1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শেঙেন চুক্তির দিন কি শেষ হতে চলেছে?

প্যারিস সন্ত্রাসের পর ইইউ-তে ভিসা ছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং শুধু ফ্রান্সের তরফ থেকেই নয়৷ তথাকথিত বলকান রুটের দেশগুলিও সব উদ্বাস্তুকে ঢুকতে দিতে রাজি নয়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করা নিয়ে কথাবার্তা বলছেন৷ এর পটভূমিতে রয়েছে প্যারিস সন্ত্রাস ও তার পরবর্তী ঘটনাবলী৷ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি – নেবার প্রশ্নও ওঠে না – তবুও মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেঙেন চুক্তির অন্ত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে৷

ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেই সঙ্গে আইনমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের ডাক আসে ফ্রান্সের তরফ থেকে, এমনকি ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার কাজন্যোভ বহু ‘‘সময় নষ্ট'' হওয়ার কথা বলেছেন৷ তাঁর ক্ষোভের কারণ একটি নয়, দু'টি: প্রথমত, সন্ত্রাসীদের আগমন, উপস্থিতি বা গতিবিধি সম্পর্কে বিভিন্ন ইইউ সদস্যদেশগুলির মধ্যে খবরাখবর বা তথ্যের আদানপ্রদান দৃশ্যত ত্রুটিযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ নয়৷ দ্বিতীয়ত, উদ্বাস্তু সংকটের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা ইইউ-তে ঢুকছে কিনা, তা-ও নিশ্চিত নয়৷ কাজেই ইউরোপকে আবার ‘‘দুর্গে'' পরিণত করার দাবি – অথবা দুশ্চিন্তা – দেখা দেবে বৈকি৷

প্যারিসের স্যাঁ ডেনি এলাকায় বুধবার ফরাসি পুলিশ যে অভিযান চালায়, সেখানে মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে ঘোষিত সন্ত্রাসী আবদেলহামিদ আবাউদ নিহত হয়৷ অথচ আবাউদ সিরিয়ায় আছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছিল৷ গত জুলাই মাসে বেলজিয়ামের একটি আদালত আবাউদকে তার অনুপস্থিতিতে ২০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে৷ তার প্যারিসে থাকার হদিশটা আসে দৃশ্যত মরক্কোর গুপ্তচর বিভাগের কাছ থেকে৷

নয়ত ২০১৪ সালের গোড়ায় জার্মানির কোলোন-বন বিমানবন্দর থেকে সে ইস্তানবুল যাত্রা করে, যেখানে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরেও বিমানে উঠতে দেওয়া হয়৷ এর সঙ্গে যদি যোগ করা যায় যে, ইউরোপে বিগত কয়েক বছরের অধিকাংশ সন্ত্রাসী আক্রমণের নায়ক ছিল ইউরোপে যাদের জন্ম ও বাস, এমন সব সন্ত্রাসীরা, তাহলে বোঝা যায়: শেঙেন ইউরোপের সমস্যা নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজন তাদের বহির্সীমান্তে বাস্তবিক ও কার্যকরি নিয়ন্ত্রণ৷

বলতে কি, দিমিত্রিস আভ্রামোপুলোস, ইইউ-এর অভিবাসন, স্বরাষ্ট্র ও নাগরিকত্ব বিভাগের কমিশনার তাঁর টুইটে দু'টিকে যুক্ত করে লিখেছেন: ‘‘মুক্ত চলাফেরার শেঙেন এলাকা ঠিকমতো কাজ করতে পারে শুধুমাত্র যদি বহির্সীমান্ত সুরক্ষিত থাকে৷''

ইউরোপীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্তের আগেই ক্রোয়েশিয়া জানিয়েছে যে, তারা শুধু সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধপীড়িত দেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ঢুকতে দেবে৷ সার্বিয়া ও মেসিডোনিয়া থেকেও অনুরূপ বিবৃতি এসেছে৷

শেঙেন চুক্তির দিন কি সত্যিই শেষ হতে চলেছে? জানান আপনার মতামত, নীচের ঘরে৷

এসি/জেডএইচ (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়