1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সন্দেশ' ছাড়া সবই তো‘ ধর্ষকের দেশ'

পশ্চিমা বিশ্বে ‘জঙ্গিভীতি' নিয়ে বিস্তর কথা হয়েছে, হচ্ছে৷ জার্মানিতে স্বদেশের ‘পেগিডা'-র পর আলোচনায় ভারতীয় ‘ধর্ষকভীতি'৷ ভীত হতে, ভীতি দূর করতেও বোধবুদ্ধি দরকার৷ তা অধ্যাপকেরও কি বোধবুদ্ধি কম হয়? এই প্রশ্ন কি তোলা যায়?

ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরোধিতার নাম করে জার্মানিতে পেগিডা দাপাদাপি শুরু করা মাত্রই চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছিলেন, ‘‘মুসলমান মানেই জঙ্গি নয়৷ জার্মানিতে কোনো উগ্রতার স্থান নেই৷'' লাইপসিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আনেটে বেক-সিঙার বোধহয় তা শোনেননি, বা শুনে থাকলেও তা থেকে শিক্ষিকা হয়েও কিছু শেখেননি৷ শিখলে ভারতে ধর্ষণ হয় বলেই এক ভারতীয়কে কীভাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত করেন? এটাও কি উগ্রতা নয়?

ভারতে জার্মানির রাষ্ট্রদূত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লাইপসিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষিকাকে লিখেছেন, ‘‘‘ভারতে ধর্ষণ সমস্যা'-র কারণ উল্লেখ করে একটি ছেলেকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ না দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি৷ খুব স্পষ্ট করে একটা কথা বলছি, মনে রাখবেন, ভারত শুধু ধর্ষকের দেশ নয়৷''

আচ্ছা, কোন দেশে ধর্ষক নেই? প্রশ্নটা ছোটবেলায় বহুবার শোনা সেই প্রশ্নের মতো, আচ্ছা, কোন দেশে মানুষ নেই? জবাবটা নিশ্চয়ই আপনিও জানেন – হ্যাঁ, ‘সন্দেশ'৷ ধর্ষণহীন দেশ খুঁজতে গেলেও বোধহয় ওই একটা নামই আসবে – ‘সন্দেশ'৷

Symbolbild Protest gegen Vergewaltigungen in Indien

ধর্ষণ বেড়ে চলার সবচেয়ে বড় কারণ, বিচারহীনতা, কিংবা বিচারে দীর্ঘসূত্রতা

ভারতে ধর্ষণ নিয়ে বিবিসির তৈরি ‘ইন্ডিয়া'জ ডটার' নিয়ে চমৎকার একটি নিবন্ধ লিখেছেন বেলজিয়ামের অধ্যাপক জ্যাকব ডি রুভার৷ সেখানে তিনি তথ্যচিত্রটির দুর্বলতা এবং সমালোচনার দিকগুলো তুলে ধরেছেন, তবে ধর্ষণ যে ভারতে এখন দুশ্চিন্তার বিষয় সেই সত্যও অস্বীকার করেননি৷ একজন ইউরোপীয় হয়েও ইউরোপ এবং পাশ্চাত্যের সব দেশেই যে ধর্ষণ একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা সেই দিকটিও তুলে এনেছেন অধ্যাপক গ্রুভার৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারতে প্রতি ঘণ্টায় তিন জন নারী ধর্ষিত হয় – এই তথ্য জেনে ইউরোপের সংবাদ মাধ্যম ইদানীং খুব চেঁচাচ্ছে৷ তবে এ তথ্য উল্লেখ করতে তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন যে, ঘণ্টায় তিনজন ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন ১২৫ কোটি মানুষের দেশে৷ এক কোটি দশ লাখ মানুষের দেশ বেলজিয়ামেই কিন্তু প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একজন ধর্ষণের শিকার হয়৷ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের জনসংখ্যা ৫ কোটি ৬০ লাখেরও কম৷ সেখানে প্রতি বছর ধর্ষণের শিকার হয় প্রায় ৭৮ হাজার নারী৷ তার মানে সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ৯ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ করা হয়৷ জাতিসংঘের ২০১০ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে প্রতি বছর ১ হাজারের মধ্যে ১ দশমিক ৮ জন নারী ধর্ষিত হয়, বেলজিয়ামে সংখ্যাটা প্রায় ৩০, যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ দশমিক ৩ আর ব্রিটেনে ২৮৷'' বেলজিয়ামের অধ্যাপক এ সব তথ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, ধর্ষণ শুধু ভারতে নয়, সব দেশেই হয়, তথাকথিত উন্নত দেশগুলোও এক্ষেত্রে মোটেই পিছিয়ে নেই৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

তা সব দেশেই যখন ধর্ষন কম-বেশি হয়, তখন কোন দেশ বা কেমন দেশকে ‘ধর্ষকের দেশ' বলা যায়? বলার আগে কিসের ভিত্তিতে তা বলবেন সেটা ঠিক করতে হবে৷ ধর্ষণের আনুপাতিক হার, নাকি ধর্ষণকাণ্ডের বিচারের ভিত্তিতে? প্রথম মাপকাঠিতে ভারত বা আশপাশের কোনো দেশকে ধর্ষণের দেশ বলা মুশকিল৷ ধর্ষণের অনুপাতে অনেক এগিয়ে আছে এশিয়ার বাইরের কিছু দেশ৷ ‘দেশগুরু' যুক্তরাষ্ট্র সেখানেও আছে

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা খুবই ভয়াবহ৷ কতটা ভয়াবহ তা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটা ভিডিও দেখে আপনারাও বুঝে নিন৷ ক'দিন আগেই ওবামা বলেছেন , ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচজনে কমপক্ষে একজন নারী হয় ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন, নয়ত ধর্ষণের হাত থেকে কোনোভাবে বেঁচে দুঃস্বপ্নকে সঙ্গী করে জীবনযাপন করছেন৷ এ নিয়ে আক্ষেপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবস্থার দ্রুত উন্নতি কামনা করেছেন৷

সে কামনা বিশ্বের সব দেশের সব বিবেকবান মানুষই করছেন৷ তবু ধর্ষণ হচ্ছে৷ কোনো কোনো দেশে ধর্ষণ না কমে বাড়ছে৷ বেড়ে চলার সবচেয়ে বড় কারণ, বিচারহীনতা, কিংবা বিচারে দীর্ঘসূত্রতা৷

এই সমস্যাটি শুধু ভারত কেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও আছে৷ তাই বলে তো কোনো দেশকে ঢালাওভাবে ধর্ষকের দেশ, দুর্নীতির দেশ, পেগিডা কিংবা নব্যনাৎসির দেশ, জঙ্গিবাদ অর্থাৎ আইএস, তালেবান, আল-কায়েদা বা বোকো হারামের দেশ ধরে নেয়া যায় না৷ এমন ভ্রান্তিবিলাসিতায় কাউকে অধিকার-বঞ্চিত করা শুধু ভুল নয়, অপরাধ৷ কতিপয়ের দায় সবার ওপরে চাপানো ভারী অন্যায়৷ এইটুকু না বুঝলে তো প্রফেসরের জ্ঞান-গরিমার ষোলো আনাই মিছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন