1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘শিশুদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না’

ঢাকার আজিমপুরের একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া তিন শিশুর পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ এদের মধ্যে ১৪ বছরের এক কিশোরকে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷ প্রশ্ন উঠেছে তার ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েও৷

সিশুর হাতে খেলনার পিস্তল

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে জঙ্গি আস্তানা থেকে শিশু উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম৷ উদ্ধার করা তিনটি শিশুর বয়স এগারো মাস, ছয় বছর এবং ১৪ বছর৷ পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলেও, শেষ পর্যন্ত ১৪ বছরের সেই কিশোরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে রবিবার, মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য৷ পুলিশ এজাহারে অভিযোগ করে, ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় ১৪ বছরের ঐ কিশোরও চাকু নিয়ে তেড়ে এসেছিল৷ তাই তাকে মামলায় আসামিও করা হয়েছে৷

অভিযানে তানভীর কাদেরি ও জামসেদ ওরফে করিম নামে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ এছাড়া আহত হয়েছে তিনজন নারী৷ এগারো মাসের ছেলেটি তানভীরের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ আদালত তাকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সীমিত কিছু ক্ষেত্র ছাড়া শিশুদের সাধারণত রিমান্ডে নেয়ার বিধান নেই৷ তবে সে যেহেতু আসামি, সেই বিবেচনায় আদালত তাকে রিমান্ডে দিয়ে থাকতে পারে৷ কিন্তু তাকে অবশ্যই ২০১৩ সালের শিশু আইনের আওতায় জ্ঞিাসাবাদ করতে হবে৷ অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে পেনাল কোড বা সিআরপিসি কার্যকর হবে না৷ আইন বলছে তার শিশু অধিকার কোনোভবেই খর্ব করা যাবে না৷ তাকে অপরাধী বিবেচনার কোনো সুযোগই নেই৷''

অডিও শুনুন 06:05

‘শিশুটিকে ২০১৩ সালের শিশু আইনের আওতায় জ্ঞিাসাবাদ করতে হবে’

এছাড়াও তিনি জানান, ‘‘১৪ বছরের সেই শিশু বা কিশোরকে নারী পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, থানা বা পুলিশ হাজতে তাকে রাখা যাবে না৷ এর সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশন অফিসারের সহায়তা নিতে হবে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আইনের চোখে সে যদি কোনো অপরাধ করেও থাকে, তাহলেও তাকে পাঠাতে হবে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে৷ কোনো দণ্ডই ১৮ বছর হওয়ার আগে কার্যকরের সুযোগ নেই৷ শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এ অপরাধকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না৷ আইন অন্তত সেটাই বলছে৷ তার মানে, চাকরি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে তার এই অপরাধ বাধা হবে না৷''

অধ্যাপক হাফিজুর রহমানের কথায়, ‘‘বাংলাদেশে এটি একটি নতুন পরিস্থিতি৷ এ ধরনের শিশুদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে৷ কারণ তারা পরিস্থিতির শিকার৷ এরজন্য তারা কোনোভাইে দায়ী নয়৷ আমরা যদি তাদের জন্য অবহেলা বা ঘৃণার পরিবেশ সৃষ্টি করি, তাহলে তা আমাদের জন্যই ক্ষতিকর৷ কারণ এমনটা হলে তারা হয়ত পরিণত বয়সে জঙ্গি হিসবেই আত্মপ্রকাশ করবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘সামনে হয়ত আরো অনেক শিশু পাওয়া যাবে, যারা জঙ্গি পরিবেশে বড় হচ্ছে বা তাদের বাবা-মা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত৷ তাই এখনই এই ধরনের পরিবেশে বড় হওয়া শিশুদের জন্য বিশেষ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন৷ সেটা ঠিক কী ধরনের হতে পারে, তা নিয়ে ভাবার আছে৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই শিশুদের কেউ কেউ জঙ্গি শিশু বলছে, যা আমাকে অবাক করেছে৷ তারা তো জঙ্গি না৷ জঙ্গি তাদের বাবা অথবা মা৷ তাই এদের পুনর্বাসন দরকার৷ কোনোভাবেই এদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না৷''

অডিও শুনুন 04:21

‘তারা জঙ্গি নয়, জঙ্গি তাদের বাবা অথবা মা’

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই শিশুদের মনোজগৎ বিশ্লেষণ করে তাদের সঠিক পথে নিয়ে আসতে হবে৷ নয়ত তারা আরো ‘ভালনারেবল' হয়ে উঠতে পারে৷ তবে এ জন্য আলাদা ধরনের পুনর্বাসন কেন্দ্র বা শেল্টার হোম থাকা দরকার৷''

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘সরকারের সামর্থ্য থাকলে যেসব ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যরা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত, তাদের পরিবারের শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন৷ সম্ভব হলে অভিভাবকত্বে পরিবর্তন আনতে হবে৷''

এদিকে ১৪ বছরের ঐ শিশুটিকে রিমান্ডে নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)৷ সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, ‘শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী কোনো শিশুকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ সীমিত৷ বরং এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশুর বিচার কার্যক্রমে আদালতের কাঠগড়া ও লালসালু ঘেরা আদালত কক্ষের পরিবর্তে সাধারণ কক্ষে শিশু আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে৷ সেই সঙ্গে বিচার চলাকালীন আইনজীবী, পুলিশ বা আদালতের কোনো কর্মচারী আদালত কক্ষে তাদের পেশাগত বা দাপ্তরিক কোনো ইউনিফর্ম পরতে করতে পারবেন না৷ তাছাড়া বিচার চলাকালীন শিশুকে তার পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা ও আইনজীবীর কাছে বসার ব্যবস্থা করতে হবে৷ তদন্তকালীন সময়ে শিশুর অভিভাবক বা পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ করবেন৷'

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ায় যেন মানসিক চাপ না পরে, সেজন্য উল্লেখিত বিধানগুলো রাখা হয়েছে৷ এভাবে একটি শিশুকে রিমান্ডে নেয়া বাংলাদেশের সংবিধান এবং শিশু আইনের পরিপন্থি৷ আমরা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে শিশুদের বিষয়ে সুচিন্তিত ও অধিকার সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ আশা করি৷'

বন্ধু, শিশুর অপরাধকে কি আপনি ‘অপরাধ’ বলবেন? না বলবেন ‘ভুল’? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়