1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগে হামবুর্গে মসজিদ বন্ধ

জার্মানির বন্দর নগরী হামবুর্গে অবস্থিত একটি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ মসজিদটিকে সন্ত্রাসী তৎপরতার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই অভিযোগে কর্তৃপক্ষ মসজিদটি সোমবার সকালে বন্ধ করে দেয়৷

Taiba-Moschee in Hamburg

মসজিদ গেটে পুলিশ

সোমবার খুব সকালে হামবুর্গের জাঙ্কট গিয়র্গ নামে জায়গায় অবস্থিত মসজিদ আল কুদস'এ ২০ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল অভিযান চালায়৷ দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তারা সেখানে তল্লাশি চালায় এবং পরে মসজিদটি বন্ধ করে দেয়৷ একইসঙ্গে মসজিদের সঙ্গে অবস্থিত তাইবা নামে জার্মান আরব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ মসজিদটিতে আকস্মিক পুলিশী অভিযান এবং তা বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানকার অনেক মুসলমানই হতভম্ব হয়ে পড়েছেন৷ কী কারণে হঠাৎ করে মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হল, সেটি নিয়ে স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে৷

Taiba-Moschee in Hamburg

মসজিদের গেট সিল করে দেওয়া হয়েছে

এই ব্যাপারে হামবুর্গের স্বরাষ্ট্র বিভাগ একটি বিবৃতি দিয়েছে৷ তাতে তারা মসজিদ এবং জার্মান আরব সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে৷ স্বরাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ফ্রাঙ্ক রেশ্রাইটার বার্তা সংস্থা এপি'কে বলেছেন, মসজিদটি ইসলামি জঙ্গিদের একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে যারা তথাকথিত জিহাদ কিংবা পবিত্র যুদ্ধে অংশ নিতে চায়৷ গোয়েন্দারা অনেকদিন ধরে এই মসজিদটির ওপর নজর রেখে আসছিল৷ তিনি আরও জানান, মসজিদটিতে তল্লাশি চলছে এবং প্রয়োজন হলে সেখানকার জিনিসপত্র জব্দ করা হবে৷

Police Seize the Documents from the mosque

চলছে জিনিষপত্র জব্দ

বার্তা সংস্থাগুলোর খবর থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১১ই সেপ্টেম্বরে হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন অন্তত তিন ব্যক্তি মসজিদটিতে নিয়মিত বৈঠক করতো৷ তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মোহাম্মদ আতা, যে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার সময় বিমান হাইজ্যাকারদের মধ্যে ছিল৷ তার হাইজ্যাক করা বিমানটিই প্রথমে টুইন টাওয়ারে গিয়ে আঘাত হানে৷ এ ব্যাপারে হামবুর্গের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা মানফ্রেড মুর্ক বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে মসজিদটি গোটা জার্মানির জিহাদপন্থীদের একটি প্রতিকে পরিণত হয়েছে, কারণ এখানে টুইন টাওয়ারে হামলাকারীদের স্মৃতি জড়িত রয়েছে৷ একইসঙ্গে এটা উগ্রপন্থীদের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে৷' মানফ্রেড মুর্ক আরও বলেন, মসজিদটির ইমাম শুক্রবারের খুতবায় প্রায়ই উগ্রবাদ প্রচার করতেন৷

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর এই মসজিদটি থেকে ১০ সদস্যের একটি দল পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানে ভ্রমণ করেছে৷ আর এর মধ্যে অন্তত একজন, পাকিস্তানের একটি জঙ্গি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ পরবর্তীতে একটি ভিডিওতেও ওই ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ