1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শেষ হল লাইপসিশ বইমেলা

সাবেক পূর্ব জার্মানির লাইপসিশ শহরে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল লাইপসিশ বইমেলা৷ ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত চলেছে এই মেলা৷ এই উপলক্ষে শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, সারা শহরই যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল৷

default

বই-এর পাহাড়

লাইপসিশ বইমেলার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে৷ ১৬৩২ সালে বই'এর সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথমবারের মত ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল লাইপসিশ বইমেলা৷ তার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত ছিল ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত৷ এরপর ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা অধিকার করে নেয় শীর্ষস্থানটি৷ তবে সাবেক পূর্ব জার্মানিতেও দুই জার্মানির বইপ্রেমী ও পুস্তক ব্যবসায়ীদের একটা বিশেষ মিলনকেন্দ্র ছিল লাইপসিশ বইমেলা৷ জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পর আবার উজ্জীবিত হতে শুরু করে এই বইমেলা৷ প্রায় প্রতি বছরই এই বইমেলার দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এবছরও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছিল মেলা প্রাঙ্গণ৷ লেখক ও প্রকাশনা সংস্থাগুলি এসেছিল তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত নানা ধরণের গ্রন্থ, উপন্যাস, আত্মজীবনী বা বিষয়ভিত্তিক বই নিয়ে৷ বই মেলার পরিচালক অলিভার সিলে বলেন, ‘‘লাইপসিশ বইমেলাকে বলা যায় জার্মানি তথা দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপের নতুন নতুন সাহিত্য আবিষ্কারের এক বইমেলা৷''

Buchmesse Leipzig 2010 Stand Bosnien und Herzegowina Flash-Galerie

বইমেলায় বসনিয়া হ্যারৎসোগোভিনার স্ট্যান্ড

প্রথমবার এলেন যারা

বলকান দেশগুলির লেখক ও ছোট ছোট প্রকাশনা সংস্থা লাইপসিশ বইমেলায় যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে; এই বইমেলাকে জার্মানির পুস্তক বাজারে প্রবেশের একটা সেতু হিসাবে দেখেন তাঁরা৷ অন্যদিকে মেলার পক্ষ থেকেও এই দেশগুলির দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়৷ যেমন ২০১১ সালে লাইপসিশ বইমেলায় সার্বিয়াকে অতিথি দেশ হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ এইবারই প্রথম বসনিয়া হ্যারৎসোগোভিনা যোগ দিল তাদের সাহিত্যের পসরা নিয়ে৷ ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সহায়তা করার জন্য প্রতিবছর লাইপসিশ বইমেলার পক্ষ থেকে যে পুরস্কারটি দেয়া হয়, এ বছর তা পেলেন হাঙ্গেরির ইতিহাসবিদ ও প্রকাশক জিয়র্জ দলোশ৷

লাইপসিশ বইমেলার পরিচালক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘গত বছরগুলিতে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় যে সব দেশ মেলায় যোগ দিয়েছিল, এবারও তারা উপস্থিত হয়েছে তাদের সাহিত্য নিয়ে৷ এছাড়া নতুন নতুন কিছু দেশও যোগ দিয়েছে এবার৷ যেমন বসনিয়া হ্যারৎসোগোভিনা৷ আমি মনে করি, লাইপসিশ মেলা এমন একটি জায়গা, যেখানে সীমিত সুযোগের মধ্য দিয়ে এই সব দেশের সাহিত্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করানো যায়৷''

এবছর এই মেলায় ৩৯টি দেশের দুই হাজারেরও বেশি প্রদর্শক যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের সাহিত্য সামগ্রী নিয়ে৷ জার্মানির দুই নোবেলজয়ী লেখক হ্যার্টা ম্যুলার এবং গ্যুন্টার গ্রাস থেকে শুরু করে ১৫০০-এর মত প্রবীণ ও নবীন লেখক এসেছিলেন এই বই মেলায়৷ সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি জগতের বহু নামিদামি ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল মেলা প্রাঙ্গণ৷

লাইপসিশ বইমেলার পরিচালক অলিভার সিলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ‘‘মেলার দর্শক সংখ্যা এখন দেড় লাখের মত৷ আমাদের দর্শকরা উচ্চ শিক্ষিত; কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা৷ ৩০ শতাংশের বয়স ২০ বছরের কম৷ অনেক শিক্ষক ও স্কুলের ছাত্রছাত্রী আসেন মেলায়৷ আমাদের মেলাকে বলা যায় দর্শকদের মেলা, সাহিত্য ও শিক্ষার মেলা৷''

Manga Comicfigur von Anike Hage, Gothic Sports

মাঙ্গা কমিক চিত্র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সবার

কমিক শিল্পীদের আগমন

এবারের বইমেলায় বিশেষ করে ছোট পাঠকদের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে৷ মেলার এক চতুর্থাংশ জায়গা শিশু ও কিশোরদের বই-এর জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছিল৷ এছাড়া মেলায় কমিক চিত্রের স্টলগুলি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সবার৷ জাপান থেকে এসেছিলেন বিশ্বখ্যাত কমিক চিত্রশিল্পীরা৷ ‘মাঙ্গা' চিত্রশিল্পী নামে পরিচিত তাঁরা৷ ভক্তরা মেলাচত্বরে তাঁদের ছবি আঁকা দেখতে ভিড় করেছিলেন চারপাশে৷ কারো কারো সুযোগ হয়েছিল অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার৷

বইমেলাকে ঘিরে সারা লাইপসিশ শহরই পরিণত হয়েছিল যেন এক সাহিত্য নগরীতে৷ শহরের ৩০০টিরও বেশি স্থানে আয়োজন করা হয়েছিল পাঠ উৎসবের৷ স্কুল, কলেজ, ক্যাফে, লাইব্রেরি, সুইমিং পুলের চত্বর – সবখানেই জমে উঠেছিল বই পাঠের আসর৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়