1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন কি ব্যর্থ? বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রশাসন শুধু ব্যর্থই নয়, এই ব্যর্থতার তালিকা লম্বাও হচ্ছে৷ এভাবে চলতে থাকলে বর্হিবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে৷ তাই এখনই সরকারি পদক্ষেপ দরকার৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখনই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে৷ বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে৷ পুলিশ পাহাড়ার মধ্যে কীভাবে আবার আগুন দেয়? এটা হতে পারে না৷ ওখানে পুলিশের যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের এখনই প্রত্যাহার করতে হবে৷ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ওখানে দায়িত্ব দিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে৷''

অডিও শুনুন 01:25

‘এখনই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া ও লুটপাটের পর মামলা হয়েছে৷ বেশ কিছু মানুষকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে৷ পুরো এলাকার নিরাপত্তা মনিটরিং করছেন ঢাকার পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা৷ অথচ এর মধ্যেই আবার সেখানে একটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ রবিবার ভোরে উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ায় ছোট্ট দাসের বাড়িতে একটি জাল রাখার ঘরে আগুন দেওয়া হয়৷ এতে ঐ ঘরে রাখা পাঁচটি জাল পুড়ে যায়৷ গত ৩০শে অক্টোবর হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে৷ সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল৷

পুলিশি পাহাড়ার মধ্যেই আবার হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হলো৷ তাহলে পুলিশ কি ব্যর্থ? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যেখানে আগুন দেয়া হয়েছে, সেখানেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন পাহাড়া দিচ্ছিল৷ রাত ৪টার দিকে পুলিশ ঘুমাতে যায়৷ আর তখনই আগুন দেয়া হয়৷ আসলে এই ঘটনা নিয়ে খেলা হচ্ছে৷ শুধু পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না৷ সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই কাজে আসবে না৷ আমরা সাধারণ মানুষকে সম্পৃত্ত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি৷''

অডিও শুনুন 01:38

‘যেখানে আগুন দেয়া হয়েছে, সেখানেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন পাহাড়া দিচ্ছিল’

অন্যদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায়ও প্রশাসন তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷ উল্টে গুলিবিদ্ধ সাঁওতালদের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷ হাতকড়া লাগিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি সোমবার হাইকোর্টের নজরে আনেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া৷ গাইবান্ধায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক থাকা তিন সাঁওতালের হাতকড়া খুলে দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি এবং গাইবান্ধার এসপিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন৷ ১৬ই নভেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়৷

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, সেখানে প্রশাসন ফেল করছে৷ এই ব্যর্থতার তালিকা লম্বা হচ্ছে৷ এখানে শুধু পুলিশ বা প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ নেই৷ সুশাসন ও সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার৷ এই সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে বলে আমি মনে করি না৷''

অপরদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ খামারের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাঁওতালদের প্ররোচিত করছে৷ এছাড়া সাঁওতালদের সামনে রেখে পেছনে ভাড়াটে লোকেরাই সেখানে অরাজকতা সৃষ্টি করে৷ তিনি বলেন, ‘‘রংপুর চিনিকলের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে৷ ঐ জমি ও সম্পদ রার দায়িত্ব সরকারের৷''

অডিও শুনুন 02:01

‘সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া কোনোভাবেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে’

তিনি আরও বলেন, ‘‘গত ৬ নভেম্বর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য সুশৃঙ্খলভাবে অভিযান চালিয়ে সরকারি এই চিনিকলের সম্পদ এবং জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে৷

প্রশাসনের এই ধরনের বক্তব্য ও কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালরা৷ এরই প্রেক্ষিতে সোমবার প্রশাসনের ত্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়৷ সোমবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল হান্নান সহিংস হামলার শিকার সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে যান৷ এ সময় ওই সম্প্রদায়ের কেউই তা গ্রহণ করেননি৷ আবদুল হান্নান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে ত্রাণ দিতে মাদারপুর গির্জার সামনে অপো করেছি৷ তাঁদের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ নেওয়ার জন্য জানিয়েছি৷ কিন্তু তাঁরা কেউ ত্রাণ নিতে রাজি হননি৷'' তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ১৫০ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, এক কেজি আলু, এক কেজি লবণ ও দু'টি কম্বল বিতরণের কথা ছিল৷''

ত্রাণ না নেওয়ার কারণ হিসেবে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘প্রশাসন একমুখে দু'কথা বলছে৷ তারা একদিকে ত্রাণ দিতে চাইছে, অন্যদিকে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে আমাদের জমি নষ্ট করছে৷ তাই আমরা প্রশাসনের কোনো ত্রাণ নেইনি৷''

সাঁওতালদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘‘প্রশাসন নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে৷ কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না৷ তাছাড়া ঘটনার নয় দিনেও সাঁওতালদের ঘরে আগুন, বসতবাড়িতে লুটপাট ও সাঁওতাল হত্যার ঘটনায় মামলা ও তদন্ত কমিটি হয়নি৷ আমরা এ সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই৷ আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো ত্রাণসহায়তা নেব না৷''

আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়