1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

সংকীর্ণ স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ জাতিসংঘ

ইউক্রেনে এমএইচ১৭ উড়ালটি ভূপাতিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া৷ স্থায়ী সদস্যদের ভেটো প্রদানের অধিকার বাতিল করার সময় এসেছে, বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের গেরো শ্লিষ৷

ইউক্রেনের আকাশে এমএইচ১৭ যাত্রীবাহী বিমানটি কিভাবে দুর্ঘটনায় পতিত হলো, সে বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত দাবি করে মালয়েশিয়া এবং অপরাপর দেশ রাশিয়াকে চাপের মুখে ফেলতে চেয়েছিল৷ কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি৷ জুলাই মাসের গোড়ায় রাশিয়া সেব্রেনিৎসায় গণহত্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি রুখে দেয়৷ এবার মালয়েশিয়ার আনীত প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে৷

২০১৪ সালের ১৭ই জুলাই তারিখে এমএইচ১৭ উড়ালের দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন মানুষ প্রাণ হারান৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ অধিকাংশ দেশের মতে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই রকেট ছুঁড়ে বিমানটিকে ভূপাতিত করে৷ অপরদিকে রাশিয়া কিয়েভ-এর ইউক্রেন সরকারকেই দায়ী করে থাকে৷

বাধার পরে বাধা

জাতিসংঘ যে এ যাবৎ অপরাধীদের নামকরণ অথবা শাস্তিদানে কোনো অবদান রাখতে পারেনি, তা একটা কেলেঙ্কারি বিশেষ৷ বছর খানেক আগে নিরাপত্তা পরিষদ যে জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম বা যৌথ তদন্ত গোষ্ঠী নিয়োগ করে, তাদের রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি৷

Schliess Gero Kommentarbild App

ডয়চে ভেলের গেরো শ্লিষ

গোষ্ঠীতে আছেন মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ইউক্রেন ও নেদারল্যান্ডস-এর বিশেষজ্ঞরা৷ কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন রাশিয়া তথা ইউক্রেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করার ফলে৷ এবার নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার ভেটো থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও সহযোগিতার বিশেষ আশা নেই৷

এক মাসের মধ্যে রাশিয়া দু'বার ভেটো প্রয়োগ করল৷ এটা সম্ভবত একটি গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি বিরোধিতার লক্ষণ৷ এমনও হতে পারে যে, নিরাপত্তা পরিষদে ঠান্ডা লড়াই-এর তুমুল বিতর্ক ও অনমনীয় অবস্থানের দিনগুলি ফিরে আসতে চলেছে৷

রাজনৈতিক চাল হিসেবে ভেটোর ব্যবহার

শুধু রাশিয়াই যে ভেটোর ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকে, এমন নয়৷ গতবছর গাজা স্ট্রিপে ইসরায়েলি অভিযানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেটো প্রয়োগ করে ইসরায়েলের নিন্দা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব রুখে দেয়৷ অপর একটি প্রস্তাবে সিরিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অন্ত ঘটানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে – এবং প্রেসিডেন্ট আসাদ-এর নির্দেশে ব্যাপক মানবাধিকার ভঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ কিন্তু আজ অবধি সে প্রস্তাব রাশিয়ার প্রতিরোধে গৃহীত হতে পারেনি৷

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত ও অন্যান্য বিষয়ে নীরব থেকে নিরাপত্তা পরিষদ নিজেরই ব্যাপক ক্ষতি করেছে৷ ভেটোর অধিকারের ফলে স্ব-আরোপিত নিষ্ক্রিয়তা থেকে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকরিতা সম্পর্কে ক্রমেই আরো বেশি সন্দেহ ধ্বনিত হচ্ছে৷ যে নিরাপত্তা পরিষদ নিজেই নিজের হাত-পা বেঁধে রেখেছে, তেমন একটি নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রয়োজন আছে কি?

ভেটোর দিন ফুরিয়েছে

অনেক আগেই জাতিসংঘের সংস্কার ঘটা উচিত ছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে পাঁচটি দেশের জন্য ভেটো ক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়৷ আজ আর তা সময়োচিত নয়৷ কিন্তু এই বহুল আলোচিত দাবি এখনও অবধি নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অধিবেশনের নির্ঘণ্টে স্থান পায়নি৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন যে নিজে থেকেই তাদের অগ্রাধিকারের এই নিদর্শন ত্যাগ করবে, এতটা আশা করা উচিত হবে না৷ ভেটোর অধিকার বাতিলের প্রতিটি প্রচেষ্টা তারা ঐ ভেটো দিয়েই বানচাল করবে৷

ফ্রান্স সম্প্রতি যে প্রস্তাবটি দিয়েছে, তা একটি নবসূচনা হতে পারে৷ রুয়ান্ডায় গণহত্যার মতো বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ভেটোর অধিকার স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স৷ এর সুবিধা হলো এই যে, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মানবিক সাহায্যের মতো বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদ শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে পারবে৷ কিন্তু এ ধরনের উচ্চাভিলাষ বিহীন সংস্কারও জাতীয় স্বার্থের রাজনীতির বেড়াজালে আটকা পড়ে থাকতে বাধ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়