1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

সনাতন বইয়ের ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার?

আজকের এই ডিজিটালের যুগে বইয়ের বাজারে চলছে তীব্র প্রতিযোগিত৷ তা সত্ত্বেও সনাতন মুদ্রিত বই এখনও টিকে আছে৷ বইয়ের দোকান ও প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সরবরাহের তেমন অভাব নেই৷

কিছুদিন আগেও পুস্তকের বাজারের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সনাতন মুদ্রিত বইয়ের ইতি ঘটবে বলেই ভবিষ্যদবাণী করেছিলেন৷ আজকের ডিজিটালের যুগে ইলেকট্রনিক বা ই-বইয়ের জয়যাত্রা যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে ছাপা বইয়ের টিকে থাকা কষ্টকর হবে, এই ছিল তাদের ধারণা৷ বাস্তবিকই এক্ষেত্রে চিত্রটা অনেক বদলেছে৷ বেশ কিছু বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ ছোট ছোট কিছু প্রকাশনা সংস্থাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ কোনো কোনো সংস্থা মুদ্রিত বইয়ের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে ই-বইয়ের দিকেই ঝুঁকেছে৷

হতাশাব্যঞ্জক নয়

তবে হতাশাব্যঞ্জক সব ধরনের ভবিষ্যদবাণী পুরোপুরি ফলেনি৷ এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ৷অনেক বইয়ের দোকান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য সুচিন্তিতভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছে৷ প্রকাশনা সংস্থাগুলি যদি খ্যাতনামা লেখকদের লেখা এবং আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু তুলে ধরতে পারে, তাহলে মুদ্রিত বইকে ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন চিন্তাভাবনা করতে হবে না৷ এছাড়া বইকে নতুন রূপে সাজাতে হবে যাতে তারা ই-বইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, হতে পারে বিকল্প৷ আর এসব পদক্ষেপ নিতে পারলেই চিরাচরিত মুদ্রিত গ্রন্থ তার ভবিষ্যতের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিন্ত হতে পারবে৷

ইদানীং বইয়ের ডিজাইনের ব্যাপারে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে৷ বলেন গ্রন্থ শিল্প ফাউন্ডেশনের আলেক্সান্ড্রা সেন্ডার৷ ওফেনবাখের গ্রন্থ ও লিপিকলা মিউজিয়ামের পরিচালক স্টেফান সোলটেকও এই প্রবণতাটা লক্ষ্য করেছেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমি লক্ষ্য করেছি, বইয়ের নান্দনিক দিকটার প্রতি যেমন সাধারণ পাঠক তেমনি আইটি এবং গ্রাফিক বিভাগের লোকজনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷''

অনেকেই আশাবাদী

ভাগেনবাখ প্রকাশনা সংস্থার প্রধান সুসানে শ্যুসলার সযত্নে তৈরি বইয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী৷ কিছু কিছু গ্রন্থ শুধু মুদ্রিত আকারেই বের হতে পারে৷ বইয়ের দোকানগুলিতে এই প্রকাশনা সংস্থার টকটকে লাল রং-এর লিনেনের বাঁধাই করা বইগুলি চোখে পড়ার মতো৷ ‘আউফবাউ' প্রকাশনা সংস্থার ক্রিশ্টিয়ান ড্যোরিং পুস্তক সিরিজ ‘ভিন্ন ধরনের গ্রন্থাগার'-এর দায়িত্বে রয়েছেন ২০১১ সাল থেকে৷ ১৯৮৫ সাল, অর্থাৎ অ্যানালগের যুগ থেকেই এই সংস্থার বইয়ের সাজসজ্জা মানুষকে আকৃষ্ট করছে৷

গ্রন্থকে শুধু বিষয়বস্তুর দিকে নজর না দিয়ে ‘পোশাকে'-র দিকেও মন দিতে হবে৷ মলাট, কাগজপত্র, লেখার স্টাইল, রঙ-চঙ, বাইন্ডিং এসব কিছু আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে৷ অর্থাৎ বইটি হাতে নিয়ে যেন ভালো লাগে৷ ছোট ছোট আরো কিছু প্রকাশনা সংস্থাও চোখ জুড়ানো আবরণে সাজিয়ে বইকে বাজারে নিয়ে আসছে৷ পড়তেও ভালো লাগে এসব বই৷

অনেক দোকানের দ্বার রুদ্ধ

এ সব সত্ত্বেও অসংখ্য বইয়ের দোকানের দ্বার বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ এক্ষেত্রে বিশেষ করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে৷ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত ছোটখাট চটপটে দোকানগুলি সহজেই এগিয়ে যাচ্ছে৷

আমাজনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি বইকে ব্যবসার সামগ্রী হিসাবে দেখে৷ শিল্প ও সংস্কৃতির দিকটি চোখ এড়িয়ে যায় তাদের৷ বলেন, মিউনিখের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের দোকান লেমকুলের মিশাইল লেমলিং৷ এই জন্য তাদের এই ক্ষেত্রে টিকে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে৷

ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত পরামর্শদান, বিশেষ করে দোকানের সাজানো গুছানো পরিবেশ মানুষকে টানতে পারে৷ আর ছোট ছোট বইয়ের দোকানগুলি এদিকটায় খেয়াল রাখে৷

সবশেষে বলা যায় উদ্যোগী প্রকাশকরা এগিয়ে এলে এবং বিষয়বস্তু ও বাহ্যিক দিক দিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে এই ডিজিটালের যুগেও মুদ্রিত বই-এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন