1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের পাশে গুলি, বিস্ফোরণ

বাংলাদেশে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাতটি হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সেই ঈদগাহের অদূরে পুলিশের চেকপোস্টে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা৷ চলে গোলাগুলি, বোমা বিস্ফোরণ৷ ঘটনায় নিহত হয় দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজন৷

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সায়েমের কথায়, ঈদের দিন সকাল আটটার দিকে একজন সন্ত্রাসী পুলিশ চোকপোস্ট লক্ষ্য করে গুলি করলে, অপরজন পাশেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়৷ তখন পুলিশও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করে৷ এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এক পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল হক৷ পরে আরো একজন পুলিশ কনস্টেবল ময়মনিসংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন৷ তাঁর নাম আনসার উদ্দিন৷

অডিও শুনুন 01:45

‘দুর্বৃত্তরা স্কুলের পাশে টহলরত পুলিশের ওপর হামলা চালায়’

নিহত বাকি দু’জনের মধ্যে একজন নারী এবং অন্যজন হামলাকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ এছাড়া আবু মোকাদ্দিন নামের এক সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে৷ তার বাড়ি দিনাজপুরে৷ ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি ও বোমাসদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার আবু সায়েম৷ গুলিসহ একটি রিভলবারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

তিনি জানান, আহতেরা এ মুহূর্তে কিশোরগঞ্জের সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ এই ১২ জনের অধিকাংশই পুলিশ সদস্য এবং সকলেই বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয়েছেন৷

কিশোরগঞ্জ থেকে টেলিফোনে সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ঈদের জামাতের আগে শোলাকিয়া ঈদগাহ থেকে সিকি কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আজিমুদ্দিন স্কুলের পাশে টহলরত পুলিশ তল্লাসীর সময় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়৷ তাদের ছোড়া বিস্ফোরক ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে৷ তবে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পুলিশও পাল্টা গুলি করে৷

তিনি জানান, এ ঘটনায় একজন সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে এবং কয়েকজন পাশের কোনো একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে৷ সেখান থেকেই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করছিল৷ পুলিশ অবশ্য ইতিমধ্যে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে৷

জানা যায়, হামলার সময় সংখ্যায় সন্ত্রাসীরা সাতজনের মতো ছিল৷ বলা বাহুল্য, ঈদের দিনে এমন একটা ঘটনায় শোলাকিয়া ময়দানে থাকা মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ তবে তারপর সেখানে নির্বিঘ্নেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

ওদিকে রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই৷ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়৷ নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান৷

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রথম জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্বয়ং৷ এ সময় রাষ্ট্রপতির পাশে বসে ঈদ জামাতে অংশ নেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন৷ এছাড়াও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের এই প্রধান জামাতে অংশ নেন৷ আলাদা ব্যবস্থায় ঈদের জামাতে অংশ নেন নারীরাও৷

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাফিউর রহমান এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঈদগাহের জামাতে এবার অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি লোকের সমাগম হয়৷ ঈদগাহে জায়গা না পেয়ে বাইরে রাস্তার ওপরেই জামাতে অংশ নিতে হয় অসংখ্য মানুষকে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গি হামলা বা হুমকির কথা মাথায় রেখেই কঠোর নিরাপত্তা-তল্লাশীর মধ্য দিয়ে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করেন৷ তাই একটু বেশি সময় লাগে৷ তবে মানুষও সচেতন ছিলেন৷ তাঁরা জায়নামাজ ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে আনেনি৷''

অডিও শুনুন 01:40

‘ঈদগাহের জামাতে অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি লোকের সমাগম হয়’

বলা বাহুল্য, ঈদের জামাত উপলক্ষ্যে এবার বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ৷ বোমা নিষ্ক্রিয় করার ‘মেটাল ডিটেক্টর' ছাড়াও, জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পুরো অংশ ‘ডগ স্কোয়াড' দিয়ে তল্লাশি করা হয়৷ মাঠ ও তার আশেপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরাও৷

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনা ঘটে৷ রাতভর জিম্মি ঘটনার পর সকালে কমান্ডো অভিযান চলে৷ এ ঘটনায় ২০ জন জিম্মি নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন বিদেশি৷ হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি দল তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট' বা আইএস৷ সেই হামলার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও হামলার ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশে, তাও আবার ঈদের দিনে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়