1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

শান্তি প্রতিষ্ঠায় চাই নারী

শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিশনে সেনা এবং পুলিশ পাঠানো হয়৷ এ রকমই জাতিসংঘের ভিন্ন ভিন্ন শান্তি-মিশনে নারীদের পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে৷ তার কারণ, মেয়েরা নাকি সত্যিই খুব ভাল করছে সেখানে৷

default

জাতিসংঘ পাঁচ বছর মেয়াদী একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে৷ আর তা হলো, শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন মিশনে আরো বেশি করে নারীদের চাই৷ তবে তা অত্যন্ত ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে৷ পুলিশ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের৷ জানানো হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়েও সক্রিয় মহিলারা৷

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন ২০০৯ সালের অগাস্ট মাসে শুরু করেছেন পাঁচ বছর মেয়াদী প্রচারাভিযান৷ তিনি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে জতিসংঘের বিভিন্ন শান্তি মিশনে যত মানুষ কাজ করবে তার ২০ শতাংশ হতে হবে মহিলা৷ এবং ১০ শতাংশ হতে হবে সেনাবহিনীর অন্তর্ভুক্ত৷

বর্তমানে মাত্র ২.৩ শতাংশ মহিলাকে বিভিন্ন শান্তি মিশনে দেখা যাচ্ছে৷ সারা বিশ্বে কাজ করছে প্রায় ৮৯ হাজার মানুষ৷ মাত্র ২.৩ শতাংশ মহিলা জাতিসংঘের ১৭টি মিশনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে৷ জাতিসংঘের ১৩ হাজার পুলিশের মধ্যে ৮.২ শতাংশ হল মহিলা - গত এপ্রিলেও যা ছিল ৬.৫ শতাংশ৷ সেনাবহিনীতে রয়েছে ২.১৮ শতাংশ - তবে তা যথেষ্ট নয়৷ আরো নারী চাই৷ শান্তি প্রতিষ্ঠায় চাই আরো মহিলা৷

কিন্তু মহিলা কেন ? কোন ধরনের মিশনের জন্য মহিলার প্রয়োজন ? নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের শান্তি মিশনের মুখপাত্র ডগলাস কাউফমান জানালেন, আসলে ২০০০ সাল থেকেই জাতিসংঘ শান্তি মিশনের কাজে মহিলাদের খুঁজছে, তাদের সংখ্যা বাড়াতে চাইছে৷ নিরাপত্তা পরিষদে ১৩২৫ নামক একটি প্রস্তাবও এ বিষয়ে পাশ করা হয়েছে৷ সেখানে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে ‘যে কোনো ধরনের সংঘাতেই একজন মহিলাকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়৷ সে কারণে একজন মহিলাই সবার আগে এবং খুব সহজে আরেকজন মহিলার বেদনা বুঝবেন, সান্ত্বনা দিতে পারবেন৷' সারা বিশ্বে আমাদের বিভিন্ন শান্তি মিশনে এক লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষ কাজ করছে৷ এর মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ হলো মহিলা৷ ৬ শতাংশ পুলিশ বাহিনীতে এবং ৮ শতাংশ সেনাবাহিনীতে৷

Soldaten der UN-Mission MINUSTAH in Haiti Flash-Galerie

অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো পুরুষদের পক্ষে করা সম্ভব নয়৷ সেগুলো একজন মহিলা খুব সহজেই পারে৷ যেমন ক্যানাডা থেকে যে সব মহিলাকে আমরা হাইতিতে পাঠিয়েছি, তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে অন্যান্য মহিলা এবং শিশুদের রক্ষা করছে৷ সাহসের সঙ্গেই করছে৷ এরা জানে কখন, কোথায় একজন মহিলার ওপর আক্রমণ করা যেতে পারে৷ একজন মহিলার ভেতর যে ধরনের আতংক বা সচেতনতা কাজ করে একজন পুরুষের ভেতর তা কখনোই করে না৷

কোন কোন দেশ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহিলাদের নেওয়া হচ্ছে ? ডগলাস কাউফমান জানান, এ সপ্তাহেই আমরা বাংলাদেশ থেকে ১২৫ জন মহিলাকে বেছে নিয়েছি৷ তাদের পাঠানো হচ্ছে হাইতিতে৷ তাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে, অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে কি করতে হবে - তা তারা বেশ ভালো করেই জানে৷ জাতিসংঘের কাজ, প্রতিটি আগ্রহী দেশ থেকে বিভিন্ন মিশনের জন্য লোক বেছে নেওয়া৷ বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন শান্তি মিশনে সবচেয়ে বেশি সেনা এবং পুলিশ নেওয়া হয়েছে ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে৷ সারা বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে যত মহিলা কাজ করছে, তার এক তৃতীয়াংশই হচ্ছে এই তিনটি দেশ থেকে নেওয়া৷ এদের কাজ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট৷ এছাড়া ইউরোপ, অ্যামেরিকা, ক্যানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও অনেক মহিলাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে৷ তবে তারা মূলত সেনাবাহিনীতেই যোগ দিচ্ছে৷ অনেক জায়গায় দেখা যাবে পুরুষদের চেয়ে মহিলা কর্মীর সংখ্যা বেশি৷ পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে আরো মহিলার প্রয়োজন, আমাদের প্রয়োজন আরো অনেক নারীর যারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসবে৷

প্রতিবেদন : মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা : দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়