1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

সংক্রামক রোগের মোকাবিলায় আফ্রিকায় উদ্যোগ

আফ্রিকা মহাদেশে সংক্রামক রোগের মোকাবিলা একটা বড় সমস্যা৷ ঘানায় এক নেটওয়ার্ক তৃণমূল স্তরে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে৷ এই কাজে অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে৷

ঘানার মধ্যভাগের আগোগো শহরে জন আমুয়েসির নেতৃত্বে এক গবেষকদল এই নিয়ে তৃতীয়বার টেরেসা সারপংয়ের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে৷ তাদের দুই বছরের মেয়ে মিশেল কয়েক সপ্তাহ আগে আন্ত্রিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল৷ টেরেসা বলেন, ‘‘আমার সত্যি ভয় করছিল৷ ছোট্ট মেয়েটি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল৷ এই বয়সের বাচ্চাদের আন্ত্রিক রোগে মৃত্যুও হতে পারে৷''

মিশেল-এর অত্যন্ত ছোঁয়াচে আন্ত্রিক রোগ হয়েছিল, যার নাম ক্রিপ্টোস্পরিডায়োসিস৷ এই রোগের সংক্রমণ ঠিক কীভাবে ঘটে, জন আমুয়েসি ও তাঁর টিম অনেককাল ধরে তা বোঝার চেষ্টা করছেন৷ তাই বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হয়েছে৷ তারা আসায় টেরেসা প্রথমে খুবই অবাক হয়েছিলেন৷ জন আমুয়েসি বলেন, ‘‘এমন অদ্ভুত রোগের কারণে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন৷ শহর থেকে সাদা অ্যাপ্রন ও দস্তানা পরা লোক এসে রক্ত পরীক্ষা করছে, নানা প্রশ্ন করছে৷ রোগীর অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি একঘরে হয়ে পড়ার একটা ঝুঁকি রয়েছে৷ প্রতিবেশীরা বলতে পারে, একজনের জন্য শহর থেকে লোক এসে নানা প্রশ্ন করছে৷ তার নিশ্চয় সত্যি সমস্যা রয়েছে, এড়িয়ে চলাই ভালো৷''

ভিডিও দেখুন 04:05

তৃণমূলের সাহায্যের জন্য উদ্যোগী যারা

আগোগো শহরের স্থানীয় হাসপাতালে অবশেষে ক্রিপ্টোস্পরিডায়োসিস রোগ ধরা পড়েছে৷ এটি তথাকথিত ‘নেগলেক্টেড ট্রপিকাল ডিজিজ' পর্যায়ে পড়ে৷ বারবার তার প্রকোপ দেখা যায়৷

আরেকটি ঘরে বুরুলি আলসার রোগীদের চিকিৎসা চলছে৷ এটি একটি ছোঁয়াচে চর্মরোগ, যদিও এর সংক্রমণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি৷ এটিও এক ‘নেগলেক্টেড ট্রপিকাল ডিজিজ'৷ রোগীদের ভাগ্য ভালো যে, এই হাসপাতাল এক গবেষণা প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে৷ তাই বিনা মূল্যেই চিকিৎসা পাচ্ছেন তাঁরা৷ জন আমুয়েসি বলেন, ‘‘রোগীদের প্রতিই আমরা বেশি মনোযোগ দেই, তারাই তো কষ্ট পাচ্ছে! অত্যন্ত দরিদ্র তারা৷ ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই৷ অবশ্য রোগের ওষুধও থাকতে হবে৷ এরা প্রবল বঞ্চনার শিকার৷''

গাড়িতে ঘণ্টাখানেক দূরত্বে ঘানার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কুমাসি৷ জন আমুয়েসি সেখানে আফ্রিকার গবেষণা নেটওয়ার্কের প্রধান৷ বিরল রোগের মোকাবিলা বা সেগুলি নির্মূল করার পথ দেখানোই তাদের উদ্দেশ্য৷

ব্যয়বহুল গবেষণার অর্থায়নের জন্য আমুয়েসি লবিয়িং-এর কাজও করেন৷ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সরকার ও ধনীদের তিনি এই কাজে শামিল করতে চান৷ তা সত্ত্বেও গবেষণার কাজে প্রায়ই ইউরোপে নমুনা পাঠাতে হয়, কারণ, এখানে সেগুলি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম নেই৷ আমুয়েসি বলেন, ‘‘কীভাবে সবকিছু কাজ করে তা জেনেও সাজ-সরঞ্জাম বা গবেষণাগারের অভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে খুব খারাপ লাগে৷ যখন জানি যে, একজনের প্রাণ বাঁচাতে পারি বা ভালো কিছু করতে পারি, তখন সেই অভাব যেন তাড়িয়ে বেড়ায়৷ অনেক সহকর্মী ইউরোপ বা অ্যামেরিকায় প্রশিক্ষণের পর দেশে ফিরে কয়েক মাস পর বুঝতে পারেন, যা প্রয়োজনীয় তা তাঁরা করতে পারছেন না৷ দেশে উন্নতির সম্ভাবনা না দেখে তাঁরা আবার ফিরে যান৷''

তবে অ্যামেরিকায় উচ্চশিক্ষা পেয়ে সেখানে ফিরে যাবার কথা ভাবতে পারেন না জন আমুয়েসি৷ নেটওয়ার্কের কাজে তিনি গোটা বিশ্বে ঘুরে বেড়ান৷ তা সত্ত্বেও গ্রামে যেতে তিনি বেশি পছন্দ করেন, মিশেলের মতো মানুষকে সাহায্য করতে চান৷ তাঁর স্বপ্ন খুবই স্পষ্ট – গোটা মহাদেশ থেকে অবহেলিত রোগ নির্মূল করতে চান তিনি৷ কিন্তু সেই লক্ষ্যে অনেক কাজ বাকি রয়েছে৷

আড্রিয়ান ক্রিশ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও