1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সংবাদমাধ্যম আইএস-র মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রামের দোসর?

সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট’-এর হত্যাকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার অর্থ সন্ত্রাসবাদীদের প্রচারণায় সাহায্য করা৷ এমনটাই মনে করেন ডিয়ানা হোডালি৷

মাসের পর মাস ধরে আইএস নামক সন্ত্রাসী সংগঠনটি গোটা বিশ্বকে ত্রাসের মধ্যে রেখেছে৷ স্বঘোষিত ‘ইসলামিক স্টেট' ঢাক পিটিয়ে প্ররোচনার খেলা খেলে চলেছে৷ বন্দি বিনিময় নিয়ে তারা এমন সুরে আলোচনা করছে, যেন তারা স্বীকৃত বৈধ রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়ে গেছে৷ সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে পণবন্দিদের হত্যার নৃশংস দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও চালাচালি হচ্ছে৷ বার বার শোনা যাচ্ছে কাতর আবেদন – ‘‘এই সব ছবি দেখিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসবাদীদের দোসর হয়ে উঠবেন না৷'' তবে অনেক ইউজার তার তোয়াক্কা করছেন না৷ আবার অনেকে সেই সব ভয়ংকর দৃশ্যের ছবি আরও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, কারণ তাঁরা বাকিদের জানাতে চাইছেন আইএস আসলেই কতটা বর্বর৷ কিন্তু সন্ত্রাসী মিলিশিয়া বাহিনী হিসেবে আইএস যে দুঃস্বপ্নকে বাস্তব করে তুলছে, তা জানতে আর কি কিছু বাকি আছে? তার জন্য কি সত্যি এই সব ছবি ও ভিডিও দেখতে হয়? উত্তর হলো – না, একেবারেই না৷

Diana Hodali, Multimediaredaktion Regionen Bonn

ডিয়ানা হোডালি

সংবাদমাধ্যমও একই বিড়ম্বনায় পড়েছে৷ ইন্টারনেটে প্রকাশিত এই সব ভিডিও দেখে অনেক সাংবাদিক ভাবছেন, এগুলি কি বাকিদের দেখানো উচিত? এমন জঘণ্য অপরাধের তীব্রতাই তো তা নিয়ে রিপোর্ট করার কারণ৷ এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও নিয়ে তাই দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে৷ একদিকে অ্যামেরিকার দক্ষিণপন্থি রক্ষণশীল টেলিভিশন কেন্দ্র ফক্স নিউজ জর্ডানের বন্দি পাইলটের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের গোটা ভিডিওটাই তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে৷ সিএনএন তার ঠিক বিপরীত সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ জার্মানির টেলিভিশন চ্যানেলগুলিও সেই ভিডিও একেবারেই দেখায় নি৷ ইউটিউব আপলোড করা সেই সব ভিডিও যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে৷ তবে তার কোনো ফল হচ্ছে না, কারণ আইএস অনুগামীরা মহা আনন্দে খোদ ফক্স নিউজের ওয়েবসাইট থেকেই ভিডিওর লিংক শেয়ার করে চলেছে৷ তাদের ঘৃণার পাত্র পশ্চিমা বিশ্বই সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছে৷

মধ্যপন্থাও আইএস-কে সাহায্য করছে

সংবাদমাধ্যমের একটা বড় অংশই মধ্যপন্থা অবলম্বন করে চলেছে এবং ভিডিও থেকে কিছু স্থিরচিত্র তুলে ধরছে৷ এমনকি জার্মানিতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট'-এর কীর্তিকলাপ জনসমক্ষে তুলে ধরার একটা তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ যুক্তি হিসেবে বার বার বলা হচ্ছে, আইএস যে কতটা নৃশংস ও ভয়ংকর হতে পারে, সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে৷ কিন্তু সমস্যা হলো, এমন প্রচারণার মাধ্যমেই এই সন্ত্রাসী সংগঠন বিনা সমস্যায় তাদের বার্তা ও প্রতীক গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারছে৷ কালো পতাকার সামনে মুখোশ পরা জল্লাদ ও কমলা পোশাক পরা বন্দিদের ছবি কে না দেখেছে? প্রত্যেক টেলিভিশন কেন্দ্র, প্রত্যেক পত্র-পত্রিকা, প্রত্যেক অনলাইন পোর্টাল যখন আইএস-এর তৈরি ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে, তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা সন্ত্রাসবাদীদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হয়ে পড়ে৷

কারণ আইএস-এর তোলা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে তার পছন্দমতো ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সাহায্য করছে৷ আইএস মোটেই জনসাধারণের হৃদয় জয় করতে চায় না৷ আইএস তার ক্ষমতা তুলে ধরতে চায়৷ আইএস ভয় দেখাতে চায় – বিশেষ করে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী বা অন্য যে কোনো শক্তিকে, যারা ‘ইসলামিক স্টেট'-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা ভাবছে৷ আইএস তার প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দিতে চায়৷ তাদের বার্তার সারমর্ম হলো ‘‘আমাদের কাছে আসার চেষ্টা করলে কী পরিণাম হয়, তা নিজেরাই দেখে নাও৷'' এতে কাজও হচ্ছে৷ গত বছর তিন হাজারেরও কম যোদ্ধা নিয়ে আইএস বিনা বাধায় ইরাকের মোসুল শহর দখল করতে সক্ষম হয়েছে৷ তাদের ভয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীর তিনটি ডিভিশন তাদের অস্ত্রশস্ত্র, সাজসরঞ্জাম ফেলে রেখে পলায়ন করেছিল৷ জর্ডানের বন্দি পাইলটের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত আইএস-এর উপর বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল৷

চাই সংবাদ পরিবেশনের নতুন নীতিমালা

আইএস-এর তৈরি ছবি ও ভিডিও প্রচারের পরিণতি হিসেবে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় সমাজের মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট'-এর সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই৷ তারা শুধু ধর্ম থেকে ফায়দা তুলছে, সেটিকে নোংরা, বিকৃত করে তুলছে৷ তা সত্ত্বেও নৃশংস দৃশ্যের ছবি ইসলাম-বিদ্বেষ আরও বাড়িয়ে তুলছে৷ সমাজে একঘরে হয়ে পড়লে কী ঘটতে পারে, তারও দৃষ্টান্ত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে৷ যেমন জার্মানি থেকে অনেকে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস-এর যোদ্ধা হিসেবে যোগ দিয়েছে৷ এমন প্রবণতা এখনো তীব্র আকার ধারণ না করলেও অবাস্তব নয়৷

সংবাদমাধ্যম ও জনসংযোগের নিখুঁত কৌশলের সাহায্যে আইএস লড়াই না করেই সংগ্রামে জিতে বসে আছে৷ বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই আইএস-এর পেশাদারি ‘পাবলিক রিলেশনস'-কে পাত্তা দেয়নি৷ সন্ত্রাসবাদীরা সব কিছু নিখুঁতভাবে গুছিয়ে নিয়েছে৷ তাদের কাছে লেখক, সম্পাদক, ক্যামেরাম্যান – সব আছে৷ মুক্ত সমাজে সংবাদ মাধ্যম কী ভাবে কাজ করে, আইএস তা ভালোভাবে রপ্ত করেছে৷ অর্থাৎ তারা জানে, সবাই প্রতিনিয়ত চাঞ্চল্যকর ‘স্টোরি'-র খোঁজে ছুটছে৷ আইএস ও তাদের জাতভাইরা সংবাদমাধ্যমের জগতকে এবার সংবাদ পরিবেশন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা রচনা করতে বাধ্য করছে, যাতে কেউ আর তাদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ না করে৷ এখন তার সময় এসে গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন