1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সংস্কৃত নয়, জার্মান ভাষাই থাকুক সিলেবাসে

ভারতে ত্রিভাষা সূত্রের স্কুল সিলেবাস থেকে জার্মান ভাষার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা ঢোকানোর যে সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের মানব সম্পদ বিকাশ মন্ত্রণালয় নিয়েছে, তা অত্যন্ত অবিবেচক এবং বস্তুত হঠকারি৷ মনে করেন অনিল চট্টোপাধ্যায়৷

ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে প্রায় ৮০ হাজার পড়ুয়া গত তিন বছর ধরে জার্মান ভাষা পড়ে আসছে৷ ফাইনাল পরীক্ষার আর মাত্র মাস চারেক বাকি থাকতে দুম করে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে সরকারের ছিনিমিনি খেলা ছাড়া আর কী বলা যায়? এই চার মাসে নতুন একটা ভাষা শিখে পরীক্ষা দেয়া যে কোনোমতেই সম্ভব নয়৷ আর শুধু পড়ুয়া কেন? শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়বেন সমস্যায়৷ তাছাড়া জার্মান ভাষার পঠন-পাঠনের উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরিতে লক্ষ লক্ষ ইউরো খরচ করে চলেছে জার্মান সরকার৷

শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের আপত্তিতে অবশেষে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধন করে বলেছেন, তৃতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃতের পরিবর্তে কেউ অন্য কোনো ভারতীয় ভাষাও নিতে পারবে৷ এটা আসল সমাধান নয়৷ প্রশ্নটা হলো, সরকার যেখানে জোর দিচ্ছে দক্ষতার ওপর, ছড়িয়ে দিতে চাইছে গোটা বিশ্বে ভারতের দক্ষ মানব সম্পদ, সেখানে সোপান হবে জার্মান ভাষার মতো বিশ্বস্বীকৃত ভাষার বুতপত্তি৷

আমি বলতে চাইছি, ভারতীয় ভাষার সঙ্গে জার্মান ভাষাটা শেখা থাকলে বিশ্বে, বিশেষ করে জার্মানিতে তাদের কাজে-কর্মে এবং পেশাগত দক্ষতার দিক থেকে জায়গা করে নেয়াটা অনেক সহজ হবে৷ প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী প্রতি বছর জার্মানিতে যায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উচ্চশিক্ষায় এবং পেশাগত কাজে৷ সেখানে সংস্কৃত ভাষার জ্ঞান তাদের বড়জোর হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত গবেষক করে তুলতে পারে৷ তাই আমি মনে করি, ত্রিভাষা সূত্র অনুযায়ী পড়ুয়াদের তৃতীয় ভাষা বেছে নেবার সুযোগ দেয়া উচিত৷

Bildgalerie Bengali Redaktion - Anil Chatterjee

ডিডাব্লিউ বাংলার দিল্লি প্রতিনিধি অনিল চট্টোপাধ্যায়

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় শিক্ষানীতির রূপরেখা তৈরি করে দিতে পারেন, মানদণ্ড স্থির করে দিতে পারেন, কিন্তু সার্বিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তা রূপায়নের দায়িত্ব থাকবে শিক্ষাবিদদের ওপর৷ তাঁরা বলবেন কিভাবে ভারতের তরুণ সমাজ তাঁদের পেশাগত কাজকর্ম এবং পঠন-পাঠনে দক্ষতার নজির রাখতে পারে বহির্বিশ্বে৷ পরিতাপের বিষয় ভারতে সব কিছুতেই একটা রাজনীতির ছায়া৷ না হলে সংস্কৃত ভাষা নিয়ে সরকারের এত হৈচৈ করার কারণ নেই৷ আম আদমি পার্টি এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আসরে নেমে পড়েছে৷ অবিলম্বে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করার দাবিও তুলেছে৷ আর আমারও মনে হয় সেটা করা দরকার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন