1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘শিক্ষকের অবমাননা আমাদেরই ছোট করেছে'

নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে অবমাননার ঘটনা কেউই মানতে পরছেন না৷ এর জন্য দায়ী সাংসদ আইনের আওতায় না আসায় ক্ষুব্ধ সকলে৷ শিক্ষাবিদরা বলছেন, ‘‘দ্রুত দায়ীদের শাস্তি না হলে শিক্ষকদের প্রতি আমাদের অসম্মানজনক মনোভাবই স্পষ্ট হবে৷''

গত ১৩ মে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্ম নিয়ে কটুক্তির গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠ-বস করার শাস্তি দেয়া হয়৷ স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নিজে উপস্থিত থেকে এই শাস্তি কার্যকর করেন৷

বাস্তবে কিন্তু এই প্রধান শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কোনো কটুক্তি করেননি৷ কয়েকদিন আগে তিনি স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে দৈহিক শাস্তি দেন৷ সে ঘটনাকে ইস্যু করেই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটিতে তাঁর বিরোধী গ্রুপের সদস্যরা ধর্ম নিয়ে কটুক্তির গুজব ছড়ায়৷

অডিও শুনুন 02:24

‘‘শিক্ষকের এই অবমাননা আমাদের জন্য লজ্জার''

ঘটনার দিন এলাকার মজজিদ থেকে মাইকে এই গুজব প্রচার করা হয়৷ এরপর লোকজন জড়ো হলে শিক্ষককে মারধোর করা হয়৷ তারপর সাংসদ সেলিম ওসমান গিয়ে শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বসের শাস্তি দেন এবং তা কর্যকর করেন৷

এই ঘটনার ছবি এবং খবর সংবাদমাধ্যম হয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়৷ শিক্ষা মন্ত্রণালায় এরইমধ্যে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে৷ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘‘আমি লজ্জিত, আমি দুঃখিত৷ শিক্ষক অবমাননাকারীদের শাস্তি পেতে হবে৷'' কিন্তু ঘটনার পর চারদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি৷ আজও বহাল তবিয়তে আছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান৷

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিক্ষকের এই অবমাননা আমাদের জন্য লজ্জার৷ তাঁকে অবমাননা আমাদেরই ছোট করেছে৷ তদন্ত কমিটি কবে প্রতিবেদন দেবে আর কবে শাস্তি হবে! যারা অপরাধ করেছেন তাদের ছবি আছে, ভিডিও আছে৷ তা দেখেই শাস্তি দেয়া হোক৷''

তিনি জানান, ‘‘একজন সংসদ সদস্যের সামনে শিক্ষককে এই শারীরিক শাস্তি আমাদের বলে দেয় যে, সমাজ এখনো শিক্ষকদের সম্মানের চোখে দেখছে না৷ সমাজপতিরা শিক্ষকদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে করেন না৷''

অডিও শুনুন 00:43

‘‘শিক্ষককে অবমাননাকারী সাংসদ বা অন্য কোনো প্রভাবশালী – যে-ই হোক না কেন, তাকে শাস্তি দিতে হবে''

তাই অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, ‘‘শিক্ষকদের যদি এভাবে অপমানজনক শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে তা আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই অশনিসংকেত৷ শিক্ষদের সম্মান না থাকলে তাঁরা শিক্ষিত জাতি কিভাবে গড়ে তুলবেন?''

তাঁর কথায়, ‘‘তিনি যদি কোনো ছাত্রকে ক্লাসে মেরে থাকেন, তার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থার বিধান আছে৷ তা না করে উল্টে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের উপস্থিতে তাঁকে যে শাস্তি দেয়া হলো, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম আরেফিন সিদ্দিক ডয়চে ভেলেকে এ প্রসঙ্গে বলেন, এই ঘটনা নিন্দনীয়৷ শিক্ষককে অবমাননাকারী সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো প্রভাবশালী – যে-ই হোক না কেন, তাদের শাস্তি দিতে হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজ শিক্ষকদের সম্মান করতে শিখিয়েছে, এটা বজায় রাখতে হবে৷ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে তার অন্যথা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি না৷ শিক্ষকরা সম্মানের আসনেই আছেন এবং থাকবেন৷''

ঘটনায় আলোচিত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান অবশ্য ঘটনার ঠিক পর পর সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘‘এটা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না৷'' তবে মঙ্গলবার ডয়চে ভেলের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি৷

অডিও শুনুন 00:45

‘‘আমার বিরুদ্ধে মামলা চলছে, তাই কিছুই বলতে পারছি না’’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘সরি স্যার' হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে শিক্ষক অবমাননার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে৷ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এই হ্যাশট্যাগে নিজেরা কান ধরে সেই ছবি তুলে ‘পোস্ট' করছেন৷

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শ্যামল কান্তি ভক্তকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছেে৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমি আজ (মঙ্গলবার) বরখাস্তের চিঠি পেয়েছি৷ স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম ১৬ মে বরখাস্তের আদেশে সই করেছেন৷’’

প্রসঙ্গত, চিঠিটি প্রস্তুত করা হয়েছে ১৩ মে, অর্থাৎ অবমানার দিনই৷ সাময়িক এই বরখাস্তের আদেশে চারটি কারণ দেখানো হয়েছে – ছাত্রদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য, ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয় থেকে অনুপস্থিত থাকা এবং সময়মতো বিদ্যালয়ে না আসা৷ এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি৷

বন্ধু, আপনার জীবনে কি কোনো শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা আছে? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়