন্ত রিপোর্ট এবং তার পরবর্তী ব্যবস্থা কার্যকর না হলে এই ধরণের দুর্ঘটনা আবার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে৷

অন্যদিকে সবরিমালায় পাহাড়ে শ্রীআয়াপ্পা মন্দিরে মকরদিব্য জ্যোতি নিয়ে ভক্ত ও যুক্তিবাদিদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ যুক্তিবাদিরা বলছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ জানেন, দিব্য জ্যোতি কোন ঐশ্বরিক ঘটনা নয়৷ এটা মানুষের তৈরি৷ জঙ্গলের ভিতরে কোন একটা জায়গা থেকে কর্পূর জ্বালানো হয়, তা থেকেই এই আলোর ছটা৷ ১৯৯৯-এর দুর্ঘটনার পর মন্দিরের তন্ত্রী তা স্বীকার করেন৷ যুক্তিবাদিদের দাবি এই তথ্য প্রচার করা জরুরি৷

ভবিষ্যতে এই ধরণের বিপর্যয় রোধে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সবরিমালা এলাকার উপগ্রহ ছবি দিতে চেয়েছে, যাতে ঐ এলাকার পাহাড় ও জঙ্গল রুটের ম্যাপ তৈরি করা যায়৷

প্রতিবেদন: অনিল চট্টোপাধ্যায়, নতুনদিল্লি

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন