1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো গাজীপুরের নির্বাচন’

নানা জল্পনা কল্পনা আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন৷ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের দলীয় দুই প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় জমে ওঠে এই নির্বাচন৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন৷ ওই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আর প্রয়োজন নেই, এমন দাবি করে আসছিলেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা৷ তবে ওই চার সিটি কর্পোরেশনেই বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ায় দারুণ চাপে পড়েছে আওয়ামী লীগ৷ তাই দলের মধ্যে অনেকে বলেছেন, ‘‘চার সিটি নির্বাচনে সরকার জিতলেও হেরেছে আওয়ামী লীগ৷ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভয়াবহভাবে এর প্রভাব পড়বে৷''

এমন আলোচনার মধ্যে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন৷ বিশাল এলাকার এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘‘প্রথম পরীক্ষায় পাস করেছে সরকার৷ এখন আওয়ামী লীগ পাস না ফেল করে তা দেখার বিষয়৷ কারণ দলীয় প্রার্থী পাস না করলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে চাপে থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

Narayanganj City Corporation Wahlen Flash-Galerie

ফাইল ছবি

আর গাজীপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলে ঢাকা পড়ে যাবে চার সিটিতে পরাজয়ের সব গ্লানি৷'' শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার জন্য বিএনপির চলমান আন্দোলন প্রশ্নের মুখে পড়েছে৷ কারণ বর্তমান সরকারের অধীনেই যে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ৷

গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপির তত্ত্বাধায়কের দাবি ম্লান হয়ে গেছে৷ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রভাবশালী এই সদস্য বলেন, বিএনপির অফিস থেকে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে৷ ভোট কেন্দ্র ও বিএনপি অফিসের চিত্র ভিন্ন৷ বিএনপি প্রার্থী, দলের মহাসচিব ও জনগণের কথাও ভিন্ন৷ তিনি বলেন, ২৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে দুই একটি কেন্দ্রে টুকিটাকি কিছু গোলমাল তো হতেই পারে৷ তাদের উল্টা-পাল্টা বক্তব্যে মনে হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে হেরে গেছে৷ বিএনপিকে সুবিধাভোগী দল হিসেবে উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, তারা কখনো সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, আবার কখনো করে না৷

এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ফলাফল পাল্টানোর ‘নীল নকশা' চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি৷ ভোট গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিযোগ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ এর আগে দুপুরে কিছু অভিযোগের বিষয়ে জানাতে এম কে আনোয়ারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যায়৷ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সরকার গাজীপুর নির্বাচনে জনমতকে বদলিয়ে দেয়ার নীল নকশার ষড়যন্ত্র করছে৷ আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই নির্বাচনে কোনো কারচুপি হলে তার দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে৷'' গাজীপুর নির্বাচনে ফলাফল বদলের চেষ্টা হলে সরকারের ‘মৃত্যুঘণ্টা' বাজবে বলে হুঁশিয়ারি দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি সেখানে টেলিভিশন প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার দেখেছি, তাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানের বিজয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ আমরা আশাবাদী ন্যূনতম নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের প্রার্থী এক থেকে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন৷'' তবে ভোট গ্রহণ নিয়ে শক্ত কোনো অভিযোগ তাঁরা দাঁড় করাতে পারেনি৷ ফলে বিকেলে এসে বিএনপির দাবি ফল পাল্টানোর চেষ্টা চলছে৷

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা খান ভোটগ্রহণ শেষে বলেছেন, ‘‘জনগণের রায় আমি অবনত মস্তকে মেনে নেব৷'' তিনি বলেন, ‘‘উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷'' আর বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান ভোট গ্রহণ শেষে কিছু অভিযোগ করে বলেছেন, ‘‘সরকার-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন৷ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে৷ তারপরও ভোট যেভাবে হয়েছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়