1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

শরণার্থী-তাঁবুর বিকল্প খুঁজছে জাতিসংঘ

এতদিন শরণার্থী শিবিরগুলো ছিল তাঁবুঘেরা একটা অঞ্চল৷ তবে এখন জাতিসংঘ ঐ তাঁবুর বিকল্প খুঁজছে৷ কারণ এই আশ্রয়গুলি খুব টেকসই নয়৷ তাই ইথিওপিয়াতে পরীক্ষা করা হচ্ছে, শরণার্থীদের জন্য ছোট ঘর স্থাপন করা যায় কিনা৷

প্রায় কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরগুলোর ছবিতে শুধুই সাদা ও জরাজীর্ণ তাঁবু দেখা গেছে৷ খুব বেশি হলে ছয় মাসের মতো টিকে থাকে এইগুলি৷ অবশ্য এটা নির্ভর করে বাতাসের তীব্রতা, রৌদ্রের প্রখরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রার ওপর৷ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর ইনোভেশন টিমের মুখপাত্র রোচো নুরি বলেন, ‘‘আসলে তাঁবুর ডিজাইন করা হয়েছিল জরুরি অবস্থার জন্য৷''

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা যায় না

এছাড়া তাঁবুর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা যায় না৷ নুরির ভাষায়, ‘‘রাতের অন্ধকারে পাশের তাঁবুতে আলো জ্বালানো থাকলে সেখানে মানুষের ছায়া দেখা যায়৷'' এই অবস্থা অনেকেই মেনে নিতে পারেন না৷ ডয়চে ভেলের সাথে সাক্ষাৎকারে নুরি জানান, ‘‘তাঁবুর আরেকটি সমস্যা এর তাপ পরিবহনের ক্ষমতা৷ গ্রীষ্মকালে এগুলো খুব গরম এবং শীতকালে খুব ঠান্ডা হয়ে যায়৷ ফলে এটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না৷'' অথচ এখন পরিস্থিতি এমন যে, শরণার্থীদের বছরের পর বছর ঐ শিবিরগুলিতেই দিন কাটাতে হচ্ছে৷

UNHCR Flüchtlingslager Zelte Äthiopien

প্রায় কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিসংঘের শরণার্থী শিবিরগুলোর ছবিতে শুধুই সাদা ও জরাজীর্ণ তাঁবু দেখা গেছে

তাই প্রায় তিন বছর ধরে টেকসই ছোট ছোট ঘর তৈরির প্রক্রিয়া শেষে এখন সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছে জাতিসংঘ৷ সুইডিশ সংস্থা ‘রিফিউজি হাউজিং ইউনিট'-এর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে৷ এতে অর্থ জোগান দিচ্ছে ‘ইকেয়া (বা আইকিয়া) ফাউন্ডেশন'৷ এ পর্যন্ত তারা এই খাতে প্রায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে৷ অবশ্য এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই৷ কারণ আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত সুইডিশ এই ফার্নিচার কোম্পানির তৈরি শেল্ভ এবং আলমারির নির্মাণকৌশলে, অর্থাৎ অনেকটা ‘লেগো'-র মতো করে এই ঘরগুলোকে দাঁড় করানো হচ্ছে৷

যেখানে সোমালীয় শরণার্থীরা বাস করেন

জুন মাসের শেষের দিকে ইউএনএইচসিআর ইথিওপিয়ার দক্ষিণের ডোলো আডো অঞ্চলে প্রায় ১০০ কেজি ওজনের এরকম অনেকগুলো ঘর নির্মাণ ইউনিট পাঠিয়েছে৷ সেখানে মূলত প্রতিবেশী দেশ সোমালিয়ার শরণার্থীরা বাস করেন৷ তাঁদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার৷

যে প্যাকেটগুলিতে ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলো থাকে, তার একটা বহন করতে দু'জন শক্ত-সামর্থ্য মানুষের প্রয়োজন৷ এই প্যাকেটে থাকে হাল্কা ও নমনীয় প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ঘরের দেয়ালের জন্য আলাদা আলাদা কয়েকটি পাত৷ অন্য একটি ব্যাগে থাকে এসব দেয়ালের পাত সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ধাতব আংটা, তার এবং কানেক্টর৷ বলা বাহুল্য, ইকেয়া-র অন্যান্য সাধারণ সব আসবাবের মতো এই সব ঘর তৈরি করতে কোনো যন্ত্রপাতির দরকার হয় না৷ তাই এগুলি তৈরি করা খুবই সহজ৷

বিদেশি ত্রাণ, বিদেশি ধারণা

এই ঘরের প্রকল্পের প্রশংসা করে ডির্ক ডোনাথ বলেন, ঘরগুলো অবশ্যই তাঁবুর চেয়ে বেশি মজবুত হবে৷ তবে ভাইমারের বাউহাউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের এই অধ্যাপক এটিকে কৃত্রিম ও চাপিয়ে দেওয়া সমাধান বলে মন্তব্য করেন৷ ডিডাব্লিউ-এর সাথে সাক্ষাৎকারে ডোনাথ বলেন, ‘‘ধাতব কাঠামোর এই সব ঘর তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকজন এবং অঞ্চলের কোনো সম্পৃক্তি নেই৷ তাই এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হবে৷''

IKEA Foundation Flüchtlingsunterkunft

তাই প্রায় তিন বছর ধরে টেকসই ছোট ছোট ঘর তৈরির প্রক্রিয়া শেষে এখন সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছে জাতিসংঘ

বিকল্প এই ব্যবস্থার সমস্যা

এই বিকল্প ব্যবস্থা এখনই কার্যকর করা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ তার অবশ্য কিছু কারণও রয়েছে৷ অধ্যাপক ডোনাথ মনে করেন, ইথিওপিয়ানদের বাড়ি-ঘর নির্মিত হয় যেসব উপকরণ দিয়ে, তেমনটাই চান শরণার্থীরা৷ ঐতিহ্যগতভাবে সেখানে বাড়ি-ঘর তৈরি করা হয় বাঁশ, কাদা এবং সিমেন্ট দিয়ে৷ অথচ শরণার্থীদের জন্য এই বিকল্প ঘর তৈরিতে ব্যবহার করা হবে গ্লাস, প্লাস্টিক ও ধাতব উপকরণ৷ এছাড়া দু'বার ডোলো আডো ঘুরে ডোনাথের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে তিনি মনে করেন, সেখানকার শরণার্থীদের সবাই এই ঘর তৈরির কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুতও নয়৷ অনেকে চান, এই কাজের জন্য দৈনিক ভাতা আরও বাড়ানো হোক৷

তিন বছর টিকে থাকবে

এই সব ঘর অন্তত বছর তিনেক টিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এছাড়া ঘরের ছাদে রাখা সোলার সেল থেকে একটি বাতি ও অন্য একটি যন্ত্র চালানোর জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে৷ তার ওপর এই ঘরগুলোতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা যাবে৷ বাঁচা যাবে খারাপ আবহাওয়ার হাত থেকেও৷ আর একটা সুবিধা হলো, তাঁবুর চেয়ে সহজে মেরামত করা ও বাড়ানো যাবে ঘরগুলোকে৷

ইউএনএইচসিআর-এর রোচো নুরি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘এই ঘরগুলোর ব্যাপারে প্রচণ্ড অনীহা দেখা দিলে এগুলোর আরও উন্নয়ন করা হবে কিংবা অন্য কোনো সমাধান খোঁজা হবে৷'' তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই আবাসন ব্যবস্থা সাদরে গৃহীত হবে৷ তাছাড়া এক সময় এই সব ঘর তৈরির খরচ কমে আসবে৷ একটা ঘরের জন্য ব্যয় হবে আনুমানিক ১০০০ ইউরো, যা তাঁবু তৈরির খরচের চেয়ে আদতেই কম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন