1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ষোড়শ শতাব্দীর ‘রকেট ক্যাট’

১৫৩০ সালের একটি জার্মান কেতাব, যার বিষয়বস্তু হলো গোলন্দাজি ও দুর্গ অবরোধ৷ সেখানেই দেখা যাচ্ছে একটা বেড়ালের ছবি, যার পিঠে ছুঁচোবাজির মতো বারুদের পোঁটলা বাঁধা! যেন বিংশ শতাব্দীর কোনো কমিক৷

শুধু বেড়ালের পিঠে কেন, পায়রার পিঠে বাঁধা রকেট, এমন ছবিও আছে সমরশিক্ষার বইটিতে৷ মূল লেখা জার্মানে, তবে সাথে যে ছবিগুলো দেওয়া আছে, সেগুলি সত্যিই চমকপ্রদ৷ বেড়ালের পিঠে বারুদের থলে বাঁধা, পায়রার পুচ্ছ থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে৷ পাশের ভাষ্যে সামরিক অধিনায়কদের প্রতি পরামর্শ, তা-ও আবার জার্মান ভাষায়: ‘‘(এগুলো ব্যবহার করে শত্রুর) কোনো দুর্গ অথবা শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সম্ভব''৷

ষোড়শ শতাব্দীর এই জার্মান ম্যানুয়াল ও তার ‘কমিকোপযোগী' অলঙ্করণ আবিষ্কৃত হয়েছে এক অদ্ভুত পন্থায়৷ ছবিগুলি অস্ট্রেলিয়ার একটি ‘বুক ব্লগ', অর্থাৎ বই নিয়ে ব্লগ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিচ ফ্রাসের নজরে আসে৷ ফ্রাস-ই আজব কেতাবটি ডিজিটাইজ করার ব্যবস্থা করেন৷ তবে বেড়ালের পিঠে রকেট বাঁধাটা যে বিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনীয় নয়, সেটা ফ্রাস নিজেই বলেছেন৷

জার্মানির কোলোন শহরের বাসিন্দা এবং গোলন্দাজির ওস্তাদ ফ্রানৎস হেল্ম এই কেতাবের রচয়িতা৷ হেল্ম স্বয়ং দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপে তুর্কিদের বিরুদ্ধে নানা যুদ্ধে সামিল ছিলেন৷ সময়টা যোড়শ শতাব্দীর সূচনা, যখন বারুদের আবিষ্কার যুদ্ধের ধারাপ্রকৃতিই বদলে দিচ্ছে৷ হেল্মের গোলন্দাজির ম্যানুয়াল ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বহু শিল্পী তার অলঙ্করণে হাত লাগান৷ অথচ হেল্মের ম্যানুয়াল যে ‘শান্তিপ্রিয়', এমন অপবাদ তাঁর অতি বড় শত্রুও দিতে পারবে না৷ লোহার টুকরো ভরা বোমা থেকে শুরু করে পেরেক ভরা বিস্ফোরক রকেট, সব কিছুই পাওয়া যাবে তাঁর কেতাবে৷

রকেট ক্যাট

হেল্ম তাঁর বইতে ব্যাখ্যা করেছেন, কিভাবে ছোট ছোট জন্তু-জানোয়ার ব্যবহার করে আগুনে বোমা পাঠানো যায়: ‘‘শহর অথবা দুর্গ থেকে একটা বেড়াল যোগাড় করার চেষ্টা করো৷ তার পিঠে বারুদের থলিটা বেঁধে তা-তে আগুন ধরিয়ে দাও৷... বেড়ালটা শহর কিংবা দুর্গে ঢুকে কোথাও একটা লুকনোর চেষ্টা করবে, যেমন খড়ের গাদায়... যা-তে আগুন ধরে যাবে৷''

ভাগ্যের কথা, হেল্মের আজগুবি আইডিয়া বাস্তবে কোনোদিন পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল কিনা, ফ্রাস তার কোনো হদিশ পাননি৷

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন