1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সংসদ ভেঙে দিলেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে মেয়াদ শেষ হবার দুই মাস বাকী থাকতেই দেশের জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন৷ সরকারি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী ৮ই এপ্রিল নয়া নিবার্চন অনুষ্ঠিত হতে পারে৷

default

প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে

গত মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী এবং সাবেক সেনা প্রধান গ্রেফতাকৃত জেনারেল শরৎ ফোনসেকা-কে সামরিক আদালতে বিচার করবার ঘোষণা দেবার এক ঘন্টার মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেবার এই ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে৷

সরকারের এক মুখপাত্র জানিযেছেন, নির্বাচন কমিশন নতুন সাধারণ নির্বাচনের তারিখের ঘোষণা দেবেন৷ আগামী ৮ই এপ্রিল নয়া নিবার্চন অনুষ্ঠিত হতে পারে৷ সে দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ২২ এপ্রিল৷ এ মাসেরই কোন একদিন নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷

কিন্তু কেন দুই মাস বাকী থাকতেই সংসদ ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে? গত মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ব্যাপক ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলেও সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল ফোনসেকা সেই ফলাফল না মেনে অভিযোগ করেন কারচুপির৷ এরপর থেকেই ফোনসেকা এবং তার দলের নেতাকর্মীদের উপর নেমে আসে সরকারি বাহিনীর খড়্গ, এই অভিযোগই করছেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি৷ গত সোমবার তাদের নেতা ফোনসেকাকে যখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, তখন তিনি আদতে সংসদ নির্বাচন নিয়েই কথা বলছিলেন নিজ দল এবং অন্য দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে৷ সেই আলোচনায় আসন্ন নির্বাচনে মোর্চা গঠন করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তই নিচ্ছিলেন তারা৷ এ ধরণের মোর্চা রাজাপাকসের দলের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

বিরোধী দল মার্কসবাদী জেভিপি পার্টির প্রধান সোমাওয়ানসা আমারাসিংগে জানান, জেনারেলকে গ্রেফতারের সময়ে তারা আগামী নির্বাচনে জোট গঠনের বিষয়েই আলোচনা করছিলেন৷ জেনারেলকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করতে এলে

Sri Lanka Regierung Tamilen

মানবাধিকার চাইছেন শ্রীলংকার সকলে

তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করার কথা বলেছিলেন৷ কিন্তু সে কথা মোটেই কর্ণপাত না করে, তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তিনি একে নির্যাতনের সঙ্গেই তুলনা করেছেন৷

শ্রীলংকার একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাকিয়াসোনথি সারাভান্নামুত্তু সেখানকার সরকারের কর্মকান্ড সম্পর্কে বলছেন, বর্তমান কমর্কান্ড শ্রীলংকার গত তিন থেকে চার বছর ধরে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হবারই প্রমাণ৷ এখানে বিরোধী পক্ষ কিংবা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির উপরই কেবল যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তাই নয়, গণমাধ্যমও এর অন্যতম শিকার৷

জেনারেলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবার দেশব্যপী কর্মসুচি দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো৷

এদিকে, প্রতিদিনই নতুন নতুন অভিযোগ আনা হচ্ছে গ্রেফতারকৃত জেনারেলের উপরে৷ মঙ্গলবার বলা হয়েছে, সেনা প্রধান থাকাকালে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের গোপন সিদ্ধান্তের কথা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বলে দিতেন৷ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেনারেল ফোনসেকা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের করছিলেন৷

এদিকে, জেনারেল ফোনসেকার স্ত্রী আনোমা জানিয়েছেন, তাঁকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হচ্ছে না৷ তাঁর কাছে জরুরী ঔষুধপত্রও পৌঁছানো যাচ্ছে না৷ তিনি এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ ২০০৬ সালে সেনানিবাসের উপর তামিল গেরিলারা হামলা করলে জেনারেল ফোনসেকা গুরুতর আহত হন৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়