1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শ্রীলঙ্কায় যুদ্ধ তদন্তে প্রশ্নবিদ্ধ কমিশনের কাজ শুরু

কাজ শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার গঠিত কমিশন৷ তবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে না৷ ফলে এই তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো৷

default

গত বছরই ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে শ্রীলঙ্কায়

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় গত বছরই অবসান ঘটে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের৷ এই যুদ্ধের একপক্ষে ছিল সিংহলি নিয়ন্ত্রিত শ্রীলঙ্কা সরকার৷ অন্য পক্ষে ছিল সংখ্যালঘু তামিল জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলম, যা এলটিটিই নামেই পরিচিত৷ কখনো যুদ্ধ আর কখনো বা সন্ধি - এই নিয়েই চলছিল৷ তবে ২০০২ সালে যে সন্ধি হয়, তা ভেঙে যাওয়ার পরই সাঁড়াশি অভিযানে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে৷ অনেক রক্তক্ষয়ের পর গত বছর এলটিটিই অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নেয় সরকার৷ নিহত হয় বিদ্রোহী নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরন৷

মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, বিদ্রোহী দমন অভিযানে গণহারে মারা পড়ছে বেসামরিক তামিল৷ ঘটেছে যুদ্ধাপরাধও৷ তবে তাতে কান না দিয়েই অভিযান অব্যাহত রাখেন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে৷ যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি আসতে থাকে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশ থেকেও৷ এই সব চাপের মুখে আট সদস্যের কমিশন গঠন করে সরকার৷ যদিও কমিশনের কর্ম পরিধি বলে দেয়, যুদ্ধাপরাধ নয়, যুদ্ধের কারণ তদন্ত করবে তারা৷

আজ বুধবারই কমিশনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল৷ সাত দিনে বিভিন্ন জনের সাক্ষ্য নেবেন কমিশনের সদস্যরা৷ এর মধ্যে পাঁচ দিন কাজ করবেন রাজধানী কলম্বোয়, বাকি দুদিন তামিল অধ্যুষিত বাবুনিয়া জেলায়৷

Der Tamilische Rebellenführer Velupillai Prabhakaran im Februar 2009

নিহত বিদ্রোহী নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরন

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে সন্ধি কেন ভেঙে গিয়ে কেন সংঘাত শুরু হলো, এর জন্য দায়ী কে - তার অনুসন্ধান চালাবে কমিশন৷ একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সংঘাতের মতো পরিস্থিতি এড়াতে কী কী করতে হবে, কমিশনকে তার একটা সুপারিশও দিতে বলা হয়েছে৷ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিশনকে সময় দেওয়া হয়েছে ছয় মাস৷

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউমেন রাইটস ওয়াচ মনে করছে, এই কমিশনের কাজ নিরপেক্ষ হবে না৷ তারা নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে৷ সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বার্তা মাধ্যমকে বলেন, শ্রীলঙ্কা সরকারের দায়িত্বশীল আচরণের কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না৷ কমিশন গঠন সরকারের এক ধরনের কৌশল বলে মনে করছেন তিনি৷ মিনাক্ষী বলছেন, সরকারের উদ্দেশ্য তদন্তের নামে সময়ক্ষেপন৷ যাতে ধীরে ধীরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়৷ এই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না বলে মনে করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও৷ মার্কিন কংগ্রেসের ৫৭ জন সদস্য তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন৷ শ্রীলঙ্কা সরকার যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে সে জন্য চাপ দিতে হিলারির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা৷ দাবি উঠেছিল, জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের৷ সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন একটি প্রস্তাবও দিয়েছিলেন৷ তবে শ্রীলঙ্কা সরকার তাতে রাজি হয়নি৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ