1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সকালের নাস্তা নিয়ে শিল্প

সকালে উঠে ঘুমচোখে নাস্তা বা প্রাতরাশ খেয়ে কাজে দৌড়ানোর সময় খাবারের চেহারা আর কেই বা দেখে! কিন্তু রুটি-মাখন-টমেটোর সৌন্দর্যও যে শিল্প হয়ে উঠতে পারে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন নরওয়ের এক নারী৷

ইউরোপে বলে, প্রাতরাশই হল দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাওয়া৷ নরওয়েবাসী ইডা শিভেনেস-এর ক্ষেত্রে কথাটা অতিমাত্রায় সত্যি৷ প্রাতরাশ তাঁর জীবনই বদলে দিয়েছে৷ ইডা-র ব্রেকফাস্ট ক্রিয়েশন্স ইন্টারনেটে একটা বিরাট হিট৷ ইডা বললেন, ‘‘আমি যে এ কাজ শুরু করেছি, সেটা নিছক আকস্মিক ঘটনা৷ সকালে অফিস যাওয়ার আগেই শুধু সময় থাকতো৷ আমার ব্রেকফাস্ট করতে খুব ভালো লাগে৷ সৃজনশীল কিছু একটা করার সেটাই ছিল সুযোগ৷''

ইডা শিভেনেস শিক্ষা এবং পেশায় সমাজতত্ত্ববিদ৷ তাঁর শেষ চাকরি ছিল নরওয়ের পরিসংখ্যান দপ্তরে৷ ইডা-র সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে প্রাতরাশের খাবার প্লেটে৷ ইডা বলেন, ‘‘দু'টি জিনিস দেখতে আমার ভালো লাগে: লোকে কী খাচ্ছে, সেটা খুব ইন্টারেস্টিং৷ একই সঙ্গে খাবার নিয়ে অপ্রত্যাশিত কিছু একটা করা৷ বলতে কি, খাবার নিয়ে খেলা করা উচিত নয়৷ আমি কিন্তু অন্য কথা বলি৷''

ইডা রোজ সকালে তাঁর ব্রেকফাস্টের প্লেটটির ছবি তোলেন এবং সেগুলোকে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন৷ ইডা শিভেনেস ওরফে ইডাফর্স্ক-এর শীঘ্রই বহু ফ্যান জুটে যায়৷ দেড় লাখের বেশি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ইডা-র ব্রেকফাস্ট প্লেট সংক্রান্ত পোস্টিংগুলি ফলো করে থাকেন৷ ইডাই একমাত্র শিল্পী নন, মালয়েশিয়ার শিল্পী হং ই থেকে শুরু করে মার্কিন গৃহিণী সামান্থা লি অবধি৷

ফুড আর্ট-এর জনপ্রিয়তা

অনলাইনে খাবারের প্লেটের ছবির বাজার ভালোই চলেছে৷ ইডা বলেন, ‘‘অনলাইন ফটো প্ল্যাটফর্মের বিরাট সুবিধে হল, সরাসরি ফিডব্যাক পাওয়া যায়৷ তারপর আমি আমার নিজের ব্লগ শুরু করেছি, লিখতে ভালো লাগে বলে – আমি যে সব জিনিস থেকে প্রেরণা পাই, তার ব্যাপারে৷ ব্লগে আমার ফুড আর্টের রেসিপিগুলোও থাকে৷ আবার ভালো ব্রেকফাস্টের রেসিপি-ও৷''

তাঁর ‘প্রাতরাশ শিল্পকলার' জন্য ইডা শিভেনেস কোনোরকম কৃত্রিম খাবারের রং ব্যবহার করেন না৷ খাবারদাবারও একেবারে সেরা কোয়ালিটির হওয়া চাই৷ নিজের সৃষ্ট ‘শিল্পকলা' নিজেই চেখে দেখেন ইডা৷

মিউজিয়ামে অনুপ্রেরণা

২৯-বছর-বয়সি ইডা শিভেনেস তাঁর নিজের শহর অসলো-র মিউজিয়ামগুলোয় ঘুরে দেখেন নতুন আইডিয়া পাবার জন্য৷ অভিব্যক্তিবাদী চিত্রশিল্পী এডভার্ড মুঙ্ক-এর ছবিগুলো তাঁর বিশেষ প্রিয়৷ ইডার ‘আর্ট অন টোস্ট' পর্যায়ে মুঙ্ক-কেই সবচেয়ে বেশি অনুকরণ করেছেন তিনি৷ ইডা বলেন, ‘‘এভাবে আমার দু'টি প্রিয় বস্তু, খাবার আর শিল্পকলাকে এক করতে পারি৷ মাঝে মাঝে আমি নামকরা সব ছবির উদ্ভট নকল করি৷ খাবারদাবারের মধ্যে যে কতোটা চমক থাকতে পারে, সেটা দেখানোর চেষ্টা করি৷''

তা দেখতে হয় এইরকম: পাঁউরুটি-টোস্টের উপর মহান শিল্পকলা৷ কলেকশানে ইতিমধ্যেই ২৩টি ব্রেকফাস্টের ছবি, এবং আরো যোগ হচ্ছে৷ ইন্টারনেট সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে চাকরির অফারও আসতে শুরু করেছে৷ ইতিমধ্যে ইডা শিভেনেস নরওয়ে, ডেনমার্ক আর জার্মানি মিলিয়ে পাঁচটি পত্রিকায় তাঁর নিজের কলাম লেখেন৷

14.10.2013 DW Fit und Gesund Frühstück 17

ফাইল ফটো

বাণিজ্যিক সাফল্য

নরওয়ে-র একটি প্রকাশনী খবরের কাগজে ইডা-র সম্পর্কে পড়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে, ইডা-র ফুড আর্ট নিয়ে বই ছাপানোর ব্যাপারে৷ সামলাজেট প্রকাশনীর বেন্টে রুজে, ‘‘ইডা-র প্রজেক্টের বিশেষত্ব হল: এটা সমঝদার মহলের জন্য নয়৷ খুবই সহজ, সকলেই করতে পারে, এমন জিনিস৷ কোনো ভান নেই৷ নিখুঁত হবার দরকার নেই৷ মজা করাটা, মজা পাওয়াটাই হল আসল ব্যাপার৷''

নরওয়েজীয় ভাষায় তাঁর বই ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, ইংরিজি ভাষাতেও বেরিয়েছে অক্টোবরের মাঝামাঝি৷

ইডা শিভেনেস ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে শুরু করেছেন৷ সারা পৃথিবী থেকে লোকে তার খোঁজখবর করে৷ ইডা নিজে চাকরি ছেড়েছেন, শুধু ব্রেকফাস্ট আর্ট দিয়েই তিনি আজ স্বাবলম্বী, স্বনির্ভর৷ ইডা বলেন, ‘‘আমি এবার আমার পুরো সময়টা ফুড আর্টে দেবো, অন্তত আগামী এক বছর৷ দেখব, এর মধ্যে কী ঘটে অথবা ঘটে না৷ যেমন যেমন ঘটবে, তেমন তেমন মানিয়ে চলব৷ এর মধ্যেই কতো কিছু ঘটেছে, যা আমি প্রত্যাশাই করিনি৷ এবার যেমন চলছে, তেমনই চলতে দেবো৷''

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তো ইতিমধ্যেই তাঁর বইতে রয়েছে: খাবারদাবার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক