1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

শুশুক মরার কারণ জেলেনৌকোর জাল

বুলগেরিয়ার উপকূলে মাছ ধরার ভাসন্ত জালে জড়িয়ে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত ডলফিন, বিশেষত বেবি ডলফিন৷ দৃশ্যত এই ড্রিফ্ট-নেট ফিশিং বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায় এই সরকারের নেই৷ এক অসহনীয় পরিস্থিতি৷

জারেভোর জেলেদের মতে কৃষ্ণসাগরে শুশুক, মানে ডলফিনদের সংখ্যা বড় বেশি৷ জেলেরা বলে, ডলফিনরা আছে মহাসুখে; প্রত্যেকে রোজ ২০ কিলো করে মাছ খায় – গিয়র্গি যা নিজে ধরতে পারলে খুশি হতেন৷ এ-বছর বুলগেরিয়ার উপকূলে যে শত শত মরা ডলফিন ভেসে উঠেছে, তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই গিয়র্গির৷ ওদিক পরিবেশবাদীরা শুশুকের মৃত্যুর জন্য ব্যাপক ড্রিফ্ট-নেট ফিশিংকে দায়ী করছেন৷

‘সেভ কোরাল বিচ' পরিবেশ গোষ্ঠীর আতানাস রুসেভ বললেন, ‘‘ওটা একটা বিরাট ব্যবসা৷ তিন কিলোমিটার লম্বা একটা ভাসন্ত জাল দিয়ে ৮০০ কিলোগ্রাম টার্বট মাছ ধরা যায়৷ একশ' কিলোমিটার লম্বা জাল থাকলে দুই থেকে চার টন মাছ ওঠে৷ তুরস্কের বাজারে এক কিলো মাছের দর ওঠে ৪০ ইউরো অবধি৷ কাজেই কয়েকদিনের মধ্যেই লাখ পাঁচেক ইউরো রোজগার করা যায়৷ ঢেউয়ের সাথে যে সব মরা বাচ্চা শুশুকগুলো ভেসে ওঠে, সেগুলোকে স্রেফ জাল থেকে বার করে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে৷''

পরিবেশবাদীরা ব্যাপারটা সরকারের কানে তুলেছেন; সরকারও ভাসন্ত জাল নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ কিন্তু এ পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি৷ বুলগেরিয়ার পরিবেশ ও পানি মন্ত্রণালয়ের মিরোস্লাভ কালুগেরোভ বলেছেন, ‘‘আপাতত আমি শুশুক মৃত্যুর কোনো বিশেষ কারণ দর্শাতে চাই না, কেননা আমরা এ নিয়ে গবেষণা বা ময়নাতদন্ত করিনি৷ দুর্ভাগ্যবশত আমরা এখনও ময়নাতদন্ত করার মতো কোনো শুশুকের লাশ খুঁজে পাইনি৷''

শুশুকের জীবন-মরণ

রোমানিয়ার জীববিজ্ঞানী রাজভান পপেস্কু নিজের উদ্যোগে বুলগেরিয়ায় এসেছেন পরিবেশবাদীদের সাহায্য করতে৷ তিনি একটি শুশুকের লাশ কেটে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করবেন৷ বুলগেরিয়ায় এ কাজের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ কিংবা স্পেশাল ল্যাবরেটরি নেই, কাজেই তাঁকে ব্যবস্থা করে নিতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘শুশুকদের অধিকাংশই স্ট্রেসের মধ্যে রয়েছে, কেননা তারা যথেষ্ট খাবার খুঁজে পাচ্ছে না, জেলেদের জালে জড়িয়ে পড়ছে৷ যে সব পুরনো জাল কেটে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিংবা টার্বট ধরার জাল৷ এছাড়া আছে বেআইনি মাছ ধরা৷ কর্তৃপক্ষের তা বন্ধ করার জন্য আরো সচেষ্ট হওয়া দরকার৷''

জেলেদের আইনি বা বেআইনি জালে বহু শুশুক প্রাণ হারায়৷ যে সব ড্রিফ্ট-নেট কেটে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হয়ে দাঁড়ায় গোস্ট নেট বা ভুতুড়ে জাল – ঠিক জলের তলায় ভেসে থাকে, যা শুশুকদের পক্ষে বিশেষভাবে বিপজ্জনক৷ কৃষ্ণসাগরে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার ভুতুড়ে জাল ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অনুমান করা হয়৷ জেলেরা কিন্তু কোনোরকম দায় নিতে রাজি নন৷ ধীবর গিয়র্গি পাইশেভ বলেন, ‘‘আমার মতে জেলেরা কৃষ্ণসাগরের ডলফিনদের সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়৷ অন্তত তিন-তিনটি কর্তৃপক্ষ মাছ ধরার তদারকি করেন: সামুদ্রিক প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী ও ফিশারিজ অথরিটি৷ সাগরে যা কিছু ঘটছে, সব তারা মনিটরে দেখতে পান৷''

কেউ ব্যগ্র নন

আজ ফিশারি কর্তৃপক্ষের মনিটরে কোনো বেআইনি মৎস্যশিকারীকে দেখা যাচ্ছে না৷ তার কারণ: বেআইনি মৎসশিকারীরা তাদের জাল ফেলে উপকূল থেকে ৪০ কি ৫০ সামুদ্রিক মাইল দূরে – যেখানে সরকারের ছোট, ধীরগতির, সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী বোটগুলো পৌঁছাতে পারে না৷ কিন্তু সরকারও যে বেআইনি মাছধরা বন্ধ করতে খুব ব্যগ্র, এমন মনে হয় না৷ মাত্র কয়েকজন পোচার মাঝেমধ্যে ধরা পড়ে৷ বুলগেরিয়ান ফিশারিজ অথরিটির ডব্রিন লেচেভ বলেন, ‘‘গতবছর আমরা সরকারি কৌঁসুলির হাতে চারটি মামলা তুলে দিয়েছি৷ কিছু কিছু মামলা এখনও চলেছে....আমরা যা দেখি, তার সব কিছু রিপোর্ট করি আর পোচিং পুরোপুরি থামানোর আশা করি৷''

বুলগেরিয়ায় এ যাবৎ একজন পোচারকেও জেলে পাঠানো হয়নি৷ পরিবেশবাদীরা ড্রিফ্ট-নেট ফিশিং নিষিদ্ধ করার ডাক দিয়েছেন৷ সেটাই যে শুশুক মৃত্যুর মূল কারণ, সে বিষয়ে তাঁদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই৷ ‘সেভ কোরাল বিচ' পরিবেশ গোষ্ঠীর আতানাস রুসেভ বলেন, ‘‘এ বছর যে সব শুশুকের লাশ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, দেখা গেছে, তারা জলে ডুবে মরেছে৷ সেটা শুধু ঘটতে পারে যদি তারা জেলেদের বেআইনি জালে আটকা পড়ে আর বেরোতে না পারে৷''

পরিবেশবাদীরা চারশ'র বেশি মরা শুশুক নথিবদ্ধ করেছেন: বেপরোয়া মাছধরার শিকার ডলফিনরা বুলগেরিয়ার সৈকতে ভেসে উঠেছে৷

পাউল টুটসেক/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক