1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের দেশে মৌলবাদের ছায়া

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে একটি সংবাদ অনেককে মুহূর্তের জন্য থমকে দিয়েছিল, করেছিল হতবাক৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়ে থাকা অভিজিৎ রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে আৎকে উঠেছিলেন অনেকে৷

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, ব্লগার অভিজিৎ রায় তখন যে ঢাকা ছিলেন সেই খবরটা জানতো গুটিকয়েক মানুষ৷ ফেসবুকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশে যাননি৷ কারণ তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছিল৷ অতি আপনজনদের কেউ কেউ তাঁকে যেতে নিষেধও করেছিলেন৷ তবুও অমর একুশে গ্রন্থমেলার টানে সস্ত্রীক দেশে যান অভিজিৎ রায়৷

অভিজিৎ সম্ভবত বিশ্বাস করতেন, যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, ততদিন দেশটা মুক্তমনাদের জন্য নিরাপদ৷ মোটের উপর, তাঁর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়ের সঙ্গে হাসিনা পরিবারের একটা সম্পর্ক ছিল৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন অজয় রায়ের সরাসরি ছাত্র৷

পাশাপাশি পুলিশের তরফ থেকেও অভিজিতের বাবাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা হবে৷

তবে অভিজিতের বিশ্বাস, অবিশ্বাসে পরিণত হতে সময় লেগেছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড৷ বইমেলা থেকে ফেরার পথে মূল গেট পেরিয়ে মাত্র কয়েক মিটার এগোতে পেরেছিলেন তিনি৷ তারপরই ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বর সেই হত্যাকাণ্ড৷ দুই খুনির চাপাতির একের পর এক কোপে ধরাশায়ী হন অভিজিৎ রায়৷ গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী, ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যা৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতের ঘটনা সেটা৷ খুনের ধরন দেখে পরিষ্কার যে, খুনিরা অভিজিতের দেশে ফেরা থেকে শুরু করে তাঁর অবস্থান, গতিবিধি সব কিছু নিঁখুতভাবে জানতো৷ প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে জানতো?

অভিজিতের মৃত্যু মুক্তমনাদের অনেক হিসেব বদলে দিয়েছে৷ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই যে মুক্তমনারা নিরাপদ নন, সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে মুহূর্তের মধ্যে৷ হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা গভীর রাতে কথা বলেছেন অধ্যাপক অজয় রায়ের সঙ্গে, তবে সেটা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়৷ সেই কথোপকথন নিয়ে মুখ খোলা ছিল কার্যত বারণ৷ গণমাধ্যমে সে খবর প্রকাশ হয়নি, অতিকথনে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ নেতারা এই নিয়ে কোনো কথা বলেননি৷ কেন?

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বরং জানিয়েছেন, তাঁর দল ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী হলেও ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী নয়৷ বলেছেন, ইসলাম নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বললে তাঁর অনুভূতিতেও আঘাত লাগে৷

অথচ ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাই কিন্তু বেশ খানিকটা পথ পায়ে হেঁটে মৌলবাদীদের হামলায় গুরুতর আহত অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন৷ তখন তিনি ছিলেন বিরোধী দলের নেত্রী৷ আর আজ ক্ষমতায় থাকার পরও তিনি একইরকম হামলার শিকার মানুষদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান না, খুনিদের বিচারের আশ্বাস দেন না৷ প্রধানমন্ত্রীর ভয়টা কোথায়?

ব্লগার হত্যা নিয়ে সরকার প্রধানের দুর্বল অবস্থান মৌলবাদীদের উৎসাহ জুগিয়েছে কিনা বলা মুশকিল৷ কেউ কেউ অবশ্য তেমনটাই দাবি করেন৷ যেটা দেখা গেছে, সেটা হলো, অভিজিৎ হত্যাই শেষ হত্যায় পরিণত হয়নি৷ বরং নিয়মিত বিরতিতে একই বছর খুন হয়েছেন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাস, নিলয় নীল এবং প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন৷ গুরুতর আহত প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল জানে বেঁচে গেছেন৷ এছাড়া অন্তত ২০ জন ব্লগার, লেখক হত্যার হুমকি পেয়ে নির্বাসনে চলে গেছেন

মুক্তমনা, মানবতাবাদী ব্লগারদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে৷ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খুনের কারণ ব্যাখা করে ‘পোস্ট’ দিয়েছে৷ পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার কে বা কারা হতে পারেন, সে ইঙ্গিতও দিয়েছে৷ গোয়েন্দারা কখনো নামে, কখনো বেনামে জানিয়েছেন, যারা খুন করছে তারা নীচুস্তরের উগ্রপন্থি হলেও যারা খুনের পরিকল্পনা করছে, তথ্য সরবরাহ করছে তারা উচ্চশিক্ষিত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত৷ প্রশ্ন হচ্ছে, গোয়েন্দারা এ সব জানার পরও কেন পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? কারণটা কি রাজনৈতিক?

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, চার ব্লগার, এক প্রকাশককে খুন করে বাংলাদেশে চরম আতঙ্ক তৈরি করতে সফল হয়েছে ধর্মীয় মৌলবাদীরা৷ মুক্তবুদ্ধির চর্চার উপর এক চরম আঘাত এটা৷ অবস্থা এমন যে, এখন বইমেলা চালাতে হচ্ছে মৌলবাদীদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে, কোনো বই নিয়ে কোনো মহল থেকে আপত্তি উঠলেই তা বাতিল করতে হচ্ছে, যে প্রকাশনী ছাপাচ্ছে তার স্টল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে৷ পাছে উগ্রপন্থিরা খেপে গিয়ে কিছু করে বসে সেই ভয়ে৷

এই ভয় ভবিষ্যতে কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তা এক্ষুণি ধারণা করা কঠিন৷ তবে এতটুকু নিরাপদেই বলা যায়, এমন ভীতিকর পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ক্রমশ বাড়বে৷ আজকে যারা ব্লগার হত্যা করছে, কালকে হয়ত ওয়াহাবী মতবাদে রাষ্ট্র পরিচালনার আশায় আরো বড় কাউকে হত্যা করবে৷ আর এভাবে শান্তিপ্রিয়, ‘মডারেট’ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ পরিচিতি পাবে ধর্মীয় মৌলবাদীদের দখলে চলে যাওয়া এক জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে৷ আর সেটা কারো জন্যেই মঙ্গলজনক হবে না৷

বন্ধু, আপনি কি আরাফাতুল ইসলামের সঙ্গে একমত? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়