1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শরণার্থীদের নিয়ে গুজব অসত্য প্রমাণ করছে ‘হোক্সম্যাপ'

২০১৫ সালে জার্মানিতে ১০ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী এসেছে৷ শুরুতে শরণার্থীদের আগমনকে স্বাগত জানানো হলেও কয়েকটি ঘটনায় তাদের সম্পর্কে অনেক জার্মানের মনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে৷

সবশেষে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের সময় কোলন শহরে নারীদের উপর যৌন হয়রানির ঘটনায় খবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে৷

এমন অবস্থায় শরণার্থীদের নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়ছে৷ তাদেরকে অনেক অপরাধের সঙ্গে জড়িত করার চেষ্টা চলছে৷ আর সেগুলো বিশ্বাসও করছেন অনেক জার্মান৷

পরিস্থিতির উন্নয়নে দুই জার্মান কারোলিন শোয়ার্ৎস ও লুটৎস হেল্ম মিলে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন৷ সেখানে ঢুকে জার্মানির মানচিত্রে চিহ্নিত করে দেয়া কোনো এক অংশে ক্লিক করলে ‘আসল' ঘটনা জানা যাবে৷ ধরা যাক, কেউ বার্লিনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান৷ তাহলে তিনি মানচিত্রে বার্লিন ‘সিলেক্ট' করলে তার সামনে কতগুলো লিংক ভেসে উঠবে৷ এগুলো স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের লিংক৷ সেটা পড়ে পাঠক কোনো একটি ঘটনার আসল পরিস্থিতিটা জানতে পারবেন৷ বুঝতে পারবেন যে, তিনি অন্যের কাছ থেকে এতদিন যা শুনেছেন সেটা ঠিক ছিল, সেটা ছিল আসলে একটা গুজব৷

এবার একটি উদাহরণ দেয়া যাক৷ গত অক্টোবরে জার্মানির একটি সুপারমার্কেট সাময়িক বন্ধের কারণ হিসাবে গুজব রটানো হয় এই বলে যে, সেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের চুরি বেড়ে যাওয়ায় মার্কেট কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সেটা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন৷ কিন্তু বিষয়টি আসলে সেরকম ছিল না৷ হোক্সম্যাপ-এর ওয়েবসাইটে গেলে আসল ঘটনা জানা যাবে৷

ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে৷ এরপর থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানান শোয়ার্ৎস৷ তিনি বলেন, ‘‘অনেক ব্যক্তি ও সংগঠন তাদের কাছে থাকা তথ্য আমাদের দিচ্ছেন৷''

শুধুমাত্র স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও কখনও কখনও পুলিশের বিবৃতি প্রকাশ করে গুজব অসত্য প্রমাণ করা হচ্ছে৷ শোয়ার্ৎস স্বীকার করেন প্রকাশিত খবরগুলো সত্য কি না তা যাচাই করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়৷ কারণ তারা দু'জনেই চাকরি করেন৷

টুইটারেও প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা চলছে৷ একজন অবশ্য এর সমালোচনা করেছেন৷ তিনি শরণার্থীদের নিয়ে সত্য ঘটনাগুলোও উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছেন৷ শরণার্থীরা আসলেই যেসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সেগুলো সবুজ রং দিয়ে আর শরণার্থীদের নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন৷ তবে শোয়ার্ৎস এই পরামর্শ গ্রহণের পক্ষে নন৷ তিনি বলেন, এমনটা করলে আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে৷

গুজব অসত্য প্রমাণের এমন ওয়েবসাইট ফ্রান্স কিংবা অস্ট্রিয়াতেও আছে৷ তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়ে ছড়ানো গুজব নিয়ে ওয়েবসাইট জার্মানিতে এই প্রথম৷ নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বলতে শরণার্থী ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (যেমন যাদের ‘নর্থ আফ্রিকান', ‘সাউদার্ন লুকিং', ‘ডার্ক স্কিন্ড' – এ সব নামে ডাকা হয়) লোকজন আছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানান শোয়ার্ৎস৷

জার্মানির শরণার্থী নীতি কী হতে পারে ভবিষ্যতে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়