1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শুধুমাত্র কুকুরদের জন্য গোসলখানা!

আজকাল অনেকেই ‘কার ওয়াশ সেন্টার’ থেকে নিজের অপরিষ্কার গাড়িটি ঝকঝকে করে বাড়ি ফেরেন৷ তাই বলে ‘ডগ ওয়াশ সেন্টার’ বা কুকুরদের গোসলখানা? হ্যাঁ, এক জার্মান দম্পতি এবার এমন এক গোসলখানা তৈরি করেছেন৷

অনেক জার্মানই বাড়িতে নানা রকম পাখি, বেড়াল বা কুকুর পোষেন৷ তবে প্রভুভক্ত কুকুর পুষতেই তাঁরা যেন একটু বেশি ভালোবাসেন৷ হিসেব অনুযায়ী জার্মানিতে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি পোষা কুকুর আছে৷ কুকুরকে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের মতোই দেখেন৷ এমনও শোনা যায় যে, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দায় কুকুরের মালিকরা নাকি নিজের ক্ষেত্রে কিছুটা খরচ কমালেও কুকুরের প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র আগের মতোই কেনাকাটা করেন৷ গৃহপালিত কুকুরের স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে অর্গানিক খাবার কেনেন কিংবা অনলাইনে বিশেষ ধরণের খাবারের অর্ডার দেন৷ মালিকের মতো কুকুরও যেন সুস্থ থাকে সেজন্য স্বাস্থ্যবীমাও করে থাকেন অনেকে৷ এমনকি খাবারের রুচি বদলাতে মাঝে মধ্যে কুকুরকে নিয়ে যাওয়া হয় কুকুরদের জন্য তৈরি বিশেষ রেস্তোরাঁয়৷

এছাড়াও কুকুরদের জন্য জার্মানিতে আছে বিশেষ চুল কাটার সেলুন, আলাদা খেলনার দোকান, কত কী! সোজা কথায় কুকুরকে নিজের সন্তান, প্রকৃত বন্ধু এবং পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই দেখা হয় জার্মানিতে৷

এখানেই শেষ নয়, কুকুরপ্রেমী এক জার্মান দম্পতি ভেরা এবং গিয়র্গ মুর জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যে, অস্ট্রিয়া এবং ইটালিতে তৈরি করেছেন কুকরদের জন্য মোট ৩১টি বিশেষ ধরণের গোসলখানা বা ‘ডগ ওয়াশ সেন্টার'৷ মানে ‘কার ওয়াশ সেন্টার'-এর মতো এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে মালিক পোষা কুকুরটি খুব সহজে গোসল করিয়ে দু'জনে একেবারে ‘টিপটিপ' অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারেন৷

গোসলখানাগুলো দেখতে কেমন আর কী সুবিধাই বা সেখানে রয়েছে? কুকুরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সোজা গোসলখানার বাথটবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়৷ টবের মেঝেতে লাগানো রয়েছে বিশেষ ধরনের ‘ম্যাট', যাতে কুকুর পা পিছলে পড়ে না যায়৷ তারপর ‘কয়েন বক্সে' পয়সা ঢুকিয়ে দিলেই খোলা জায়গায় তৈরি গোসলখানার যন্ত্রগুলো, অর্থাৎ পানি, শ্যাম্পু, ড্রায়ার ইত্যাদি সচল হয়ে যায়৷

দেয়ালে ঝুলে থাকা শাওয়ার টেনে নিয়ে কুকরকে গোসল করানো শুরু হয় তারপর৷ আরো একটি বোতামে টিপ দিলেই বেরিয়ে আসে শ্যাম্পু৷ এছাড়া কুকুরের চুল ও গায়ের লোম শুকানোর জন্য রয়েছে অন্য আরেকটি বোতাম৷ ১৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের যে কোনো কুকুরকে এখানে গোসল করানো যায়৷ ছোট কুকুরের জন্য দিতে হয় মাত্র তিন ইউরো আর বড় কুকরদের জন্য লাগে প্রায় ১২ ইউরো৷

কুকুরের মালিক স্ভেন কাম্পস তাঁর মেয়েকে সাথে নিয়ে কুকুরকে গোসল করাতে নিয়ে গেছেন বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যের ঐ ‘ডগ ওয়াশ সেন্টারে'৷ ছোট্ট মেয়েটি খুবই আনন্দের সাথে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রিয় বন্ধু কুকুরকে গোসল করায়৷ বাবা স্ভেনের কথায়, ‘‘কুকুরকে সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর পর গোসল করাতে হয়৷ তাছাড়া বাড়িতে কুকরকে গোসল করাতে বেশ ঝামেলা হলেও, এখানে খুব সহজেই তা সম্ভব৷''

কুকুরের গোসলখানার মালিক ভেরা মুর আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘‘৩০ বছর আগে ‘কার ওয়াশ সেন্টার' ছিল না, এখন যা বেশ জনপ্রিয়৷'' আর ভেরার স্বামী গিয়র্গ বলেন, ‘‘জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং ইটালি মিলিয়ে আমাদের ৩১টি সেন্টার থাকলেও ইটালিতেই ব্যবসা সবচেয়ে ভালো চলছে৷''

কুকুরের গোসল শেষে আরেকজন কুকুরের মালিক এলিজাবেথ মোরা বলেন, ‘‘বাড়িতে কুকরকে গোসল করানো, সারা গায়ের চুল শুকানো ইত্যাদি করতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়, যা কুকুরের জন্য ‘স্ট্রেস'-এর কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ এখানে কুকুররা বিরক্ত বোধ করলে সরাসরি ড্রায়ারটা বন্ধ করে দিলেই শেষ৷ কত সুবিধা! তাছাড়া কুকুর তো প্রাণী, গাড়ি ধোওয়ার মেশিন তো নয়!''

নির্বাচিত প্রতিবেদন