1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিনালক্ষী নেপ্রাম

২০১০ সালের শন ম্যাক ব্রাইড শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন বিনালক্ষী নেপ্রাম৷ মনিপুর ওমেন গান সারভাইভার্স নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা তিনি৷ কাজ করছেন বিধবা মহিলাদের নিয়ে৷ গত মাসে নরওয়ের রাজধানী অসলোতো তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন৷

Binalakshmi, Nepram, SeanMacBride, Peace, Prize, শন ম্যাক ব্রাইড, শান্তি, পুরস্কার, বিনালক্ষী নেপ্রাম

বিনালক্ষী নেপ্রাম

বিনালক্ষী নেপ্রাম একজন লেখিকা৷ মনিপুরের বিভিন্ন জঙ্গি দলকে নিরস্ত্র করতে, মনিপুরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ২০০৪ সালে তিনি গড়ে তোলেন কন্ট্রোল আর্মস ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া৷ এরপর ২০০৭ সালে স্থাপন করেন মনিপুর ওমেন গান সারভাইভার্স নেটওয়ার্ক৷ এ কাজের জন্য তিনি ২০১০ সালে পেয়েছেন শন ম্যাক ব্রাইড শান্তি পুরস্কার৷ কে এই বিনালক্ষী নেপ্রাম?

ছোটবেলার আতঙ্কিত অভিজ্ঞতা

বিনালক্ষী নেপ্রামের জন্ম ১৯৭৪ সালে, ভারতের মনিপুরে৷ সাত ভাই-বোনের পরিবার৷ অনেক ছোট বেলা থেকেই কঠোর শাসনের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি৷ বিকেল চারটার মধ্যে প্রতিদিন বাড়ি ফিরে আসতে হত৷ কেন? তিনি বুঝতেন না৷ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকেন, একই সঙ্গে বাড়তে থাকে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলা আর উৎপাত৷ বাড়ির দুয়ার পেরিয়ে ঘরের ভেতর পর্যন্ত এসে পৌঁছেছিল সংঘাত৷ মাঝে মাঝে আধা-সামরিক বাহিনী এসে ঘড় বাড়ি তল্লাশি করতো৷ আসবাব পত্র উল্টে-পাল্টে দেখতো কোন অস্ত্র লুকানো আছে কিনা অথবা বাড়িতে কেউ গোপনে আশ্রয় নিয়েছে কিনা৷ এর পাশাপাশিও তিনি দেখেছেন জঙ্গিদের বাড়িতে আসতে৷ আশ্রয়ের জন্য, খাবার জন্য, রাত কাটানোর জন্য৷ কখনো কখনো অস্ত্র লুকিয়ে রাখার অনুরোধও আসতো৷ তখন থেকেই অস্ত্র-বিরোধ, সংঘাত আর সংঘর্ষ – গভীর দাগ কাটে বিনালক্ষীর জীবনে৷ খুব স্বাভাবিক জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে বড় হতে পারেননি বলেই তিনি অন্য শিশুদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ফিরিয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন৷

মনিপুরের মর্মস্পর্শী গল্প

মনিপুরের অস্ত্র সংঘাত নিয়ে শুরু করেন লেখালেখি৷ ভারতবাসীদের এ বিষয়ে জানানো জরুরি মনে করেন৷ এরপর ২০০৪ সালে তিনি স্থাপন করেন কন্ট্রোল আর্মস ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া৷ তবে মনিপুরের মহিলাদের নেওটওয়ার্ক তৈরির গল্পটি মর্মস্পর্শী৷ বিনালক্ষী জানান, ‘‘২০০৭ সালে কন্ট্রোল আর্মস ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে কাজ করার সময় মনিপুরের প্রত্যন্ত একটি গ্রামে আমি যাই৷ সেখানে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি খুব কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পাই৷ কিছুক্ষণ পর জানা যায় যে ২৭ বছরের একটি যুবককে তিনজন বন্দুকধারী গুলি করেছে৷ এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃতের বিধবা স্ত্রীকে জনসমক্ষে হাজির করা হয়৷ চিৎকার করে তাঁর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় – ক'জন ছিল, তারা দেখতে কেমন ছিল, কোন ধরণের পোশাক পরা ছিল, এসব৷ সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল – মেয়েটি স্বামী হারানোর বেদনা টের পাওয়ার আগেই সমাজের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়৷ মেরেটির মা চিৎকার করে বলছিল, ‘এই বিধবা মেয়েকে নিয়ে আমি এখন কী করবো ? ওরা তোকেও কেন গুলি করে মারলো না?' এ কথাগুলো শুনেই আমি সিদ্ধান্ত নেই, ‘না এসব মেয়েকে রক্ষা করতে আমাকে কিছু করতে হবে৷' তখনই আমি জানতে পারি, বুঝতে পারি যে এসব সশস্ত্র সংঘাতের কারণে যারা বৈধব্য বরণ করেছে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই৷ সে দিনই, সে রাত্রেই আমি একাই গঠন করি মনিপুর ওমেন গান সারভাইভার্স নেটওয়ার্ক৷''

অবৈধ অস্ত্র আসছে কোত্থেকে?

বিনালক্ষী ২০১০ সালের শন ম্যাক ব্রাইড শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যান নরওয়ের রাজধানী অসলোতে৷ এছাড়া তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০১ সালে৷ সেখানে তিনি মনিপুরের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন৷ পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, যেসব দেশ থেকে অস্ত্র মনিপুরে প্রবেশ করছে তার মধ্যে রয়েছে চীন, অ্যামেরিকা, পাকিস্তান এবং ইসরায়েল৷ বিনালক্ষীর ক্ষোভ, ‘‘মনিপুরে গত ৫ দশক ধরে ভারী এবং হালকা অস্ত্র নিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলছে৷ সেখানে প্রায় ৩৫টি বিভিন্ন সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন রয়েছে৷ এরা সবাই সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে৷ ১৯৪৯ সাল থেকে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল তা এখনো চলছে৷ আগে শুধুমাত্র দুটি সশস্ত্র জঙ্গি দল ছিল৷ ২০০০ এবং ২০০১ সালের মধ্যে অসংখ্য ছোট ছোট জঙ্গি গ্রুপ তৈরি হয়৷ অবৈধভাবে অসংখ্য বিদেশি অস্ত্র হু হু করে মনিপুরে আসতে থাকে৷ আমি নিজে গবেষণা করে দেখেছি পৃথিবীর ১৩টি দেশ থেকে এই অস্ত্রগুলো আসে৷ এর মধ্যে চীন, অ্যামেরিকা, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য৷ সংঘর্ষ এবং গোলাগুলিতে প্রতিদিন তিন থেকে চারজন মনিপুরি মারা যাচ্ছে৷ প্রতি বছর মারা যাচ্ছে সাড়ে পাঁচশো থেকে ছয়শো৷ জম্মু-কাশ্মীরেও বছরে এত মানুষ মারা যায় না৷ রাজনৈতিকভাবে এই সংঘাত-সংঘর্ষের কোন সুরাহা এখন পর্যন্ত হয়নি৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

ইন্টারনেট লিংক