1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

শহরে কাঠের বাড়ি, খরচও কম

কাঠের সঙ্গে কংক্রিট আর ইস্পাতে মিলে তৈরি হচ্ছে অভিনব এক বসতবাড়ি৷ শহরের মধ্যেও এমন বাড়ি তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ উপরি পাওনা – জ্বালানি সাশ্রয়৷

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের ঠিক মাঝখানে একটি সাততলা উঁচু কাঠের বাড়ি সবার নজর কাড়ছে৷ টম কাডেন অনেক কাঠের বাড়ি বানিয়েছেন বটে, কিন্তু এটা বানাতে তাঁকে বেশ মাথা ঘামাতে হয়েছে৷ কাঠ, কংক্রিট, ইস্পাত মিলিয়ে তৈরি এই আজব বাড়ি৷

জোড়া দেওয়ার সময় যাতে গোলমাল না হয়, সেজন্য কাঠের তক্তাগুলো মিলিমিটার মেপে কাটা হয়৷ তক্তাগুলো বেঁকলে চলবে না, সেজন্য তক্তার কাঠ পরতে পরতে আঠা দিয়ে লাগানো হয়৷

কাঠের বাড়িতে মাপজোকই আসল৷ ইস্পাত আর কাঠের অংশগুলো এক মিলিমিটারের দশভাগের তিন ভাগের মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে খাপ খাওয়া চাই৷ খাঁজে খাঁজে মেলা চাই৷ সে কাজটা সাইটে না করে, বাইরে করা হয়৷ তক্তাগুলো জুড়ে জুড়ে ছাদ আর দেওয়ালের পুরু পাতগুলো তৈরি হয়৷ কম্পিউটার দিয়ে চালানো যন্ত্র সেগুলোকে পেরেক দিয়ে জোড়া দেয়৷ তারপর বিশাল স্ক্রু ঢুকিয়ে আরো শক্ত করা হয়৷ প্রিফ্যাব ছাদ বা দেওয়ালগুলো এবার বাড়িতে লাগানো যেতে পারে৷

Holzhochhaus Architekt Tom Kaden

স্থপতি টম কাডেন

বাড়ি তৈরির এই পদ্ধতিটা নতুন হলেও, ইঁটপাথরের বাড়ির চেয়ে তা অনেক তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে: প্রতি সপ্তাহে এক তলা৷ বাড়ির ভেতরে মনোরম আবহাওয়া, হিটিং বেশি লাগে না, বাইরের আওয়াজ কম ঢোকে৷ কাঠের বাড়ির আসল সমস্যা হল আগুন লাগার বিপদ৷

স্থপতি টম কাডেন বললেন, ‘‘এই কাঠের বাড়ি বার্লিনে বাড়ি তৈরির নিয়মকানুনের আওতায় পড়ে না৷ কাজেই আমাদের দু'ধরনের অনুমতি নিতে হয়েছে: একবার কাঠের দেওয়ালগুলোর জন্য; আর একবার ছাদ আর মেঝেগুলোর জন্য – কেননা সেগুলো কাঠ, কংক্রিট আর ইস্পাত মিশিয়ে তৈরি৷''

এই মিশ্র নির্মাণ পদ্ধতির বাড়িতে কংক্রিটের পাত, ইস্পাতের ধাঁচা আর কাঠের দেওয়াল শত শত নাটবল্টু দিয়ে জোড়া দেওয়া হয়৷ অথচ গোটা কাঠামোটা এতোই পোক্ত যে, বড় বড় ঘরগুলোর জন্যেও কোনো আলাদা থামের দরকার পড়ে না৷

কংক্রিটের স্তরটা দশ সেন্টিমিটার পুরু হতে হবে৷ বাড়িটার স্থিতি আর অগ্নি নিরাপত্তা এই কংক্রিটের উপর নির্ভর, কাজেই সেই কংক্রিট অতি যত্নে ঢালা হয়৷

এগারো সপ্তাহের মধ্যেই বাড়ি তৈরির প্রথম পর্যায় শেষ৷ মডেলে লাল করে দেখানো সিঁড়িটা কংক্রিটের হবে, এবং অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে পালানোর পথ হিসেবে বাড়ির মূল ধাঁচাটা থেকে আলাদা রাখা হবে৷

বাড়ির ভেতরের খুঁটিনাটিও অত্যাধুনিক৷ ডিস্ট্রিক্ট হিটিং আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বাড়ি গরম রাখার খরচ বছরে মাত্র ৩০০ ইউরো রাখা হবে৷ সাধে কি এতো মানুষের এই কাঠের বাড়িতে আগ্রহ!

স্থপতি টম কাডেন বললেন, ‘‘কৌতূহলীর অভাব নেই৷ নিজের বাড়ি তৈরি করতে চান, এমন অনেকেই কাঠের বাড়ি চান, কিন্তু শহরের মধ্যেই৷ অনেকে আবার যৌথ মালিকানার ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরির কোঅপারেটিভ করে ইতিমধ্যেই জমি কিনে ফেলেছেন – এবং এখন কাঠের বাড়ি তৈরি করানোর কথা ভাবছেন৷''

গাছের মতো যা আকাশের দিকে বেড়ে চলে – কাঠের বাড়ির এই অভিনব প্রকল্পও হয়ত তাই৷

এসি/এসবি

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়