1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সংঘাত এড়াতে পিছু হটলো থাই সরকার

বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে কিছুটা পিছু হটেছে থাই সরকার৷ ব্যাংককে সরকারি কার্যালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়েছে৷ সেদেশের সরকার জানিয়েছে, বিরোধীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাত এড়াতে এই উদ্যোগ৷

বাধা সরিয়ে নেওয়ায় মঙ্গলবার কয়েকশত প্রতিবাদকারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার কার্যালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়৷ এসময় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কোনোরকম বাধা দেয়নি৷ সরকারি মুখপাত্র টিরাট রত্নসেবি এই বিষয়ে বলেন, ‘‘বিক্ষোভকারীরা বলেছে যে তারা সরকারি ভবনগুলো দখল করে নিতে চায়, কিন্তু সরকার তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে যেতে চায় না৷ তাই আমরা পুলিশকে পিছু হটতে বলেছি৷ আমরা সহিংসতা এবং মুখোমুখি সংঘাত এড়াতে চাই৷''

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গনে পৌঁছে যাওয়া বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে পুলিশের সঙ্গে করমর্দন করতে৷ অনেকে আবার তাদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন৷ সপ্তাহান্তে পুলিশ এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত এবং আহত হওয়ার পর এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে৷ এমনকি সোমবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেডের কাছ থেকে সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস, গরম পানি এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করেছিল৷ উত্তরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক এবং পাথর ছুঁড়ে মারে৷

বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এদিকে, দেশবাসীকে অসহযোগ আন্দোলনে নামার আহ্বান জানানো বিক্ষোভকারীদের নেতা সুতেপ তাউকসুবানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত৷ সপ্তাহান্তে তাঁর দেয়া এক ভাষণের পর সরকারবিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছিল৷ বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিতে তাউকসুবান তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন৷

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন৷ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আলোচনার সকল দরজা খুলতে রাজি আছেন তিনি৷ তবে বিরোধী দলের দাবি মতো সরকার বিলুপ্ত করে একটি অনির্বাচিত পরিষদ গঠন থাই সংবিধানের আলোকে অসম্ভব বলেও জানিয়েছেন ইংলাক৷

বিক্ষোভকারীরা অবশ্য থাই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বড় ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার হাতের পুতুল হিসেবে বিবেচনা করছে৷ তাসত্ত্বেও গত সপ্তাহে ইংলাক এক আস্থা ভোটে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে উতরে যান৷ সংসদে তাঁর দল পুয়েআ থাই এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে৷

উল্লেখ্য, দেশ ছেড়ে যাওয়া থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে ফিরিয়ে আনতে গত ১ নভেম্বর থাই সরকার তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়ার পরই শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ৷ থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন৷ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর দেশ ছেড়ে যান তিনি৷ দুর্নীতিসহ বেশ কিছু অভিযোগের যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলো থেকে সরকার তাঁকে রেহাই দিতে যাওয়ায় এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে বিরোধী দলগুলো৷

বিক্ষোভকারীদের দাবি, থাকসিনের বোন ইংলাক প্রধানমন্ত্রী হয়ে বড় ভাইয়ের মতোই দেশ চালাচ্ছেন, সুতরাং ইংলাককে পদত্যাগ করতে হবে৷

এআই / জেডএইচ (রয়টার্স, এএফপি, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন