1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শুধু নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক দিকও রয়েছে পাকিস্তানের

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সহিংতা আর নারী নির্যাতন ছাড়াও পাকিস্তানের যে একটা ভিন্ন রূপ আছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত নয় – দাবি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের৷ তাঁদের অভিযোগ: গণমাধ্যম সব সময় দেশের নেতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরে৷

অনেক পাকিস্তানি মনে করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাঁদের দেশের ভাবমূর্তিকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের তকমা দিয়ে তার খারাপ দিকগুলো তুলে ধরার অপপ্রয়াস করে থাকে৷ তাঁরা বলেন, দারিদ্র্য, আত্মঘাতী বোমা হামলা, নারী বিদ্বেষ ছাড়াও পাকিস্তানিদের কিন্তু অন্য দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে৷

স্বাভাবিক জীবনযাপন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের আসল রূপ তুলে ধরতে আগ্রহী নন৷ তাঁর কথায়, ‘‘যখনই কোনো সাংবাদিক তাঁদের সাথে কথা বলতে আসেন, সেখানকার সমাজ-সংস্কৃতি নিয়ে তাঁদের কোনো আগ্রহ থাকে না৷ বরং কোথায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, তালেবান জঙ্গিদের কী অবস্থা, আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক – এ সব বিষয়েই তাঁদের আগ্রহ৷ তানভীর আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে বসবাসরত আর দশটা মানুষের মতোই পাকিস্তানিদের জীবনযাপন যে স্বাভাবিক, এটা কেউ তুলে ধরে না৷ অন্যান্য অনেক দেশের মতোই তাঁরা কিছু ক্ষেত্রে যেমন নিরপেক্ষ আবার কিছু ক্ষেত্রে বেশ রক্ষণশীল৷

পাকিস্তানের দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল'-এর নারী বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদক ইরাম মুজাফ্ফর তানভীরের সাথে একমত৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের উচিত পাকিস্তানের সমাজ-সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো উপস্থাপন করা৷ এই যেমন প্রতিবেশী দেশ ভারত৷ সেখানে হাজারো সমস্যা রয়েছে, কিন্তু গণমাধ্যমে তাদের ভালো খবরগুলোর বেশি প্রকাশ হয়৷''

Bildergalerie Das andere Pakistan

উর্দু কবিতা পাঠের আসর

সাংস্কৃতিক আন্দোলন

এটা সত্য যে এত সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদের পরও পাকিস্তানিদের জীবনযাপনে কোনো বিপত্তি নেই৷ স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে তাঁদের জীবন৷ এমনকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত চলে থিয়েটার এবং কনসার্ট৷ নারী-পুরুষের মেলামেশাও এ দেশে বিরল নয়৷ এমনকি বড় বড় শহরে মদ্যপানের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো বাধা নেই৷

করাচির আহমেদ মীর জানান, গত কয়েক বছরে সেখানে ম্যাক ডোনাল্ডস এবং বার্গার কিং-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের খাবারের দোকান হয়েছে, যেখানে অনেক পাকিস্তানি পরিবার নিয়ে খেতে আসে৷ রাতেরবেলায় খাওয়া শেষে তারা বাইরে ঘুরে বেড়ায়৷ রাস্তার খাবার উপভোগ করেন নারী-পুরুষ উভয়েই৷ এমনকি অনেকে রাতে সিনেমা দেখতে হলেও যান৷

করাচি শহরটিতে চিত্রশিল্পী, সংগীত শিল্পী, লেখকের সংখ্যা অনেক৷ কিন্তু তাঁরা সবাই শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ তবে এখনও আশা ছাড়েননি তাঁরা৷ তাঁরা মনে করেন, সহিংতার পথ থেকে ফেরাতে হলে মানুষকে এর বিপরীত পথে উদ্বুদ্ধ করতে হবে৷ আর তারই চেষ্টা করে চলেছেন তাঁরা৷

আহমেদ মীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘জঙ্গিদের হাতিয়ার যদি বন্দুক হয়, তবে আমার হাতিয়ার হলো গিটার৷ তাই আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যতই বাধা আসুক আমরা গানের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিয়ে যাবো, আয়োজন করবো নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের৷''

করাচি, ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের অনেক শহরেই ‘ওপেন এয়ার কনসার্ট' জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷ এ সব কনসার্টে পাকিস্তানের যুব সম্প্রদায়ের প্রতিভার দেখা পাওয়া যায়৷ পাকিস্তানিরা কবিতা বা আবৃত্তির প্রতি ভীষণ অনুরক্ত৷ তাছাড়া উর্দু কবিরা তো এ সব সংগীত শিল্পীদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়৷

Bildergalerie Das andere Pakistan

নারী-পুরুষ একসঙ্গে

করাচির আর এক শিক্ষার্থী মাশরুর মির্জা ডয়চে ভেলেকে বলেন, উর্দু কবিতা বরাবরই খুব ধর্মনিরপেক্ষ এবং কট্টরপন্থার বিরোধী৷ উর্দু কবিতার জনপ্রিয় কবি মির্জা গালিবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘গালিব এমন একজন কবি ছিলেন, যাঁর সঙ্গে হয়ত কেবল মহাকবি শেক্সপিয়ারের তুলনা চলে৷'' করাচিতে অন্তত ২৫টি আর্ট গ্যালারি রয়েছে৷ প্রায়ই এগুলোতে তরুণ ও অভিজ্ঞ চিত্রশিল্পীদের চিত্র প্রদর্শন করা হয়৷

বিদেশি পর্যটকদের কাছে পাকিস্তান সবচেয়ে অনিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত এখন৷ তবে পাকিস্তানিরা মনে করেন, অপহরণ বা হত্যার যত ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় তার বেশিরভাগই অতিরঞ্জিত এবং রটনা৷ তাঁরা বলেন, যেসব মার্কিন ও ইউরোপীয় নাগরিক পাকিস্তান সফর করতে আসেন তাঁদের ভালোভাবে আপ্যায়ন করা হয় এবং তাঁদের সাথে আজ পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি৷

মারিয়ন রোলান্ডের কথাই ধরা যাক৷ ইনি করাচির একটি ফরাসি সাংস্কৃতিক সংগঠনে কাজ নিয়ে সুদূর ফ্রান্স থেকে এসেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘করাচিতে থাকতে আমার বেশ লাগছে৷ আমার তো মনে হয়, এ শহরে অনেক ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, যার সাথে পরিচিত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়