1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘শাহাদাত হোসেন, আপনি লাথি মেরেছেন কোটি শিশুর স্বপ্নে'

‘‘ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজিব, আপনি লাথি মেরেছেন লাল সবুজের পতাকায়, কোটি শিশুর স্বপ্নে, যারা বড় হয়ে আপনার মতো হতে চাইতো৷'' আমাদের ফেসবুক পাতায় গৃহকর্মী নির্যাতন বিষয়ক পোস্টে পাঠকদের এ রকম নানা মন্তব্য উঠে এসেছে৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় গৃহকর্মী নির্যাতনের পর পলাতক বাংলাদেশের ক্রিকেটার শাহাদাত ও তাঁর স্ত্রী-এর বিষয়ে পোস্টটি পড়ে সুমন নিনাদ মতামত জানিয়েছেন বিস্তারিকভাবে৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘আজকাল আর অবাক হই না, চমকে উঠি না, চিন্তা করে রোমকূপ শিহরিত হয় না৷ দিন দিন গায়ে সয়ে যাচ্ছে৷ শুধু বারবার মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দেয়৷ আমাদের পূর্বপুরুষরা কি বর্বর ছিলেন? আমরা কি হালাকু খান, চেঙ্গিস খান বা আফ্রিকার জঙ্গলের মানুষখেকোদের উত্তরাধিকার? হঠাৎ করে কী শুরু হলো দেশে? হঠাৎ শুরু হলো? নাকি অনেক দিন ধরেই চলে আসছিল? আর আমরা আমাদের চর্মচক্ষু দিয়ে তা উপেক্ষা করে এসেছি? শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ কিংবা চ্যালা, প্রবাসী কিংবা শ্রমিক, স্কুলমাস্টার কিংবা ক্রিকেটার সবাই এক কাতারে৷ মনুষ্যত্ব, মানবিকতা কিংবা ভালোবাসা – এই শব্দগুলো আজ বাংলাদেশে সমাহিত হয়ে গেছে৷ বাংলাদেশ যেন আজ শিশু নির্যাতনের গোরস্থান৷ ছি!!!! ঘেন্না করতেও ঘেন্না হয় আমার! শাহাদাত হোসেন রাজিব!!! আপনি না বাংলাদেশের হাজার লাখো শিশুর রোল মডেল? কত শিশুই না জানি বড় হয়ে আপনার মতো পেস বোলার হতে চেয়েছিল৷ একজন রোল মডেল হিসেবে চমৎকার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলেন ওদের সামনে৷ লজ্জা করে না আপনার পালিয়ে বেড়াতে?

হ্যাপি নামের যে বাচ্চাটার উপরে আপনি ও আপনার পরিবার নির্যাতন করতেন, তার পেটে আপনি লাথি মারতেন, তাই না? আসলে আপনি লাথি মেরেছেন বাংলাদেশের মানচিত্রে! আপনি লাথি মেরেছেন লাল-সবুজের পতাকায়৷ আপনি লাথি মেরেছেন কোটি শিশুর স্বপ্নে, যারা বড় হয়ে আপনার মতো হতে চাইত৷''

‘‘মনুষ্যত্ব, মানবিকতা কিংবা ভালোবাসা – এই শব্দগুলো আজ বাংলাদেশে সমাহিত হয়ে গেছে৷'' সুমনের এই মন্তব্যের সাথে একমত পাঠক জালাল বরুয়া যোগ করেছেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের মানবতা আজ ঘুমিয়ে আছে৷''

ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলার আসামি হওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে গৃহকর্মী নির্যাতনের ভয়াবহতা৷ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মানেই ‘বীর'৷ তাই বীরের ‘অপকর্ম' সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছেন না৷

এ সম্পর্কে ডয়চে ভেলের পুরনো বন্ধু অসিত কুমার দাস মিন্টু বলছেন, ‘‘গৃহকর্মী নির্যাতনের পলাতক ক্রিকেটারের শাস্তি হওয়া উচিত৷ যারা অসহায় গৃহকর্মীদের নির্যাতন করে তাদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হওয়া দরকার৷'' এসএম নাসির উদ্দিন, রুবেল হওলাদার, আনোয়ার হোসেন এবং জুনায়েদেরও একমত৷

এর উত্তরে কামাল হোসেন, ‘‘বাংলাদেশের আইন টাকার কাছে পাইকারি দরে বিক্রি হয়৷''

বাংলাদেশের আইন নিয়ে সন্দিহান অন্যদের মতো হাবিবুল্লাহ হাবীবও৷ বাংলাদেশের পুলিশের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘‘এদের কথা কি বলবো? শুনেছি আসামি না পেলে পুলিশ তার মা, বাবা, ভাইকে ধরে জিজ্ঞাসা করে, এর মা বাবা নাই, না জারজ?''

বন্ধু লিটন আহমেদ বলতে চাইছেন যে, ‘‘গৃহকর্মী নির্যাতনকারী আজ যদি জামাত শিবির বিএনপির কোনো লোক হতো, তাহলে পুলিশলীগ আসামি না পেলে তার মা-বোন-বাবা-ভাই কাউকে আটক করে নিয়া আসতো৷'' তাই লিটনের এখন প্রশ্ন, ‘‘শাহাদাত গ্রেপ্তার করতে এতদিন লাগে কেন?....পুলিশ মনে করে বাংলার জনগণ এখনও বোকা রয়েছে৷''

ইশতিয়াক হোসেন আর কী বলবেন? দেশে আইন-শৃঙ্খলা আর বিচার আচার কিছু নেই৷ কী আর বলবেন, তাই নিজের দেশকে ‘রহস্যময় দেশ' বলে মন্তব্য ইশতিয়াক হোসেনের৷

বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ঘরে শিশু নির্যাতন! বিষয়টি খুবই লজ্জাকর বলে মন্তব্য করেছেন ইকবাল আহমেদসহ অনেক পাঠক৷

শুকুমার সরকারের একটাই প্রশ্ন ‘‘এই নির্যাতনের শেষ কোথায়?''

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাঠক সজীব ইসলাম তো গৃহকর্মী না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন৷ অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন যে,‘‘ইউরোপ/অ্যামেরিকার লোকজন ফুলটাইম জব করেও নিজেদের কাজ (রান্না-বান্না, কাপড় কাঁচা, বাজার) করতে পারলে, আমরা বাংলাদেশিরা কেন পারবো না? সুযোগ আছে জন্যই কি গৃহকর্মী রাখছি আর ইচ্ছামত নির্যাতন করছি?''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন