1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শিশু পর্নোগ্রাফি এবং নির্যাতন রোধে সোচ্চার ইইউ

শিশু পর্নোগ্রাফি রোধ এবং শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন বন্ধে নতুন আইনের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ তবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করা হবে, নাকি অশালীন চিত্রসমূহ মুছে ফেলা হবে - এই নিয়ে রয়েছে বিতর্ক৷

default

রয়েছে তথ্য অধিকারের প্রশ্ন৷ তাই তথ্য প্রযুক্তির সকল মাধ্যমেই জনগণের প্রবেশাধিকার থাকতে হবে৷ অপরদিকে, যৌন শিক্ষায় অজ্ঞ থাকলে ভয়াবহ নানা যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা৷ তাই যৌন শিক্ষা নিয়ে এতো রাখঢাক কেন? আধুনিক সমাজে এমন দাবি যখন বেশ জোরালো, ঠিক তখনই শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে আরো কঠোর পন্থার কথা জানালো ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

তবে এনিয়ে এখনও চলছে বিতর্ক৷ কারণ, কারিগরি দিক দিয়ে নতুন এই প্রস্তাবনা কতটা নিখুঁত তা আরো খতিয়ে দেখতে হবে বলে দাবি উঠেছে৷ তবে শুধু শিশু পর্নোগ্রাফি রোধই নয়, ইউরোপীয় কোন নাগরিক নিজ দেশে কিংবা অন্য দেশে গিয়ে শিশু নির্যাতন করলেও তাদের জন্য আরো কঠোর দণ্ডের দাবি তুলেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো৷ সম্প্রতি শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনসহ শিশু পর্নোগ্রাফির ঘটনা উচ্চ হারে প্রকাশের ফলেই ইইউ গোষ্ঠীর এমন উদ্বেগ৷ ইইউ-এর এক হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এক হাজার বাণিজ্যিক ও পাঁচশ' অবাণিজ্যিক শিশুপর্নো সাইট চিহ্নিত করা হয়৷ তাই গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া লিসবন চুক্তির আওতায় এসব অপরাধের একটা বিহীত করতে চাই সদস্য দেশগুলো৷

Cecilia Malmström Flash-Galerie

‘‘এটা নৃশংস অপরাধ, যা শিশুদের মর্যাদা চিরতরে ধ্বংস করে দেয় : ইইউ’র স্বরাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনার সেসিলিয়া মাল্মস্ট্রম

ইইউ স্বরাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনার সেসিলিয়া মাল্মস্ট্রমের কণ্ঠেই উচ্চারিত হলো এমন সুর৷ বিশেষ করে শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে সকল সদস্য দেশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি৷ মাল্মস্ট্রম বলেন, ‘‘শিশুরা নির্যাতন এবং ধর্ষণের শিকার হচ্ছে৷ আর এসব দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এটা বাক স্বাধীনতা হতে পারে না৷ এটা নৃশংস অপরাধ, যা এসব শিশুদের মর্যাদা চিরতরে ধ্বংস করে দেয়৷ এটার বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়তে হবে৷''

তিনি বলেন, শিশু পর্নোগ্রাফি সমৃদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ বন্ধে কারিগরি ব্যবস্থা তৈরি করা হবে৷ কারণ এসব সাইট যেখানে আছে সেখান থেকে তা বন্ধ করা কঠিন, বিশেষত সেগুলো যদি ইইউ-র বাইরে থাকে৷ এই ব্যবস্থা ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে৷ এবং তা কাজও করছে৷

এছাড়া ভিন্ন কোন দেশে গিয়ে যারা শিশুদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, সেসব ইউরোপীয় নাগরিক বর্তমান আইনে ছাড় পেয়ে গেলেও সেই সুযোগ আর রাখতে চায় না ইইউ৷ আগের আইন অনুযায়ী, ঘটনা যে দেশে, সেদেশেই বিচার হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু এখন নতুন প্রস্তাবনায় বলা হচ্ছে, ঐসব ইউরোপীয় নাগরিকের বিচার নিজ দেশেই করার বিধান রাখতে হবে৷

Symbolbild Kinderpornographie

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে শিশুদের অশোভন ভিডিও

নতুন এই প্রস্তাবনায় সব ধরণের অশোভন তথ্য-উপাত্ত প্রদর্শন বন্ধের কথা বলা হচ্ছে৷ এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র সংরক্ষণ কিংবা বিতরণই নয়, বরং এধরণের কিছু খোঁজা কিংবা এই সংক্রান্ত ওয়েবসাইট পরিদর্শনও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷ এছাড়া, যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্য নিয়ে ইন্টারনেটে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে কিংবা শিশুদের অশোভন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ালেও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে৷ আর এই ধরণের অপরাধের জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হবে৷ এমনকি কোন ইউরোপীয় নাগরিক ইউরোপের বাইরে কোথাও এমন অপরাধ করলে, তাকেও একই শাস্তি পেতে হবে৷

অবশ্য, শিশুদের এমন নিগ্রহের হাত থেকে সুরক্ষায় এই প্রস্তাবনাটিকে আইনে পরিণত করতে হলে ইইউভুক্ত সবগুলো দেশের সমর্থন থাকতে হবে৷ অনুমোদিত হতে হবে ইউরোপীয় সংসদেও৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত জার্মানিসহ কিছু সদস্য দেশ এই প্রস্তাবনার সাথে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেছে৷ জার্মানির আইনমন্ত্রী জাবিনে লয়েটহয়জার-শ্নারেনবের্গার বলেন, ‘‘এসব নিষিদ্ধ বিষয় ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলা হোক৷ কিন্তু আমরা ব্লক করতে চাই না৷ কেননা তা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়৷'' তাঁর দাবি, ‘‘এই পন্থা খুব একটা কার্যকর হবেনা৷ কারণ কারিগরি দিক থেকে ওয়েবসাইট ব্লক করার পরও তা পরিদর্শনের আরো উপায় রয়েছে৷ আর তাতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদেরও আস্থা নষ্ট হয়৷''

এছাড়া বাক স্বাধীনতার নীতিতেও ইন্টারনেটের উপর এমন খড়গহস্ত হওয়া যায় না৷ তাই ইন্টারনেট ব্লক করার বদলে বরং এমন অশালীন সাইটগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলার পক্ষে জার্মানি৷ তাছাড়া এসব অবৈধ কর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচারে আইন তো রয়েছেই৷ কিন্তু জার্মানির এমন অবস্থানের সমালোচনা করেন ইউরোপীয় সংসদের সদস্য মানফ্রেড ভেবার৷ তিনি বলেন, ‘‘শিশু পর্নোগ্রাফি রোধ বাক স্বাধীনতার পথে বাধা হতে পারে না৷ এটা আমার বোধগম্য নয় যে, সাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া সেন্সর আরোপ হলে, অশালীন উপাদানগুলো মুছে ফেলা কেন সেন্সর আরোপ হবে না৷''

প্রতিবেদক : হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা : দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়