1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সংবাদমাধ্যমে নারীর অবস্থান এখনো তলানিতে

সংবাদমাধ্যমে নারীর অবস্থান আজও তলানিতে পড়ে আছে৷ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রধান নাসিমুন আরা হক মিনু জানান, ‘‘দেখতে সুন্দর হওয়ার কারণে নারী ‘প্রেজেন্টার' আমরা পাচ্ছি, কিন্তু নীতিনির্ধারণী পদে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না৷’’

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে কত নারী কাজ করেন তার সাম্প্রতিক কোনো পরিসংখ্যান নেই৷ তবে নাসিমুন আরা হক মিনুর কথায়, দেশে পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশন মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমে কর্মরত নারীর সংখ্যা এক হাজার৷ অন্যদিকে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন বা বিসিডিজেসি-র কয়েক বছর আগের জরিপ অনুযায়ী, এই সংখ্যা মোট সংবাদমাধ্যম কর্মীর শতকরা ছয় ভাগ৷

গত অক্টোবরে অবশ্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪-এর সাংবাতিক শাহনাজ মুন্নি তাঁর এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘‘প্রিন্ট মিডিয়ায় নারীর সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগ আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শতকরা ২৫ ভাগ৷''

অডিও শুনুন 08:20

‘রিপোর্টার বা নীতিনির্ধারণী পদে নারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপভাবে বাড়ছে না’

আরেকটি হিসাব দিয়েও পরিস্থিতি বোঝা যায়৷ আর তা হলো, জাতীয় প্রেসক্লাবের হিসেব৷ সেখানে ২০১৮ জন সদস্যের মধ্যে নারী সদস্য মাত্র ৭২ জন৷ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ছয় হাজার সদস্যের মধ্যেও নারীর সংখ্যা ১৫০ জনের বেশি নয়৷

নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রধান নাসিমুন আরা হক মিনু ইলেট্রনিক মিডিয়ায় নারীর এই অংশগ্রহণ বাড়াকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না৷ তিনি মনে করেন, ‘‘টেলিভিশন মালিকরা বা কর্তৃপক্ষ মনে করে নারীরা দেখতে সুন্দর৷ তাই তাদের ‘প্রেজেন্টার' পদে নিয়োগ দিচ্ছেন তাঁরা৷ কিন্তু রিপোর্টার বা নীতিনির্ধারণী পদে নারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপভাবে বাড়ছে না৷''

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনের কথায় নারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ না হওয়ার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নারী হওয়ার কারণেই আমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে৷ আমার তখনকার কর্মস্থল একুশে টেলিভিশনও আমাকে নির্যাতনের পর চিকিৎসা তো দূরের কথা, কোনো সহায়তাই করেনি৷ উলটে আমাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল৷ শুধু তাই নয়, আট মাসের বেতনও দেয়া হয়নি আমাকে৷''

নাদিয়া এখন একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করেন৷ তিনি ‘ক্রাইম রিপোর্টিং'-এর মতো একটি ‘চ্যালেঞ্জিং বিট কাভার' করেন৷ তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সাংবাদিক, যিনি সাহসিকতার জন্য ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অ্যাওয়ার্ড ফর কারেজ' পুরস্কার পান৷

অডিও শুনুন 14:04

‘নারী হওয়ার কারণেই আমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে’

তিনি বলেন, ‘‘নারী সাংবাদিককে দু'ধরনের যুদ্ধ করতে হয়৷ তাঁকে প্রমাণ করতে হয় যে সে যোগ্য৷ এছাড়া পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও করতে হয়৷ এর বাইরে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তো আছেই৷ কোনো নারী যে ক্রাইম রিপোর্টার হতে পারে, এটাই অনেকের চিন্তায় আসে না৷''

কর্মস্থলে কেনো বৈষম্য আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে নাদিয়া বলেন, ‘‘দৃশ্যত নেই৷ তবে তা অনেকটা নির্ভর করে যিনি সুপারভাইজ করেন, তাঁর মানসিকতার ওপর৷''

অনলাইন নিউজ পেপার বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার উদিসা ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘নারীদের রাজনীতি, অর্থনীতি বা কূটনীতির মতো বিষয় নিয়ে সাংবাদিকতা করাকে অনেকেই মানতে পারেন না৷ তাঁদের ধারণা,, নারী সাংবাদিক মানেই হলো তাঁরা হালকা বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করবেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘এই পেশায় আসা এবং টিকে থাকার জন্য পরিবারের সমর্থন একটা বড় ব্যাপার৷ আর নারী বিবাহিত হলে সেটা আরো বেশি প্রয়োজন৷ সাংবাদিকতা ২৪ ঘণ্টার পেশা৷ কোনো নারী রাতেও কাজ করবেন, এটা অনেকে ভাবতেই পারেন না৷''

অডিও শুনুন 02:33

‘পুরুষের তুলনায় নারীকে অনেক বেশি যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হয়’

বাংলাদেশে এবারই প্রথম জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন৷ তিনি হলেন ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার ফরিদা ইয়াসমিন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংবাদিকতায় পুরুষের তুলনায় নারীকে অনেক বেশি যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হয়৷ প্রথমত তাঁকে প্রমাণ করতে হয় যে, পুরুষ যেটা করতে পারে সেটা করতে তিনিও সক্ষম৷ তারপর তাঁকে পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হয়৷''

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ‘‘অনেকের মধ্যেই একটা ‘মাইন্ড সেট' কাজ করে যে এই কাজ নারী পারবে না, পারে না৷ বলা বাহুল্য, এই ‘মাইন্ড সেট' নারীকেই ভাঙতে হয়৷ আমি যত জায়গায় কাজ করেছি সেখানে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বৈষম্যের শিকার আমি হইনি৷ তবে মনস্তাত্ত্বিক বাধা এখনো প্রবল৷''

নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রধান নাসিমুন আরা হক মিনুর কথায়, ‘‘এক সময় পত্রিকার নারী পাতাগুলোতে শুধু নারীরাই কাজের সুযোগ পেতেন৷ কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে৷ তারপরও সংবাদমাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম৷ কারণ এখনো মনে করা হয় যে, এই ‘চ্যালেঞ্জিং' পেশা নারীদের জন্য নয়৷ তার ওপর এ পেশায় বেতন বৈষম্যেরও শিকার হন নারীরা৷ শিকার হন হয়রানিরও৷ এমনকি নিয়োগ দেয়ার সময়ও তাঁদের উপেক্ষা করা হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি৷ আমরা সংবাদমাধ্যম এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে দাবি করেছি যে, সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন পদে অন্তত ৩০ ভাগ নারী নিয়েগ দিতে হবে৷''

বন্ধু, আপনার দেখা কোনো নারী সাংবাদিকের গল্প বলুন আমাদের৷ লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়