1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

শ্রেণিকক্ষে কি হিজাবের অনুমতি দেয়া উচিত?

২০০৩ সালে জার্মানির সাংবিধানিক আদালতের রায় অনুযায়ী স্কুলে শুধু মুসলিম শিক্ষিকাদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা বে-আইনি৷ তবে জার্মানির ৮টি রাজ্যে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে হিজাব পরা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

১০ বছর আগে শ্রেণিকক্ষে স্কার্ফ পরার বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে জিতেছিলেন ফেরেস্তা লুডিন৷ সাংবিধানিক আদালত রায় দিয়েছিল, যে শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর সময় কোনো মুসলিম নারী শিক্ষকের হিজাব পরার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না৷ তবে, জার্মানির আটটি রাজ্য সরকার আলাদা ‘ধর্মীয় নিরপেক্ষতা' আইন চালু করায় তাঁর জয়ের সুখ কিছুটা স্তিমিত হয়৷

এক দশক পর তাই এই ইস্যুটি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, হিজাব পরতে দেয়া উচিত, নাকি যারা এটা করছে তাদের বাধা দেয়া উচিত?

দশ বছর পর এ বিষয়ে লুডিনের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য দশ বছর অনেক সময়৷ কিন্তু এখন এর ফল হয়েছে ক্ষতিকর৷ নিরপেক্ষ নীতির কাছে হার মানতে হয়েছে তাঁকে৷ কেননা জার্মানির আটটি রাজ্যে সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ধর্মীয় চিহ্ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য খ্রিষ্টধর্মের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা রয়েছে৷

জার্মান শিক্ষানীতি রাজ্য সরকারগুলির এক্তিয়ারে পড়ে৷ তাই নিরপেক্ষ আইন কেন্দ্রীয় আইনের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে৷ তবে, কেবল সরকারি স্কুলেই নয়, প্রাইভেট সেক্টরেও একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে মুসলিম এই নারীদের৷

Hijab-Debatte

প্রশ্ন উঠেছে, হিজাব পরতে দেয়া উচিত, নাকি যারা এটা করছে তাদের বাধা দেয়া উচিত?

লুডিনের মতে, হিজাব বা স্কার্ফ পরা শিক্ষিকাদের কারণে শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে, এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ কারো হাতে নেই৷ এই সিদ্ধান্তে কেবল শিক্ষকরাই নন, মুসলিম নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷

যারা স্কার্ফের বিরোধী তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে স্কার্ফ পরা শিক্ষিকা দেখলে নারী সম্পর্কে তাদের মনে ভিন্ন ধারণার জন্ম হয়৷ তারা ভাবে, এই নারীদের স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন কাজ করার স্বাধীনতা নেই৷

এমনই এক নারী সেরিফে আই৷ যিনি স্বপ্ন দেখতেন, শ্রেণিকক্ষে জার্মান শেখাবেন৷ দীর্ঘ দুই বছর এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে যখন তিনি উত্তীর্ণ হলেন, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ালো তার মাথার স্কার্ফ৷ তাকে দুটির একটিকে বেছে নিতে বলা হল – ডুইসবুর্গে একটি স্কুলে স্থায়ী চাকুরি নাকি হিজাব৷

মনের কথায় সায় দিতে গিয়ে চাকুরিটি হারিয়েছেন তিনি৷ আই জানালেন, কেবল সরকারি স্কুলে নয়, অভিভাবকরা অভিযোগ করতে পারে এই অজুহাতে বেসরকারি স্কুলেও মাথায় স্কার্ফ পরে চাকুরি করতে দেয়া হয়নি তাকে৷

আইনি পরামর্শদাতা

যেসব মুসলিম নাগরিকরা এসব সমস্যার মুখোমুখি হন, তাদের সাহায্য করে বার্লিন ভিত্তিক একটি সংগঠন, যার নাম নেটওয়ার্ক এগেনস্ট ডিস্ক্রিমিনেশন অফ মুসলিম৷ এর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আমিন তাসডান বললেন, তরুণীদের যখন ধর্ম এবং পেশা –দুটোর একটিকে বেছে নিতে হয়, তখন তারা দ্বিধায় ভোগে৷

এই সংগঠনটি বিনামূল্যে সবাইকে পরামর্শ এবং আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে৷ তাসডান জানালেন, দুই পক্ষের সুবিধা হয়, এমন একটা সমাধানে আসারই চেষ্টা করেন তারা৷

যেমন সেরিফে আই-এর ক্ষেত্রে কয়েকটি উপায় বললেন তিনি৷ এক হতে পারে, সেই রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারে, যেখানে স্কার্ফ পরা শিক্ষিকাদের সুযোগ দেয়া হয়৷ অথবা ধর্মশিক্ষা দান করা৷

তবে, এই বিকল্পগুলো অভিযোগকারীদের দাবি পূরণে অক্ষম৷

জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থরাইন-ওয়েস্টফেলিয়া, যেখানে মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার দাবি করেছেন চাকরিজীবীরা৷ ধর্মের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছেন তারা৷ খুব সম্প্রতি দুজন শিক্ষক জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন৷

Hijab-Debatte

সম্প্রতি দুজন শিক্ষক জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন

তবে, স্কুল ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়র্গ হার্ম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় এই বিতর্কিত ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়, তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে৷

প্রাতিষ্ঠানিক তুলনা

২০০৯ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মুসলিম নারী এবং জার্মান কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল৷ ‘ডিস্ক্রিমিনেশন ইন দ্য নেম অফ ফেথ' নামে ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির যে সব রাজ্যে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধা দেয়া হচ্ছে, সে সব রাজ্যের খ্রিষ্টধর্মের প্রতীককে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে, যা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিভেদের চিত্রকে স্পষ্ট করে তুলেছে ৷

সচেতনতার জন্য গ্রহণযোগ্যতা

‘ইয়ং মুসলিম অ্যাকটিভ' এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বার্লিনের স্বরাষ্ট্র এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সসান চেবলি বললেন, যারা মাথায় স্কার্ফ পরে তারা যথেষ্ট শিক্ষিত, মেধাবী এবং তাদের কেউ জোর করেনি স্কার্ফ পড়তে৷ এমনকি বাবা-মাও বাধা দিয়েছে তাদের৷ কিন্তু নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে৷ তবে, নতুন প্রজন্ম এ বিষয়ে সোচ্চার এবং তারা এই আইন পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে৷

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সেরিফে আই জানালেন, স্কার্ফ পরার সিদ্ধান্তে জন্য তাঁর কোন আক্ষেপ নেই৷ আক্ষেপ নেই যে তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছে৷ কিন্তু এসব পুরোনো ধ্যানধারণা বদলে দিতে চান তিনি৷ অন্যদিকে লুডিন জানালেন, তিনি তার সন্তানদের প্রি-ক্যাথলিক স্কুলে পাঠান৷ তিনি তাঁর সন্তানদের উপরই ছেড়ে দিতে চান কী ভাবে তারা বেড়ে উঠবে এবং কোন বিষয়টিকে তারা বেছে নেবে৷

এপিবি/এসবি (লরি হার্বার)

নির্বাচিত প্রতিবেদন