1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শেখ হাসিনার আহ্বান বনাম ভারতের জঙ্গি দমন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতকে সে দেশে থাকা বাংলাদেশবিরোধী জঙ্গিদের দমনের আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি মনে করেন বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার এটাই সময়৷

এদিকে ভারত বলেছে তারা সেখানে থাকা বাংলাদেশবিরোধী জঙ্গিদের তথ্য সরবরাহ করবে৷ এই দুয়ে মিলে জঙ্গি দমনের রূপটি কেমন হবে?

গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে খগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বোমা বানাতে গিয়ে দুই জন নিহত হন৷ তারা হলেন শাকিল আহমেদ এবং সোবহান মণ্ডল৷ ভারতীয় গোয়েন্দরা তখনই দাবি করেন নিহত দুইজন বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি'র সদস্য এবং তারা বাংলাদেশের নাগরিক৷ এরপর এই ঘটনায় জড়িত আরো ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

এরপর ভারতীয় তদন্ত সংস্থা এবং গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে নানা তথ্য৷ যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো ভারতের মাটিতে বসে জেএমবি'র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার পরিকল্পনা৷ শুধু তাই নয়, তারা আরো রাজনৈতিক নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলারও ছক তৈরি করে বলে ভারত এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে৷ এই হামলা পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করে তার সুবিধা নেয়া৷

Bombenanschläge in Bangladesh

বাংলাদেশে ৫টি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে এক নম্বর জেএমবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার ভারতের একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘ভারতবিরোধী জঙ্গিদের বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করেছে তাঁর সরকার৷ এবার ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পালা৷''

তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াটা যে কী মারাত্মক, সবাইকে তা উপলব্ধি করতে হবে৷ যখন খবর পাই পশ্চিমবঙ্গেই আশ্রয় নিয়ে জঙ্গিরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, খুব খারাপ লাগে৷''

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা বলছেন তাদের হাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে আত্মগোপন করা অন্তত ১৮০ জন জঙ্গির তালিকা রয়েছে, যা তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে তুলে দেবেন৷ তাই স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশি জঙ্গিদের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে৷

বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ১২ পলাতককে ধরিয়ে দেয়ার জন্য শনিবার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারতীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ৷ এনআইএ তাদের ওয়েবসাইটে ওই ১২ পলাতকের তালিকাও প্রকাশ করেছে৷ পলাতকদের পাঁচজনের জন্য ১০ লাখ রূপি অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে৷

ওয়েবসাইটে ‘বর্ধমান দলের হোতা' হিসেবে সাজিদকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ আর অপর চারজনকে ‘সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক' বলে বর্ণনা করা হয়েছে৷

এনআইএ দাবি করেছে, এই পাঁচজন প্রায়ই মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং বর্ধমান জেলায় অবস্থান করে৷ এই দলের শাহানুর আলম, হাবিবুর রহমান শেখ ও আমজাদ আলী শেখের জন্য আরো পাঁচলাখ রূপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে৷ এছাড়া বর্ধমানের ম্যাঙ্গালকোটের বাসিন্দা আবুল কালাম ও বুরহাম শেখ এবং নদিয়ার জহিরুল শেখ ও বর্ধমানের রেজাউল করিমের জন্য আরো তিনলাখ রুপি অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি৷

এদিকে গত সপ্তাহে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দেভাল পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়ে বলেছেন, ‘‘বর্ধমান বোমা বিষ্ফোরণের পিছনে একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী জড়িত৷ তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দারা কাজ করছেন৷'' তিনি বলেন, ‘‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এখন চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে৷ দুই দেশই এখন পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কাজ করছে৷''

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, ‘‘ভারতে অবস্থান করে জঙ্গিদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার খবর আমরা জেনেছি অনানুষ্ঠানিকভাবে৷ আশা করছি আমরা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাব৷''

বাংলাদেশের গোয়েন্দারা বলছেন ভারতে বাংলাদেশি জঙ্গিদের আশ্রয় নেয়ার খবর তাদের কাছে আগেই ছিল৷ বাংলাদেশে ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে তারা এখানে কোণঠাসা হয়ে পড়ার কারণে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে৷

DW-Korrespondent in Bangladesch, Harun Ur Rashid Swapan

ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ স্বপন

বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১২ জন ভারতীয় জঙ্গিও ধরা পড়েছে৷ শুক্রবারও র‌্যাব জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুন নূরসহ পাঁচজনকে আটক করেছে৷ তারাও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছে৷

জামায়াতুল মুজাহিদিন একটি আঞলিক জঙ্গি সংগঠন৷ এর বাংলাদেশ অংশের নাম জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি৷ ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট তারা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায়৷ এরপর তারা আদালত এলাকায় হামলা চালিয়ে বিচারক হত্যাসহ মোট ২৫ জনকে হত্যা করে৷ কিন্তু শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি এবং ব্যাপক অভিযানের মুখে তারা কৌশল পরিবর্তন করে৷ এর মধ্যে একটি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা বলে জানান গোয়েন্দারা৷

ভারত বাংলাদেশকে সেখানে আত্মগোপনে থাকা জঙ্গি এবং তাদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেবে বলে জানা গেছে৷ তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তথ্য দেয়াই যথেষ্ট নয়৷ ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন৷ কারণ ভারতের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জঙ্গি তৎপরতায় অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে৷ আর ভারতীয় জঙ্গিদেরও সহায়তা পাচ্ছে তারা৷ বাংলাদেশের জঙ্গিরা ভারতীয় জঙ্গিদের আশ্রয়েই সেখানে আছে৷ বর্ধমান বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ হলেও প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের৷ জঙ্গিরা এখন নতুন ছকে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে কজ করে৷ তাই তাদের দমনে প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক তথ্য বিনিময়৷ সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার খবর শোনা গেলেও বিএসএফ কোনো জঙ্গিকে আটক করেছে এমন খবর এখনো পাওয়া যায়নি৷

ভারতে যে ৩৬টি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তালিকা এনআইএ তৈরি করেছে, তার ২৭ নম্বরে রয়েছে জেএমবি'র মূল সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন৷ আর বাংলাদেশে ৫টি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে এক নম্বর হলো জেএমবি৷

তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভারতের সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশবিরোধী জঙ্গিদের দমন করে সদিচ্ছার প্রমাণ রাখার এখনই সময়৷ প্রয়োজন মূল পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়