‘সংবাদ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন′ | বিশ্ব | DW | 09.01.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘সংবাদ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিন'

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব সম্প্রদায় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন৷ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়ন বন্ধ এবং সংবাদ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা৷

‘দমন-পীড়ন' বন্ধের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বাংলাদেশ সরকারকে বিরোধী দলের ওপর ‘দমন-পীড়ন' বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে৷ তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও গণমাধ্যমের ওপর বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করা উচিত৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গত বছরের ৫ই জানুয়ারি বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত যে নির্বাচন বর্জন করেছিল সেই ‘বিতর্কিত' নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কর্মসূচি ঘোষণার পর তাদের ওপর ‘কঠোর' হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ৷ সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েক'শ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

বিবৃতিতে এইচআরডাব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘সরকারের নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং গণমাধ্যমের ওপর বিধি-নিষেধ বর্তমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে কেবল আরও উত্তপ্তই করবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জনগণকে রক্ষার অধিকার কর্তৃপক্ষের রয়েছে৷ তবে তা যেন মানবাধিকার ও আইনের লঙ্ঘন করে না হয়৷''

বিবৃতিতে বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘একুশে টিভি'-র চেয়ারম্যান আবদুস সালামের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে অ্যাডামস বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক বলে দাবি করা একটি সরকারের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না৷''

Unruhen in Bangladesch 05.01.2015

নিজের অফিসে অবরুদ্ধ বিরোধী নেত্রী

আটকদের মুক্তি দাবি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের ব্যাপারে তদন্ত এবং আটকদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে৷

সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতা এবং একজন খ্যাতিমান সাংবাদিককে আটক করেছে৷ আর গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছে৷

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষক আব্বাস ফায়েজ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘গত বছরের ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে৷ এক বছর পর এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে আবার প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের দমন পীড়ন শুরু করেছে৷''

বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে৷ অন্যদিকে একুশে টেলিভিশন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করেছে – এই অভিযোগে চ্যানেলটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

‘বিতর্কিত' নির্বাচনের বছর পূর্তিতে অবরোধ কর্মসূচি দেয়ায় বিএনপি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে তাঁর গুলশানের অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ৷

বিবৃতিকে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই তার প্রতিশ্রুত মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে৷ গণমাধ্যম ও বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে৷ বন্ধ করতে হবে বিরোধীদের দমন-পীড়ন৷

ফিচ রেটিং

আর্থিক খাত ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক ফিমালাক এস এ এবং নিউইয়র্ক ভিত্তিক হার্টস কর্পোরেশনের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত শতবর্ষের পুরানো আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ফিচ রেটিং-ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে৷

ফিচ রেটিং বলছে, ‘‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে সংঘটিত কর্মকাণ্ড দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷ বিদেশী বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাবিত হবে৷ পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদেশী মুদ্রা অর্জনের অন্যতম তৈরি পোষাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷''

সংস্থাটি আরও বলছে, ‘‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা আগের বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে৷ ঐ বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়৷ ২০১৫ সালে আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ যা খুবই উদ্বেগের৷ কেননা এতে বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ হারাবে, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের উচিত, দেশের স্বার্থে, ইতিবাচক অর্থনীতির স্বার্থে সহিংসতা বন্ধ করা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন করা৷''

উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন, মর্মাহত, ব্যথিত ও চিন্তিত৷ চলমান ঘটনা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়৷ বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের উচিত অনতিবিলম্বে নিজেদের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা৷''

বাংলাদেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে যা ঘটছে তা শুভকর নয়৷ এমন অবস্থার ফাঁকে অশুভ শক্তি ফাঁদ পেতে থাকে৷ যা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক নয়৷ সমাধানের চাবিকাঠি প্রধান দুই নেতার হাতে৷ ব্যক্তিগত আক্রোশ বাদ দিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে৷ স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দুই নেতাকেই পথ বের করতে হবে৷ তাদের এক টেবিলে বসতে হবে৷ এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই উদ্যোগ নিতে হবে৷ কেননা তিনি সরকারে আছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়